অল্প বয়সে চুল পাকা রোধে যে বিষয়গুলো মেনে চলবেন

ripe-hair

মেলানিন নামক এক উপাদান চুলের রঙ নির্ধারণ করে , এর উৎপন্নের পরিমাণ কমে গেলেই চুল সাদা হওয়া শুরু করে মানে চুল তার পিগমেনটেসন হারায়।

আর একবার পাকা শুরু করলে এর পরিমাণ যেন দিন দিন বাড়তেই থাকে। চুল সাদা হলে বয়সের ছাপটা যেন একটু বেশি বোঝা যায়। সেইসঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্ব খানিকটা ম্লান হয়ে পড়ে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পাকলে তেমন সমস্যা না হলেও অল্প বয়সে চুল পাকলে জ্বালার শেষ থাকেনা। অল্প বয়সে চুল পাকার পেছনে অনেক কারন থাকে।

যেমন, ধূমপান করা, ঘুম কম হওয়া, নিম্ন মানের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, অত্যাধিক পরিমাণে চুলে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, চুলের নিয়মিত যত্ন না নেয়া, অতিরিক্ত চা কিংবা কফি খাওয়া, বংশগত বা হরমোনের কারণে, অতিরিক্ত চিন্তা করা ইত্যাদি।

আসুন জেনে নেই কি করে আপনার অকাল চুলের পেকে যাওয়া রোধ করা যায়ঃ

যদি চুলের অকাল পক্কতা রোধ করতে চান তাহলে ধূমপানকে চিরদিনের মতো না বলুন। বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত হয়েছে যে ধূমপান অকাল চুল পক্কতার অন্যতম কারন।

আপনার কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার অন্যতম কারন হল দুশ্চিন্তা করা। হাসি খুশিতে জীবনটা ভরিয়ে তুলুন।

দিনে কয়েকবার লম্বা শ্বাস নিন আর ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে সুস্থ থাকার পাশাপাশি আপনার অকাল চুল পাকার সমস্যা দূর হবে।


আরো পড়ুন– যদি পেতে চান ঝলমলে ও আকর্ষণীয় চুল


বেশি বেশি পানি পান করুন ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহলের পরিমাণ কমিয়ে। মশলাদার আর ভাজাভুজি জাতীয় খাবার-ও এড়িয়ে চলুন, যেহেতু এই খাবার গুলো শরীরকে শুষ্ক করে তোলে।

আদ্রতার অভাবে পুষ্টিকর উপাদান চুলের ফলিকলে পৌঁছাতে পারেনা, ফলস্রুতিতে পাকা চুলের আনাগোনা দেখা যায়।

আয়োডিন এক প্রকারের মিনারেল যেটা চুলের কালার ঠিক রাখে। কলা, গাজর এবং পালং শাক এর মত আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন। মেলানিন উৎপন্নের জন্য প্রোটিনের অবদান অনস্বীকার্য।

তাই শুধু কার্বোহাইড্রেট নয় প্রোটিনের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলুন। যদি আপনি রুটি খান তবে তার সাথে একটি ডিম খেয়ে কার্বোহাইড্রেড আর প্রোটিনের মধে সমন্বয় ঘটিয়ে নিন।

চুল সাদা হওয়ার শুরুতে হেনা, ডিমের কুসুম ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগালে চুল সাদা হওয়া কমে যাবে। হেনা ব্যবহারে শুধু চুল সাদা হওয়া থেকে রক্ষা করবে না সেই সঙ্গে সাদা চুলে কালো রঙে ফিরে আসবে।


আরো পড়ুনসুস্থ ও ঝলমলে চুল পেতে দইয়ের ৩ টি ব্যবহার


চুলে খুশুকি হলে শুরুতেই সাবধান হতে হবে। অতিরিক্ত খুশকির কারণে চুল সাদা হয়ে যায়। চুলে যেন সরাসরি রোদ না লাগে সেজন্য বাইরে বের হলে ছাতা, ক্যাপ অথবা ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে রাখা জরুরি।

নারিকেল তেল গরম করে মাথার তালুতে ভালো করে ম্যাসেজ করলে চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে চুল সাদা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

চুলের নিজস্ব রঙ ধরে রাখতে মাঝে মাঝে চায়ের ঘন লিকার ব্যবহার করতে পারেন।

পর্যাপ্ত ঘুম চনমনে, ফুরফুরে শরীরের জন্য ওষুধের মত কাজ করে। আমার কথাটা মেনেই দেখুন আপনার সব স্ট্রেস গায়েব হয়ে যাবে। আর আগেই বলেছি স্ট্রেস ফ্রি লাইফ মানেই পাকা চুলের উঁকি ঝুকিও গায়েব।


আরো পড়ুননিষ্প্রাণ চুলের জন্য ঘরোয়া হেয়ার প্যাক


আপনার চুলের অকাল পক্কতা রোধে উপরের কাজগুলো নিয়ম অনুযায়ী করুন আশা করা যায় আপনার এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আর যাদের চুল অলরেডি পাকা শুরু হয়েছে তারা ঝিঙা নারকেল তেলের সাথে ফুটিয়ে চুলে লাগাতে পারেন, এতে আপনার পাকা চুল রোধ হবে।


সোর্সঃ http://www.searchhomeremedy.com/best-home-remedies-for-white-hair/


http://www.rapidhomeremedies.com/top-home-remedies-to-prevent-premature-graying-of-hair.html


সম্পর্কিত পোস্ট: