ঘুরে আসুন লালনের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়া থেকে

kus-3কুষ্টিয়া একটি প্রাচীন জনপদ। কুষ্টিয়ার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, কালীগঙ্গা ও কুমার নদীগুলো। দেখার মত অনেক স্থান কুষ্টিয়ায় রয়েছে।

কুষ্টিয়ার যে স্থানগুলোতে ঘুরতে যেতে পারেন সেসব নিয়েই আজকের পরামর্শ।

রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ীঃ

কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত। এখানে অবস্থিত আম্রকাননে কবিগুরু অনেক গান ও কবিতা রচনা করেছেন। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে কুঠিবাড়ীর অবস্থা খারাপ। তবুও কবিপ্রেমীরা এখানে এসে কবি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। কুঠিবাড়ীটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যারা রবীন্দ্রপ্রেমী আছেন তাদের বলবো একবার ঘুরে যান এখান থেকে কবিগুরুর সান্নিধ্য লাভের এই সুযোগ হাত ছাড়া করবেন না।

বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজারঃ

বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এই কুষ্টিয়া জেলাতেই জীবন কাটিয়েছেন। তার মাজার বর্তমানে বাউলদের আখড়া হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। লালন ভক্তের কাছে তাই অঞ্চলটি পূণ্যভূমি রুপে পরিগণিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে এ মাজারে রিক্সাযোগে যাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট। এখানকার নিরিবিলি পরিবেশ আপনাকে মানসিক শান্তি প্রদান করবে। যারা আধ্যাত্মিক জীবন যাপন ভালবাসেন লালনের স্মৃতিজড়িত এই মাজার বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান।

পাকশী রেল সেতুঃ

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু পাকশী রেল সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ সেতুর একটি স্প্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানের গোলায় ধ্বংস হয়ে যায়। কুষ্টিয়া এলে ইতিহাসের সাক্ষী এই রেলসেতুটি একবার স্বচক্ষে দেখে যেতে ভুলবেন না।

লালন শাহ সেতুঃ

বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ সেতু হচ্ছে “লালন শাহ” সেতু। সেতুটি কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত। সেতুটি বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে নির্মাণ করে। চারপাশের মনোরম পদ্মা নদীর দৃশ্য প্রতিটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অনেক দর্শনার্থী সেতুটি পরিদর্শনের জন্য সেতুর চারপাশে প্রতিদিন ভীড় জমান। ভেড়ামারা বা উত্তরবঙ্গ অভিমুখী বাসে হার্ডিঞ্জ ব্রীজে পৌছানে যায়। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। নদীর প্রতি যাদের টান কাজ করে যারা ভালবাসেন নদীর কাছাকাছি থাকতে এখানে আসতে পারেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। স্বাধীনতার পর মুক্ত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। । মুক্ত বাংলা ভাষ্কর্যটি এ বিশ্ববিদ্যালয়েই অবস্থিত। দেশের প্রায় ১৪০০ ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত। কুষ্টিয়া শহর থেকে যশোর/ খুলনা অভিমুখী যেকোন বাসে উঠলেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নামা যাবে। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। বিশাল জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি একবার ঘুরে দেখতে দেখবেন। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

মোহিনী মিলঃ
সচল অবস্থায় মোহিনী মিল সমগ্র এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কলের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মিল।কুষ্টিয়া শহর থেকে রিক্সাযোগে যাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট। কুষ্টিয়ার অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্ত্ব মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়া মোহিনী মিলস এন্ড কোম্পানী লিমিটেড নামে এই কাপড়ের মিলটি প্রতিষ্ঠা করেন। সমসাময়িক কালে অন্যান্য বস্ত্র কলের তুলনায় এই মিলের উৎপাদন অনেক বেশী মানসম্পন্ন ছিল বলে কালক্রমে এটি দেশের অন্যতম সেরা কাপড়ের মিলে পরিণত হয়। ইতিহাস হয়ে যাওয়া মিলটি দেখে যেতে পারেন।

রেইনউইক বাঁধঃ
রেইনউইক বাঁধ কুষ্টিয়া শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত। এটি গড়াই নদীর কবল থেকে শহরটিকে রক্ষা করার জন্য বানানো হয়েছে। বর্তমানে বাঁধের পশ্চিমে নদীর বাঁকে বাঁধটি বর্ধিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আরো বেশি সৌন্দর্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাঁধটি রেনউইক বাঁধ নামে পরিচিত। এই স্থানটির একটি বিশেষত্ব এখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুইই দেখা যায়। এই দুই সময়েই এখানে লোক সমাগম বেশি হয়। তাই যারা সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত এই দু’য়ের শোভা উপভোগ করতে চান তাদের অবশ্যই একবার হলেও এখানে আসা উচিত।

হাতে কিছুদিন সময় নিয়ে চলে আসতে পারেন কুষ্টিয়া। মনে রাখার মতো অসাধারণ কিছু সময় মুহূর্তও স্মৃতির ডায়েরিতে করে সাথে নিয়ে যেতে পারবেন আশা করি।