বিয়েটা যখন প্রেমের, মাথায় রাখবেন যে বিষয়গুলো

wedding

প্রেমের বিয়ে এটা শুনলেই বেশীরভাগ মানুষ নাক সিটকে যে মন্তব্য সবার আগে করে থাকেন সেটা হল বিয়ে টিকবে না।

অন্যরা এই মন্তব্য করার সুযোগ পায় কারণ আমরা আমাদের প্রেমের বিয়ের স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারিনা।

আর এসবের পিছনের অন্যতম দায়ী কারণটি হল বিয়ের পর আমরা ভাবতে শুরু করি ভালোবাসার মানুষটি বদলে গিয়েছে। আগের মতো ভালোবাসা আর আবেগ কোনটাই অবশিষ্ট নেই।

থামুন, এই ধরণের চিন্তা ভাবনা মনে আনার আগে ভেবে দেখুন বিয়ে আর প্রেম এই দুটো ব্যাপারের মধ্যে সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য কতটুকু।

যদি আপনাদের ইচ্ছে থাকে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কটাকে বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যাবেন তাহলে অবশ্যই বিয়ের আগে নিজেরা নিজেদের সাথে কিছু ব্যাপার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে নিতে ভুলবেন না।

আপনার সে সামান্য কাজটুকু আগামীতে দুজনের জন্য সুন্দর আর সুখী দাম্পত্য জীবনের নিশ্চয়তা বিধান করবে।


আরো পড়ুন– নতুন সম্পর্কের শুরুতেই যে কাজগুলো সম্পর্ককে করবে দীর্ঘস্থায়ী


*প্রেমের বিয়ের পরবর্তীতে যে বিষয়টি আপনাদের সবচেয়ে ভোগাবে তা হল অর্থনৈতিক ব্যাপার। প্রেমের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যাপারটা গৌন মনে হলেও বিয়ের পর দেখা যাবে এটাই অন্যতম মুখ্য ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।

তাই যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন প্রেমের সম্পর্কের শেষ পরিণতি বিয়ে তাহলে দুজন খোলামেলা ভাবে  দিক নিয়ে আলোচনা করে নিন।

না হলে দেখা গেলো সেই বিখ্যাত উক্তি “অভাব আসলে  ভালোবাসা জানলা দিয়ে পালায়” এটা আপনার জীবনে সত্য হিসেবে ফলেও যেতে পারে।

*ভালোবাসা বা প্রেমের মধ্যে বাস্তবের থেকে কল্পনা বেশী প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

তাই দেখা যায় যে অনেক বড় বিষয়গুলো প্রেমের ক্ষেত্রে ছাড় পেয়ে গেলেও বিবাহিত জীবনে সামান্য ছোটখাটো কোন ব্যাপার নিয়েও ঝামেলা সৃষ্টি হচ্ছে।

তাই মানুষ ভালোবাসাকে যদি বিয়েতে রূপান্তর করতে চান তাহলে সবার আগে নিজেদের শারীরিক যেকোন ধরণের অসুস্থতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে নিজেরা কথা বলে নিন।

যাতে পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝির কোন সুযোগ সৃষ্টি না হয়।


আরো পড়ুনযেসব কারণে বিয়ের আগে সঙ্গীর রক্তের গ্রুপ অবশ্যই জেনে নেবেন


*নিজের পরিবার সম্পর্কে আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ একটা ধারণা দিন। যদি সম্ভব হয় পরিবারের কিছু সদস্যদের সাথে তাকে আলাপ করিয়ে দিতে পারেন।

এতে করে সে আগে থেকে অবহিত থাকবে আপনার পরিবার ও পরিবাবের সদস্য সম্পর্কে। নতু করে বিয়ের পর ফ্যামিলি বা ফ্যামিলির লোকদের নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না এতে।

*যখনই দুজনেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিয়ের আগে ভাগে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সেরে ফেলুন।

বিয়ের পর দুজনই অনেক নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন, তাই সেই সব অভিজ্ঞতার চাপে পড়ে দেখা গেলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতে আপনাদের সময় দেওয়া হয়ে উঠছে না।

তাই যদি আগে থেকেই আপনার পরিকল্পনা সম্পর্কে দুজনের সুন্দর ধারণা থাকে তাহলে সংসারে অশান্তি বা ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

*সংসারে কে কতটুকু দায় দায়িত্ব পালন করবেন সেটাও আগে থেকে বুঝে নিন দুজনই। বিয়ের পরর ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার চেয়ে ভালো আগে থেকেই নিজের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা সেরে রাখা।


আরো পড়ুন– আপনার ভালোবাসার মানুষটির খারাপ সময়ে তাকে সাহস যোগাতে যা করবেন


এতে করে বিয়ের পর এক অন্যকে অভিযোগ করার প্রয়োজন পড়বে না।

প্রেমের বিয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হল দুজন মানুষ আগে থেকেই দুজনের ভালোলাগা খারাপ লাগা এবং রুচিবোধ সম্পর্কে অনেকটা ধারণা রাখে।

যার ফলে এক অন্যর যেকোন সমস্যা সমাধান করতে বেগ পেতে হয়না। আর যেটুকু মনোমালিন্য থেকেই যায় সেটা সব সম্পর্কের মধ্যেই হয়, শুধু আপনাকে একটু সহ্য শক্তি বাড়াতে হবে আর কিছুনা।


সম্পর্কিত পোস্ট: