স্বার্থপরতা মানেই কি কেবল সবটা নেতিবাচক দিক?

selfish

ভেবে দেখুন তো পৃথিবীতে স্বার্থপর নয় কে?

স্বার্থপরতা মানে যদি আপনার কাছে কেবল খারাপ, মন্দ আর নেতিবাচকতার অর্থ বহন করে তাহলে আপনার এই ধারণা বদলান। অন্যর কোন ক্ষতি না চেয়ে বা করে নিজের ভালো চাওয়াটা স্বার্থপরতা নয়।

আর যদি এটাকে স্বার্থপরতার কাতারে নিয়ে আসাও হয় তাহলে বলবো আমাদের সবার এই স্বার্থপরতার চর্চা করা দরকার।

যতক্ষণ আপনি নিজে ভালো না থাকতে পারছেন ততক্ষণ অন্য কারও ভালো কামনা করা আপনার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই ক্ষেত্র বিশেষে স্বার্থপরতা করতে শেখাটা খুব জরুরী।

এই লিখাটিতে আপনাদের সামনে এমন কিছু বিষয় আনতে চেষ্টা করবে যেটা দেখে হয়তো আপনি নিজেও উপলব্ধি করতে পারবেন স্বার্থপরতা মানেই সবটা নেতিবাচকতা নয়।


আরো পড়ুন– নিজে মানসিকভাবে আরও বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠতে


নিজের জন্য স্বার্থপর হয়ে ওঠাটা কোন নেতিবাচক দিক নয়।

যখনই আপনি নিজের ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠতে শিখবেন বা নিজেকে ভালো রাখতে খানিকটা স্বার্থপরতা দেখাবেন স্বাভাবিকভাবেই আপনি আরও বেশী মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবেন।

যার প্রভাবে আপনি আপনার চারপাশের যেকোন খারাপ পরিস্থিতি খুব শান্ত ও দৃঢ়তার সাথে সামাল দিতে পারবেন।


আরো পড়ুনযে ৫ টি কাজ মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষেরা কখনোই করা না


আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে আপনার এই দৃঢ়টার সুফল আপনার পরিবার ও চারপাশের প্রতিটা মানুষ ভোগ করবে। এবারও আপনার মনে হবে স্বার্থপরটা মানেই নেতিবাচকতা?

নিজের ব্যক্তিত্ব সুগঠিত করতে

একটু স্বার্থপরতা আপনার ব্যক্তিত্ব সুগঠিত করতে পরোক্ষ অবদান রাখবে।

যখনই আপনি নিজের ব্যাপারে একটু বেশী যত্নশীল  বা স্বার্থপর যেটাই বলুন হতে শিখবেন আপনার কাছে ছোটখাটো আবেগ বা অনুভূতি কিঞ্চিৎ কম মূল্যায়ন পেয়ে থাকবে।

আর জানেন তো বেশী আবেগ প্রশ্রয় দেওয়া কখনো ভালো কোন কাজ হতে পারেনা। বরং আবেগ বা অধিক সংবেদনশীলতা আমাদের জীবনের প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

তাই আপনি যখন এসব ব্যাপারে স্বার্থপরতা দেখাতে পারবেন এতে আপনার ব্যক্তিত্ব আরও সুগঠিত হবে।

সত্যি তো এটাই যে আমরা কম বেশী সবাই ব্যক্তিত্ববান মানুষ পছন্দ করি। এবার কি মনে হবে স্বার্থপরতা মানে শুধুই খারাপ দিক?


আরো পড়ুন– আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে চান?


নিজেকে আরও বেশী কর্মক্ষম করতে

স্বার্থপরতা আপনাকে বাধ্য করবে নিজের প্রতি খেয়াল করতে, নিজের প্রতি যত্নবান হতে। বিশ্বাস করুন আপনার স্বার্থপরতা আপনাকে পরিণত করবে একজন সম্পূর্ণ কর্মক্ষম মানুষে।

কারণ আপনার নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রভাবে আপনার শরীর মন দুটিই ভীষণ রকমভাবে উন্নত হয়ে উঠতে বাধ্য।

যার ফলে আপনি সহজেই যেকোন ধরণের প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন। আপনার কর্মক্ষম মন ও শরীর আপনাকে কখনোই ক্লান্তির কাছে মাথা নোয়াতে দেবেনা।

আর এই অদম্য কর্মক্ষমতা আপনাকে জীবনে সাফল্য বয়ে আনতে প্রত্যক্ষ সাহায্য করবে। এবার বলুন তো স্বার্থপরতা মানেই  কি কেবল মন্দ বা দোষনীয়।

নেতৃত্বদানের ক্ষমতা বাড়াতে

আপনি একটু লক্ষ্য করলেই এমন অনেক উদাহরণ দেখতে পাবেন যেখানে কিঞ্চিৎ স্বার্থপর মানুষগুলো নিজেকে প্রধান হিসেবে পরিচালনা করে অন্যদের নেতৃত্ব দান করছেন।

এখানে স্বার্থপরতা মানে কিন্তু নেতিবাচকতা নয়, উল্টো স্বার্থপরতা মানে নিজেকে আরও একটু সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নিজের জন্য নিজের তরফ থেকে করা সামান্য প্রচেষ্টা।

যেখানে আপনি জানেন যে আপনি ভালো নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা রাখেন তাহলে যদি সেই নেতৃত্ব লাভের জন্য একটু স্বার্থপর হতে হয়  তাহলে অবশ্যই সেটা মন্দ কিছু হতে পারেনা।

সব সময় স্বার্থপরতা যে দোষের কিছু নয় সেটা মনে এবার আপনাদের মানতে খুব বেশী সমস্যা হওয়ার কথা না। জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চাইলে মাঝে মধ্যে নিজেকে নিয়ে ভাবতে শেখাটাও জরুরী।


সম্পর্কিত পোস্ট: