গর্ভাবস্থায় মায়েদের বুকজ্বালা-পোড়া সমস্যা উপশমে যা করণীয়

pregnant-womanগর্ভধারণের (pregnancy) সাথে সাথে নারীর শরীরে হরমোনগত পরিবর্তন সহ নানা ধরণের উপসর্গ দেখা যায় ।যার মধ্যে বুকজ্বালা (heart-burn) করা অন্যতম। যা হবু মা কে এক ধরণের চাপ ও অস্বস্তিতে রাখে। এর ফলে বমির উদ্রেক (vomiting tendency) বেড়ে যায়। অনেক সময় এটি মায়ের চোখের ঘুম কেড়ে নেয়। যা মোটেও স্বাস্থ্যকর বিষয় নয়। শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য এই অবস্থায় হুটহাট কোন ঔষধও সেবন করা যায় না। সেক্ষেত্রে দৈনন্দিন চলাফেরা এবং খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন এনে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

সাধারণ অবস্থায় যে প্রক্রিয়ায় খা্দ্য খাদ্যনালীর ভেতর দিয়ে পাকস্থলীতে যায়। গর্ভধারণ পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। যার ধারাবাহিকতায় বুকজ্বালা সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেকের ক্ষেত্রে শিশুর বিকাশের সাথে সাথে এটি প্রকট হয়। কেননা এই সময় পাকস্থলীতে এক ধরণের চাপ থাকে এবং খাবার গ্রহণের পর পাকস্থলী খালি হতে সময় লাগে।

গর্ভাবস্থায় বুকজ্বালা উপশমে যা করণীয় (Ways to Soothe Heartburn in Pregnancy)

গর্ভাবস্থায় যতটা সম্ভব ঔষধ এড়িয়ে চলা উচিত। প্রতিদিনের জীবনে ও খাবারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে বুকজ্বালা-পোড়া সমস্যা দূরে রাখা সম্ভব হয়।

  • খাবারকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা (eat small meals): অনেকের অভ্যাস থাকে খেতে বসে সামনের সব খাবার সাবাড় করা। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায় মায়ের উচিত এক বারে অধিক না খেয়ে,অল্প অল্প পরিমাণে বার বার খাওয়া। দৈনিক তিনবেলা খাবারের রুটিন পরিবর্তন করে ৫-৬ বারে ঊন্নীত করা উচিত।
  • তাড়াহুড়ো করে খাবেন না (take it slow): খাবার আস্তে আস্তে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাবার দ্রুত খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা হয়। যা গর্ভাবস্থায় বুকজ্বালাকে দ্বি-গুণ করে দেয়।
  • খাবার শেষে বসা বা দাঁড়ানো (sit or stand after a meal): খাবার খেয়ে সাথে সাথে শুয়ে পড়া উচিত নয়। বরং বসে বই পড়া,ঘরের ছোট ছোট কাজ গুলো করা,ধীরে ধীরে হাটা উচিত। আবার এমন কোন কাজ করা উচিত না যা নুয়ে বা ঝুঁকে করতে হয়।খাবার খেতে হবে বিছানায় যাওয়ার কমপক্ষে তিন ঘন্টা পূর্বে।
  • ওজনের ব্যাপারে সতর্ক থাকা (be weight conscious)গর্ভাবস্থায় ওজন কম বা বেশি হওয়া কোনটাই উচিত না। তাই সেদিকেও নজর দিতে হবে। কেননা এটিও বুকজ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।
  • ঢিলাঢালা কাপড় পড়া (wear loose-fitting dress)গর্ভাবস্থায় আটঁসাঁট কাপড় পরিধান করা উচিত না। যা পাকস্থলীকে চেপে রাখে। এর ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে। যা বুকজ্বালার সম্ভাবনাকে বাড়িয়া তোলে।
  • বাম কাত হয়ে ঘুমানো (sleep leftwards)ঘুমানোর সময় মাথা ও শরীরের যাতে ভারসাম্য থাকে তেমন বালিশ ব্যবহার করা উচিত এবং শোয়ার ক্ষেত্রে বাম পাশ বেশ উপকারি।ডান দিক বেছে নিলে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর অবস্থান উচু নিচু থাকে । যার ফলে বুকজ্বালা হয়।
  • খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা (know what you eat)যেসব খাবার বুকজ্বালার জন্য দায়ী তা থেকে দূরে থাকা উচিত। যেমনঃ মসলাযুক্ত খাবার,চর্বিযুক্ত খাবার ইত্যাদি।

নিরাপদ মাতৃত্ব সন্তান ও মা-উভয়কেই সুস্থ রাখে। তাই সচেতন হোন।

আরো পড়ুন
জানুন গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতায় ভোগার লক্ষণগুলো, কাটিয়ে উঠুন বিষণ্ণতা
জেনে নিন গর্ভাবস্থায় মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ যত্ন সম্পর্কে

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।