যেভাবে সাজাবেন অফিসের প্রতি সপ্তাহের কাজগুলো

paperless-office-1ছোট বা বড় যেমন কাজই হোক, সবাই চায় তার কাজে উন্নতি করতে, উচ্চপদের অধিকারী হতে। কিন্তু প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রমের পরেও অনেক সময় দেখা যায় নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি অফিসে থাকতে হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যাচ্ছে না কাজগুলো। ফলাফল, পদোন্নতিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া অথবা উচ্চপদস্থদের বিরক্তি। এই ব্যাপারগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেন খুব সহজেই, প্রতি সপ্তাহের কাজগুলো সপ্তাহের প্রথমদিনেই সাজিয়ে নিয়ে।

১.সারা সপ্তাহে কি কি কাজ করবেন তা সাজিয়ে নিন সপ্তাহের শুরুতেই।আমাদের দেশে সাধারণত শুক্র এবং শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে।এই দুই দিনের কোন একদিনকে বেছে নিন অথবা অফিসে গিয়ে ২-৩ ঘণ্টা সময় আলাদা করা নিন কাজগুলো সাজানোর জন্য।

২. যেসব কাজ এই সপ্তাহেই শেষ করতে চাচ্ছেন, তা লিখে নিন কাগজে বা কম্পিউটারে।

৩. এর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে রাখুন সপ্তাহের শুরুতে, দিনের প্রথম ভাগে। কারণ তখনই আপনার কাজ করার স্পৃহা থাকবে সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিনের নাম এবং সময় লেখা একটি কাগজ প্রিন্ট করে নিন, যেখানে সময় এবং বারের নামের পাশে বক্স থাকবে। এতে কাজের তালিকা তৈরি করতে অনেক সুবিধা হবে।

৪. আপনার কাজের ৪ ভাগের ৩ ভাগ নিয়ে পরিকল্পনা করুন। যদি আপনি প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কাজ করেন তবে কর্মপরিকল্পনায় রাখুন ৬ ঘণ্টা। বাকি দুই ঘণ্টা বিরতি, খাওয়া ইত্যাদিতেই শেষ হয়ে যায় সাধারণত।

৫. যে সব কাজ এই সপ্তাহে শেষ করা সম্ভব না, অথবা এ সপ্তাহে শেষ না করলেও চলে, তা রেখে দিন পরবর্তী সপ্তাহের জন্য। তবে সে কাজগুলো সম্পর্কে আগেই কিছুটা ধারনা নিয়ে রাখুন, এতে পরবর্তী সপ্তাহে তা শেষ করতে সুবিধা হবে।

৬. যে কাজগুলো চিহ্নিত করেছেন এই সপ্তাহে শেষ করার জন্য, চেষ্টা করুন তা পরিপূর্ণভাবে শেষ করার। আপনার মনোযোগ নষ্ট করে এমন সব বিষয়কে দূরে রাখুন কাজ করার সময়। কাজ সঠিক সময়ে শেষ না করলে পরবর্তী সপ্তাহের কাজের সাথে মিলে অনেক বেশি চাপ পড়বে আপনার উপর।

৭. কোন কাজে বার বার ভুল হতে থাকলে বিরতি নিন। হতে পারে তা ১০ মিনিটের ঘুম, অথবা সম্পূর্ণ দিনটিই। বিরতির পর ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন কোন পদ্ধতিতে এগোলে কাজটি শেষ করা যায়। যদি শেষ করা সম্ভব না হয়, আপনার ব্যর্থতাকে মেনে নিন, এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।