অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার যখন হতে পারে আপনার ক্ষতির কারণ

antibioticsঅ্যান্টিবায়োটিক (antibiotic) ঔষধ সেবন করেন নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অণুজীব (microorganisms) ঘটিত নানা রকম সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ধ্বংস করতে এর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু প্রাণরক্ষাকারী এই ঔষধ আমাদের প্রাণনাশেরও কারণ হতে পারে। কিন্তু কিভাবে?

অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে এটা বিশেষ জীবাণুর প্রতি তার স্পর্শকাতরতা (sensitivity) হারাবে, যাকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ (antibiotic resistance)। এর ফলে আপনার শরীরে আর ঐ বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবেনা। এভাবে চলতে থাকলে আপনার দেহে এক সময় আর কোন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ কাজ করবেনা। এর ফলে সামান্য সংক্রমণেই আপনার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

এবার জেনে নিই কি কি কারণে মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিকএর কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়

  • বিশেষ কোন রোগ-নির্দেশনা ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যেমনঃ ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার(ভাইরাস জ্বর)। মনে রাখবেন, ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত রোগের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক কাজ করে না।
  • অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স পূর্ণ না করা ,ব্যবহার শুরুর এক-দুই দিনের মধ্যে তা বন্ধ করা।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা।
  • সামান্য সর্দি-কাশিতেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা।

আমাদের করণীয়

  • ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকা।
  • সামান্য সর্দি-কাশিতেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করা।
  • সংক্রমণ থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকার চেষ্টা করা।
  • অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স অবশ্যই পূর্ণ করা (সাধারনতঃ ৭দিন ,১৪দিন বা ২১দিন)
  • আপনার একটু সচেতনতাই পারে আপনার মূল্যবান স্বাস্থ্য রক্ষা করতে। সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।