যখন আপনার পরিচয় একজন সৎ মা বা সৎ বাবা

step-father-&-mother

“সৎ মা বা সৎ বাবা” এই শব্দগুলো শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভীষণ নিষ্ঠুর আর বদরাগী ধরণের কেউ।

দোষটা আপনার বা আমার নয়, ছোট বেলা থেকেই আমাদের মাথায় এটাই ঢোকানো হয় যে সৎ বাবা মা যেটাই হোকনা কেন সে কখনোই ভালো হতে পারেনা।

কিন্তু একটু ভালো করে ভেবে দেখুন তো যারা সৎ বাবা বা মা হয় তারা কি আমাদের মতোই স্বাভাবিক মানুষ নাকি আমাদের থেকে আলাদা কোন প্রজাতি?

জীবনের কোন একটা অংশে এসে আমাদের হয়তো এমন অবস্থার সম্মুখীন হতেই পারে যখন আমাদের পরিচয় হয়ে উঠতে পারে একজন সৎ মা বা সৎ বাবা।

সেখানে আপনার কি করণীয় হতে পারে একজন সৎ মা বা সৎ বাবা হিসেবে?

আসুন জেনে নেই একজন সৎ বাবা মা হিসেবে আপনার সন্তানদের লালন পালনে কি হবে করণীয় পরামর্শ:

খুব বেশী আশা রাখবেন না

একজন সৎ বাবা বা মা হিসেবে কখনোই সন্তানদের কাছে থেকে বেশী বেশী কোন কিছুই আশা করবেন না। বরং আপনি সব সময় চেষ্টা করবেন কম কিছুর আশা নিয়ে সন্তানের জন্য বেশী কিছু করার।

স্বাভাবিকভাবেই সন্তানরা আপনার সাথে দূরত্ব রেখে চলতে চাইবে আর আপনার কাজ হবে সেই দূরত্ব ঘোচানোর তবে অবশ্যই সেটা ভালোবাসা আর আদর স্নেহ দিয়ে।


আরো পড়ুনবাবা মা হিসেবে যে ভুলগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন


শ্রদ্ধা বা সন্মানের জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন না

শ্রদ্ধা আর সম্মান জিনিসগুলো এমন আপনি জোর করে আদায় করতে পারবেন না কখনো। এগুলো অর্জন করতে হয়।

আপনাকেও এই নীতি অনুসরণ করতে হবে। সম্মান আর শ্রদ্ধা আদায় করার চেয়ে অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

মনে রাখবেন আদায় করা সম্মান যেমন খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাই ঠিক একই রকমভাবে ওজন করা সম্মান আর শ্রদ্ধা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বাচ্চাদের কোন কিছু করতে বাধ্য করবেন না

একজন সৎ বাবা বা মা হিসেবে আপনি সব সময় যে বিষয়টির উপর নজর রাখবেন তা হল আপনার জন্য তাদের কোন কিছু করতে যেন বাধ্য না হতে হয়।

আপনার এই তাদের কিছু করতে বাধ্য করার অভ্যাস তাদের থেকে আপনাকে দিন দিন আরও সরিয়ে নিয়ে আসবে আর প্রতিনিয়ত আপনার আর বাচ্চাদের মাঝে একটা বাধার দেওয়ালের সৃষ্টি হবে।

আপনি তাদের উপর সব কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং বুঝিয়ে বলুন দেখবেন এতেই কাজ হবে।

বাচ্চাদের কাজের ইতিবাচক মূল্যায়ন করুন

সম্পর্ক সহজ আর সুন্দর করতে একজন সৎ বাবা বা মার অবস্থান থেকে যতোটা পারা যাই বাচ্চাদের কাজের ইতিবাচক মূল্যায়ন করুন।

প্রশংসা ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই আপনার এই ইতিবাচক কাজের মূল্যায়ন আপনার আর বাচ্চাদের মধ্যে একটা সেতু বন্ধন গড়ে তুলবে যা সম্পর্কের যোগসূত্রকারী হিসেবে কাজ করবে।


আরো পড়ুনবাবা-মার কাছ থেকে সমালোচনাকে নিন ইতিবাচকভাবে


সন্তানদের সাথে সময় কাটান

যতোটা পারেন সন্তানদের সাথে সময় কাটাতে চেষ্টা করুন। যখনই আপনি ওদের সাথে সময় কাটাবেন আপনি ওদের সম্পর্কে বেশী বেশী জানতে পারবেন বুঝতে পারবেন। যা পরবর্তীতে আপনার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

একটা সময় দেখবেন আপনি আর আপনার সন্তানেরা কেমন মিলেমিশে যাচ্ছেন আর সম্পর্ক আরও মধুর হয়ে উঠছে।

সন্তানদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সুবিধা করে দিন। যখনই বাচ্চারা আপনার কাছে নিরাপদ আর স্বস্তি খুঁজে পাবে আপনাকে এমনিতেই আপন করে নেবে।


সম্পর্কিত পোস্ট: