আজই ছেড়ে দিন ধূমপানের ক্ষতিকর অভ্যাস

smoking“আজ খাই, কাল ছাড়বো, এই মাস যাক আগামী মাসে বন্ধ করে দিব” এভাবে ধূমপানে আসক্ত ব্যক্তি নিজেকে প্রতারিত করে। ধূমপান মৃত্যু ডেকে আনে জেনেও সে বিষ পান করে যায় তৃপ্তি ভরে। অনেকে মাঝে মাঝে ধূমপান করে আর ভাবে ছেড়ে দেবে (quit smoking)। কিন্তু আসক্ত হয়ে পড়লে সেটা আর সম্ভব হয় না। তবে অসম্ভব কিছু নয়, প্রয়োজন শুধু ইচ্ছাশক্তি আর আপজনদের সহযোগিতা।

একটু চেষ্টা আর উদ্যম থাকলে শরীর যেমন সুস্থ থাকবে তেমনি নিজের পরিবার সুস্থ থাকবে। সাথে সাথে অর্থের অপচয়ও রোধ হবে। প্রতিমাসের সিগারেটের বাবদ টাকা গুলো যদি জমানো হয় তবে তা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। একমাত্র চেষ্টাই পারে নিজের পাতানো মৃত্যু ফাঁদ হতে নিজেকে বাচাঁতে।

কিভাবে ধূমপান থেকে নিজেকে বিরত রাখা যায় (tips to quit smoking)

মনের জোর যত বেশি থাকে তত তাড়াতাড়ি ধূমপান থেকে সরে আসা যায়। জেনে নেয়া যাক সেসব বিষয় যা একজন ধূমপায়ীকে ধীরে ধীরে অ-ধূমপায়ীতে পরিণত করতে পারে।

মন স্থির করুন (be determined)

ধূমপান ছাড়ার প্রথম ধাপ হলো মনে মনে এর জন্য তৈরী হওয়া। সাথে সাথে একটি দিন বেছে নেয়া যে দিন থেকে আর ধূমপান করবেন না-এমন ভাবে মনকে প্রস্তুত করা।

কারণ চিহ্নিত করুন (reasons to quit)

নিজের আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ করতে সিগারেট ত্যাগের করার কিছু ব্যক্তিগত কারণ খুজে বের করা। তারপর একটি তালিকা তৈরী করে তা প্রতিদিন নিজের সামনে ধরা। যা ব্যক্তিকে মানসিক ভাবে প্রেরণা যোগাবে। যেমনঃ”আমি আমার পরিবারের ক্ষতির কারণ হচ্ছি” বা “আমার সন্তান অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়ায়”।

মনকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন (do something different)

উল্লেখিত কাজ দুটি করে আস্তে আস্তে দৈনিক সিগারেট খাওয়ার সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। সিগারেটকে নিজের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে। সিগারেটের ঝোক আসলে সঙ্গে সঙ্গে মনকে অন্য দিকে ব্যস্ত করে তোলা। গাড়ি,বাড়ি,অফিসে কোথাও হাতের নাগালে সিগারেট না রাখা।

আচরণ ও পারিপাশ্বিক পরিবর্তন (change of activities)

  • যে বা যারা ধূমপানের সঙ্গী ছিল তাদের সাথে মেলামেশা কমিয়ে দিন। আড্ডার স্থান পরিবর্তন করুন।
  • ধূমপায়ী না এমন মানুষের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।
  • ধর্মানুসারে প্রার্থনা করা।
  • বন্ধু-বান্ধবের সাথে ধূমপানের কুফল নিয়ে আলোচনা করা।
  • ইতিবাচক চিন্তা করা।
  • মনে মনে ধূমপানের ফলে সৃষ্ট রোগ-ব্যধির ভীতি তৈরী করা।

প্রতিজ্ঞায় অটল থাকুন (promise)

ধূমপান ছাড়বোই ‘মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে অটল থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খুবই সহায়ক। যেমনঃ শারীরিক ব্যায়াম করা, বই পড়া , মেডিটেশন করা, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। এছাড়া “একটা খাই, আর খাবো না সিগারেট ” এমন প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরী।

সিগারেটের বিকল্প কিছু বেছে নিন (alternative tips)

ধূমপানের নেশা জাগলে বিকল্প হিসেবে স্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ার কিংবা কোন সৃজনশীল কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন- মুখে পুদিনা পাতা, চিউইং গাম চিবানো, আপেল খাওয়া ইত্যাদি।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন (contact your doctor)

দীর্ঘদিন ধূমপানের কারণে দেহের ভিতরে নিকোটিনের একধরনের চাহিদা সৃষ্টি হয়।হঠাৎ ধূমপান ছেড়ে দেয়ার ফলে শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা যায় যেমনঃ মাথা ব্যথা, মানসিক অস্থিরতা, বমি ভাব হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এরকম অবস্থায় চিকিৎসকের সহযোগিতা নেয়া জরুরী।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি।পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।