দ্রুত ওজন কমানোর কিছু কার্যকর পরামর্শ

Tips-for-A-Diet-Healthy-Weight-Lossওজন কমানো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, তবে এমন কিছু সময় আসে যখন দ্রুত ওজন কমানো আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাই জেনে নিন দ্রুত ওজন কমানোর কিছু কার্যকর পদ্ধতি

ব্যায়াম

ব্যায়াম ছাড়া স্বাস্থ্যকর উপায়ে দ্রুত ওজন কমানো প্রায় অসম্ভব। প্রতিদিন আপনার গ্রহণকৃত ক্যালরির চেয়ে ৫০০ ক্যালরি বেশি ঝরাতে পারলে সপ্তাহের ভেতরেই আপনার ওজন কমে যাবে ১-২ কেজি। কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবেঃ

  • প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ মিনিট দৌড় দুই মাসের ভেতরেই আপনার ৯-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দিবে। তবে এমনভাবে দৌড়াতে হবে যাতে ঘাম ঝড়ে এবং ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
  • ইনডোর সাইক্লিং, কার্ডিয়ো কিক বক্সিং বা বুট-ক্যাম্প ওয়ার্কআউট এই তিনটি বা এর যে কোন একটি ব্যায়াম প্রতিদিন ৩০ মিনিট অনুশীলন করলে আপনি ঝরাতে পারবেন ২০০-৩০০ ক্যালরি। একই সাথে আপনার সারা শরীর থাকবে ফিট।

খাবার

নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ওজন কমানোর জন্য অপরিহার্য। তবে একেবারে না খেয়ে বা অতি অল্প খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করা ক্ষতিকর। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের সময় নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুনঃ

  • সকালের বা দুপুরের খাবারের পরিবর্তে পান করুন জুসঃ আপনার সকাল বা দুপুর কোন একবেলা খাবারের পরিবর্তে জুস পান করুন। তবে বাজারে প্রচলিত জুস এক্ষেত্রে কার্যকর নয়। করলা, গাজর, শসা, যে কোন ফল বা সবজির জুস আপনার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে এবং দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
  • অতিরিক্ত ফল খাওয়া বাদ দিনঃ স্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষেত্রে প্রথমেই মাথায় আসে ফলের নাম। কিন্তু অতিরিক্ত ফল স্বাস্থ্যের উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হতে পারে। মিষ্টি ফলের প্রধান উপাদান ফ্রুকটোস মাত্রাতিরিক্ত ফ্রুকটোস আমাদের মস্তিষ্কে Leptine সরবরাহে বাধা দেয়। Leptine এর অন্যতম কাজ আমাদের মস্তিষ্ককে জানানো কখন খাওয়া বন্ধ করতে হবে। তাই Leptine এর স্বল্পতা আমাদের পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়ার কারণ হতে পারে।
  • রোজা রাখুন বা উপবাস করুনঃ আমাদের দেশে যেসব ধর্ম প্রচলিত তার প্রায় সবকটিতেই উপবাস প্রথা আছে। উপবাস ওজন কমানোর জন্য খুবই কার্যকরী। তাই উপবাস করতে পারেন নিজ ধর্মের নিয়ম অনুসরণ করে। এতে স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করার পাশাপাশি ওজনও কমানো যাবে।
  • লবণ শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে লবণ পরিহার করুন আজই।
  • দুগ্ধজাতীয় খাবার যেমন পনির, মাখন ইত্যাদি উচ্চ চর্বিযুক্ত। আপনার দৈনন্দিন খাবারের তালিকা থেকে এগুলো বাদ দিন।

জীবন পদ্ধতিঃ

আপনার দৈনন্দিন কার্যকলাপও প্রভাব ফেলে ওজন বাড়া-কমার ক্ষেত্রে। তাই নিচের বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখুনঃ

  • দৈনিক ঘুমান ৭ থেকে ৯ ঘণ্টাঃ আমাদের শরীরে ফ্যাট বা চর্বি কমানোর যে হরমোন থাকে তা ধ্বংস করে দেয় স্বল্প পরিমাণ ঘুম। তাই চেষ্টা করুন দৈনিক ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানোর।
  • দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুনঃ শারীরিক এবং মানসিক চাপ আমাদের ওজন কমানোর পরিবর্তে বাড়িয়ে দেয়। তাই দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন। ঘুরে বেড়াতে পারেন অথবা করতে পারেন হাটাহাটি, যোগ ব্যায়াম । এসব আপনাকে চিন্তামুক্ত রাখবে এবং সহজেই প্রফুল্ল করে তুলবে।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।