চুলের যত্নে কাস্টার ওয়েল এর ব্যবহার

Castor-Oil

চুলের যত্ন  করতে তো আমরা কত ধরণের জিনিসই ব্যবহার করি।

প্রাকৃতিক উপাদান থেকে শুরু করে বাজারে কিনতে পাওয়া কেমিক্যাল প্রোডাক্ট অব্দি, এক কথায় চুলকে একটু সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জল রাখতে আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই।

আর থাকবেই না বা কেন, নারী বা পুরুষ সবার সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে চুলের অবদান।

সেকারণেই আমাদের চুল আরও সুন্দর ও সুস্থ রাখতে আজ দেখাবো একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কাস্টার অয়েলের ব্যবহার।

আসুন দেখি কিভাবে কাস্টার অয়েল আমাদের চুলের যত্নতে অবদান রাখে:

 চুল বৃদ্ধি করে ও চুল পড়া বন্ধ করে( Increases hair growth and controls hair loss)

কাস্টার অয়েল ricinoleic acid এবং ওমেগা ৬  অত্যাবশ্যক ফ্যাটি অ্যাসিড বহন করে যা মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে  দেয় এবং অত্যাবশ্যক পুষ্টি বৃদ্ধিতে সাহায্যে করে চুলের শিকড় শক্তিশালীকরণ কাজ করে।

যার ফলে মাথার চুল বৃদ্ধি করে ও চুল পড়া বন্ধ করে। যাদের চুল পড়া সমস্যা আছে তারা কাস্টার অয়েল ব্যাবহারে উপকার পাবেন।


আরো পড়ুন– যদি পেতে চান ঝলমলে ও আকর্ষণীয় চুল


টিপসঃ

একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ কাস্টার অয়েল ও সমপরিমাণ নারিকেল তেল একসাথে নিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন।

ম্যাসাজ শেষে আপনার মাথার চুল ভালোভাবে একটি শাওয়ার টুপি বা টাওয়েল দিয়ে মুড়ে রাখুন সাড়ারাত।

সকালে উঠে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি কিছু দিন অনুসরন করলে চুল পড়া কমে যাবে ও চুল বৃদ্ধি পাবে।

মাথার ত্বকে ইনফেকশন ও খুশকি সারাতে( Fights scalp infections and dandruff)

কাস্টার অয়েলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাংগাল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান মাথার ত্বকের যেকোন ইনফেকশন রোধ করে ও চুল খুশকি মুক্ত রাখে।

মাথার ত্বকে সমস্যা বা যারা খুশকির কারণে চুল নিয়ে চিন্তিত তারা নিঃসঙ্কোচে কাস্টার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।


আরো পড়ুন– অসহ্য খুশকির যন্ত্রনা থেকে মুক্তির জন্য ৭টি সহজ পরামর্শ


টিপসঃ

যারা খুশকি সমস্যাতে ভুগছেন তারা ১ টেবিল চামচ কাস্টার অয়েলের সাথে অলিভ অয়েল ও অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে এক ঘণ্টা মাথায় রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। খুশকি চলে যাবে।

চুল চেরা সমস্যা কমানো(Reduces split ends)

চুলের আরও একটি সাধারণ কিন্তু মারাত্মক সমস্যা হল চুল চেরা বা চুলের আগা ফাটা সমস্যা।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ঘরোয়া সহজ সমাধান হল চুলে কাস্টার অয়েল ব্যবহার। চুলে কাস্টার অয়েল ব্যাবহারে এই চুলের আগা ফেটে যাওয়া সমস্যা খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।

টিপসঃ

কাস্টার অয়েলের সাথে অলিভ অয়েল বা জোজোবা অয়েল মিশিয়ে আপনার চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

সপ্তাহে এক থেকে দুইবার এটি ব্যবহার করলেই চুলের আগা ফাটা অনেকটা কমে আসবে।

এটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে( Serves as a natural conditioner)

কাস্টার অয়েলের ব্যতিক্রমী ময়শ্চারাইজিং এবং কন্ডিশনার বৈশিষ্ট্য চুলের আদ্রতা বজায় রেখে চুল উজ্জ্বল ও ঝলমলে রাখে।

তাছাড়া এই অয়েলের উপকারি উপাদান খুব সহজেই মাথার ত্বকের গভীরে গিয়ে চুলের গোঁড়া থেকে পুষ্টি যোগায়।

যাদের চুল রুক্ষ ও শুষ্ক তারা অনায়াসে চুল প্রাকৃতিকভাবে কন্ডিশনিং করতে কাস্টার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।


আরো পড়ুনপ্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরোয়া ভাবে চুলের যত্ন ও কন্ডিশনিং করুন


টিপসঃ

চুল প্রাকৃতিকভাবে কন্ডিশনিং করতে চুলে শ্যাম্পু করার মিনিমাম ২০ মিনিট আগে হাতে কয়েক ফোঁটা কাস্টার অয়েল নিয়ে চুলে আলতো ঘষে লাগান। এরপর শ্যাম্পু করুন।

অথবা কাস্টার অয়েলের সাথে কয়েক ফোঁটা অ্যালোভেরা জেল, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে আপনার চুলের গোঁড়ায় লাগান। এরপর আধা ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন।


সোর্সঃ http://www.thehealthsite.com/beauty/8-amazing-haircare-benefits-of-castor-oil/


সম্পর্কিত পোস্ট: