দাম্পত্য কলহের প্রভাব থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে যা করবেন

marital-dispute

“দাম্পত্য কলহ” বিবাহিত জীবনে এই শব্দটির পরিচিতি বা আধিক্য অনেক।

এমন কোন পরিবার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব যেখানে দাম্পত্য কলহ হয়না।

দাম্পত্য কলহ যখন আপনার বেড রুমেই সীমাবদ্ধ থাকে তখন সেটার প্রভাব পরিবার বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর পড়ার কোন সম্ভাবনা থাকেনা।

কিন্তু যখন আপনাদের দুজনের সাথে বেডরুমের অংশীদার হিসেবে থাকে আপনাদেরই সন্তান তখন দাম্পত্য কলহ সত্যি ভীষণ মারাত্মক আর খারাপ প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

বাবা মায়ের কলহের খারাপ প্রভাব পড়তে পারে সন্তানের শারীরিক, মানসিক এমনকি চারিত্রিক জীবনে।

জীবনে বেঁচে থাকতে গেলে সামনে এগিয়ে চলতে হলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ হবেই আর এটা থেকে রেহাই পাওয়ার কোন সহজ রাস্তা নেই।

কিন্তু আপনি চাইলে আপনার সন্তানটিকে আপনাদের এই দাম্পত্য কলহ এবং এর খারাপ প্রভাব থেকে দূরে রাখতে পারেন।

আসুন জেনে নেই কি উপায় অনুসরণ করে আপনি আপনার সন্তানকে দাম্পত্য কলহ থেকে দূরে রাখতে পারেনঃ

আপনাদের মধ্যে যতো ঝামেলাই হোক না কেন সন্তানের সামনে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরবেন না। চেষ্টা করুন নিজেদের সমস্যাগুলো নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে।

বাবা মা কোন কারণে ঝগড়া অশান্তিতে লিপ্ত হলে সন্তানেরা নিজেদের দায়ী ভাবতে শুরু করে। একটা সময় তাদের এই নিজেকে দায়ী ভাবাটা অভ্যাসে পরিণত হয় যা জীবন চলার পথে অন্যতম বাধা হয়ে দাড়ায়।


আরো পড়ুন– বিবাহিত জীবনে এড়িয়ে চলুন সম্পর্কে ভাঙ্গন সৃষ্টিকারী মারাত্মক কিছু ভুল


আপনার সন্তানকে দাম্পত্য কলহের এই খারাপ দিক থেকে বাঁচাতে নিজেদের ঝগড়া অশান্তি ভুলেও সন্তানের সম্মুখে আনবেন না।

দাম্পত্য কলহের জের ধরে আপনারা একে অন্যর থেকে দূরে সরে গেলেও সন্তানের উপর এর প্রভাব যাতে না পড়ে তার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন। অহেতুক আপনার সন্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন না।

যদি পরিস্থিতির প্যাঁচে পড়ে সবটা সন্তানের সামনে চলেই আসে তাহলে তাকে আঁধারে না রেখে পুরো পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলুন।

নিজেদের ঝগড়া অশান্তির সূত্র ধরে যদি নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় তাহলে আমি বলবো একবার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখুন।

ভেবে দেখুন আপনাদের এই ছেলেমানুষি আচরণের যে খারাপ প্রভাব বাচ্চাটার উপর পড়বে পরবর্তীতে কখনো কি পারবেন সন্তানকে সেই প্রভাব থেকে বের করে নিয়ে আসতে?

তাই চিন্তা ভাবনা করে কাজ করুন।

ভুলেও সন্তানের চোখে একজন অপরজনকে দোষী সাব্যস্ত করতে যাবেন না। পরিনতিতে আপনি নিজেই সন্তানের চোখে অনেক বেশী নীচে নেমে যাবেন।

আপনি বড়জোর আপনার সন্তানকে বুঝিয়ে বলতে পারেন কিন্তু কখনই এক তরফা দোষ দিয়ে দিতে পারেন না।


আরো পড়ুন– প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে শান্ত রাখার উপায়


তাই যদি দাম্পত্য কলহের খারাপ প্রভাব থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে চান তাহলে দোষারোপ করার মানসিকতা বাদ দিয়ে সমঝোতার মানসিকতা গড়ে তুলুন।

যদি কোনভাবেই আপনি আপনার দাম্পত্য জীবনের যাবতীয় ঝামেলা থেকে সন্তানকে বের করে নিয়ে আসতে না পারেন তাহলে আপনার করণীয় হবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাহায্য গ্রহণ করার।

সন্তানের সুন্দর আগামী নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আপনার সন্তানের জন্য মনরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।


সম্পর্কিত পোস্ট: