শীতে আপনার ঠোঁটের যত্ন নিন

winter-lips

শীতকাল আসলেই ঠোঁট শুস্ক হয়ে যায় যার কারণে ঠোঁট ফাটে। এই শীতে আপনার ঠোঁটের যত্ন আপনি কিভাবে নিচ্ছেন?

কতটুকু নেওয়া দরকার তা নিয়েই আমার এই পোষ্টটি আশা করি ভাল লাগবে।

*জিব্বা দ্বারা ঠোট লেহন একটি খুবেই সাধারণ ও স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু এর জন্য শীতকালে আপনার ঠোটের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।

যেমনঃ যদি আপনি বেশি পরিমাণ জিব্বাহ দ্বারা ঠোট লোহন করেন তবে প্রাথমিক ভাবে আপনার ঠোটে একটু সজীবতা আসতে পারে।

কিন্তু জিব্বা এর সাথে থাকা পাচক এনজাইম এবং জিব্বার লালা উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া আপনার রুক্ষ ঠোট আরো ক্ষতি করে।

আপনি হয়তো বা ভাবতে পারেন এতে আপনার ঠোট সজীব হয়েছে কিন্তু বাস্তবিক ভাবে শুস্ক ও ঠান্ডা বাতাস আপনার এই সাময়িক সজীবতাকে বাস্প করে অতি তাড়াতাড়ি পুণরায় রুক্ষ করে তোলে।

সেই জন্য সারাদিন কিছু সময় পর পর ঠোঁটে moisturizer এর জন্য লিপ জেল ব্যবহার করা উচিত।

*অনেক সময় শীতের প্রভাব ছাড়াই ঠোঁট অনেক শুস্ক আর কর্কশ হয়ে যায়। সেই জন্য আপনার এলার্জিকেই দ্বায়ী করা হয়।

যদি আপনি মনে করেন যে আপনার দাত ব্রাশ, মুখ ধোয়ার পানি, যে কোন লিপ জ্যাল বা লিপ স্টিক এর জন্য দ্বায়ী তবে এর সমাধান পেতে সেগুলো ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

তাছাড়া যে কোন flavoring agent, cinnamate, oxybenzone ব্যবহার এক বা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখুন।


আরো পড়ুনএই শীতে রুক্ষ শুষ্ক ঠোঁট সাড়িয়ে তুলুন নিজেই


এবার যদি ঠোঁটের অবস্থার উন্নতি দেখতে পান তবে আপনি অন্য সব পণ্য ব্যবহার বন্ধ করে দিন। শুধু সে গুলোই ব্যবহার করবেন যে গুলো না করলেই আপনার ঠোটের জন্য না হবে।

*শীত কালে ঠোঁট ভাল রাখতে petrolatum জেলির বিকল্প নেই। যা আপনার রুক্ষ ঠোঁটকে ঠিক করতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

petrolatum ভিত্তিক লিপ জেল গুলো আপনার ঠোটের আর্দ্রতা রক্ষক হিসাবে এবং ঠোটকে সুন্দর ও ঠোটের নিজস্ব রং এ দেখাতে সাহায্য করে।

*শীতকালে পানির তৃষ্ণা গরম কালের চেয়ে অনেক কম পায়। কিন্তু আপনি কি জানেন?

শরীরে পানির এই ঘাটতি আপনার ঠোটেঁ ফাটল সৃষ্টি করার একটি কারণ হতে পারে।

তাই শীতে বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্লাস করে পানি পান করুন, ফল এবং শীতকালীন সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

*একটি গভেষনায় দেখা গেছে ঠোঁট ফাটা মৌসুমী ব্যাপার হলেও অনেক সময় শরীলে ভিটামিনের অভাবেও ঠোঁট ফাটে।

যেমনঃ niacin (vitamin B3) এবং riboflavin (vitamin B2) এই বি কমপ্লেক্স ভিটামিন গুলো আপনার শরীলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে যার কারণে আপনার ত্বক সুন্দর থাকে।


আরো পড়ুন– কালো হয়ে যাওয়া ঠোঁট সুন্দর ও স্বাভাবিক করবেন যেভাবে


কিন্তু শরীলে এই ভিটামিনের অভাব দেখা দিলে মসৃণ ত্বক বা ঠোঁট এবং চামড়া রুক্ষ হয়ে যায়। সেই জন্য প্রচুর পরিমাণের সবুজ শাকসবজি, মটরশুটি, ডাল, দুধ, বাদাম ইত্যাদি নিয়মিত সমপরিমাণ খেতে পারেন।

তাও যদি প্রতিকার না হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ সাপেক্ষে মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করতে পারেন।

*ঠোঁটের উপর একটি নরম আবরণ থাকে, ঠোঁটের উপর থেকে শুস্ক চামড়া অপসারণের জন্য সপ্তাহে, তিনদিনে অথবা পাচঁদিনে আপনার ঠোঁটের উপর আইশ এর মত উঠে।

আপনাকে অবশ্যই এইগুলো তুলে ফেলতে হবে সেই জন্য সর্ফটক্লথ, টুথব্রাশ ইত্যাদি ব্যবহার করে ঠোঁটে আস্তে আস্তে ঘষতে থাকুন দেখবেন মৃত চামড়া উঠে গেছে এবং আপনার ঠোঁট মসৃণ আর নরম হয়ে উঠেছে।

তবে কোন ভাবেই মৃত চামড়া গুলোকে জিব্বাহ দ্বারা লোহন করবেন না, এতে আপনার ঠোঁট কালো হয়ে যাবে।

*শীতকালে বাইরের বাতাস খুবেই শুস্ক থাকে তাই ঠোঁট খুব সহজেই শুস্ক হয়ে যায়।

শীতে ঘরের আর্দ্রতায় ছেয়ে বাইরের আর্দ্রতা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি থাকে তাই ঠোঁটের যত্নের জন্য বাইরে যাওয়ার আগে ঠোটে লিপজেল দিন।

আশা করি পোষ্টটি আপনাদের ভাল লাগবে।


সম্পর্কিত পোস্ট: