সম্পর্কে তর্ক করার বাজে অভ্যাস বা প্রবণতা রোধে আপনার করণীয়

debating

“কথায় আছে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর” তর্ক এমন একটা শব্দ যেটা যেকোন সম্পর্কের সুখ শান্তি নষ্ট করতে একাই যথেষ্ট।

ব্যাপারটা আরও বাড়াবাড়ি হয়ে দাড়ায় যখন তর্ক করার অভ্যাসটা এসে দাড়ায় এমন দুটি মানুষের মধ্যে যারা একে অপরের পরিপূরক, এক কথায় একজন আরেকজনের নিতান্তই প্রিয় মানুষ।

সহজ করে বলতে গেলে যদি একবার সম্পর্কে তর্ক করার বাজে অভ্যাস ঢুকে যায় তাহলে প্রিয় মানুষটি মুহূর্তেই অপ্রিয় হতে সময় লাগবে না।

তাই আপনার উচিৎ সম্পর্ক সুন্দর আর স্বচ্ছ রাখতে নিজে তর্ক করা থেকে বিরত থাকা আর প্রিয় মানুষটিও যাতে তর্কে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।

আসুন দেখে নেই যারা হরহামেশাই তর্ক নামক শব্দটির কাছে হার মেনে সম্পর্কের মধুরতা নষ্ট করছেন তারা কি উপায়ে সম্পর্কে তর্ক করার বাজে অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসবেন।

সবার আগে পুরনো কথা ভুলে যান

আমরা এমন অনেকেই আছি যারা বছরের পর বছর পুরনো কথা বা ঘটনা নিয়ে পড়ে থাকি। সেটা এমন ঘটনা বা কথা যার অস্তিত্ব আজ নেই আর সেটা মনে রেখেও কোন ভালো কিছু হবার সম্ভাবনা নেই।

সম্পর্কে তর্ক জন্ম নেই তখনই যখন আপনি আপনার সাথে হওয়া পুরনো কোন কথা বা ঘটনা বার বার নিজেদের মধ্যে টেনে নিয়ে আসবেন।

হ্যাঁ হয়তো কোন ভুল কাজ আপনার কাছের মানুষটি করে ফেলতেই পারে, কিন্তু আপনি যদি সারাজীবন সেই ঘটনার জের ধরে তাকে খোঁচাতে থাকেন তাহলে আপনি না চাইলেও সম্পর্কে তর্ক বাসা বাঁধবে।

তাই সম্পর্কে তর্ক এড়াতে সবার আগে পুরনা কথা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।


আরো পড়ুন– সম্পর্ক অটুট রাখতে আপনার সঙ্গীর প্রতারণার অপরাধ ক্ষমা করবেন যে উপায়ে


হুট করে রেগে যাবেন না

আপনার হুট করে রেগে যাওয়া স্বভাব আপনাকে সবচেয়ে বেশী ভোগাবে। আপনাকে তর্কে জড়াতে বাধ্য করবে।

তাই কোন ব্যাপারে আপনার মতের সাথে যদি আপনার জীবনসঙ্গী বা প্রিয় মানুষ যেটাই বলুন তার মতের মিল না ঘটে তাহলে অযথা রেগে গিয়ে তর্কের পরিবেশ সৃষ্টি না করে বরং তাকে আপনার মতামত ঠাণ্ডা মাথায় খুলে বলুন।

আপনার এই ছোট্ট পদক্ষেপ সম্পর্কে তর্কের পরিধি কমিয়ে দেবে।


আরো পড়ুনরাগ নিয়ন্ত্রণ করতে অনুসরণ করি কিছু পরামর্শ


কথা না বুঝে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না

কোন ব্যাপারে যখনই কোন সিদ্ধান্ত নেবেন আগে থেকেই পুরো ব্যাপার বুঝে নেবেন। সম্পর্কে তর্ক রোধে আপনার এই সচেতনতাটুকু খুব জরুরী।

না বুঝে কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যদি সেটা নিয়ে আবার নতুন করে নিজের মতামত প্রকাশ করতে চান তাহলে তর্ক বাধতেই পারে। শুধু শুধু কেন তবে রিস্ক নিতে যাবেন বলুন?

ভুল স্বীকার করুন

তর্ক এড়িয়ে চলার সবচেয়ে সহজ আর কার্যকরী উপায় হল নিজের ভুলটা স্বীকার করে নেওয়া।

আপনার দ্বারা কোনরকমের কোন ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথে সেটা স্বীকার করে নেবেন, দেখবেন সম্পর্কে তর্ক নামক কালো ছায়া কখনো কাছেই ঘেষতে পারবে না।


আরো পড়ুন– কাটিয়ে উঠুন অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য অপরাধবোধ


শান্ত থাকুন

তর্ক এড়াতে চাইলে আগে নিজেকে শান্ত আর ধীরস্থির রাখার কৌশল আয়ত্ব করুন।

সহজে কোন কিছুতে উত্তেজিত হয়ে ওঠা বা অতিরিক্ত আগ্রহ দেখিয়ে ফেলা আপনার জন্য তর্ক করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

যদি আপনার সম্পর্কের কোন জায়গাতে আপনাকে হঠাৎ করেই উত্তেজিত হয়ে ওঠার অবস্থায় পড়তে হয় তাহলে আপনি ভুলেও উত্তেজিত হবেন না, বরং উল্টোটা করুন।

নিজেকে শান্ত রাখুন। দেখবেন সমস্যার সমাধান ও হবে আর আপনার তর্কের প্রয়োজন পড়বে না।


আরো পড়ুনপ্রতিকূল পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে শান্ত রাখার উপায়


পাশাপাশি দুজন মানুষ থাকতে গেলে কথা কাটাকাটি মান অভিমান এগুলো হবেই। আমরা চাইলেও এসব এড়িয়ে যেতে পারবো না।

কিন্তু একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আপনি যা করতে পারেন তা হল যখনই দেখবেন সম্পর্কে তর্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে তখন নিজেকে একটু গুটিয়ে নিন।

চাইলে একটা বিরতি নিতেই পারেন। দেখবেন পরিবেশ নিজে থেকেই সহনীয় হয়ে আসছে।

সম্পর্কে তর্ক জন্ম নেই তখনই যখন একজন আরেকজনের প্রতি ভালোবাসার বা আস্থার জায়গাটা টুকুও হারিয়ে ফেলে।

তাই সবার আগে সম্পর্ক সুরক্ষিত রাখতে একে অপরের ভালোবাসার মূল্যায়ন করুন। আর ভালোবাসার সাথে সাথে এক অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখুন।


সোর্সঃ  http://www.mensxp.com/relationships/better-partner/23811-5-real-pieces-of-advice-to-stop-that-argument-now.html


সম্পর্কিত পোস্ট: