জেনে নিন ইবোলা ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

ebolaঅতি সম্প্রতি পুরো বিশ্ব আতংকিত হয়ে আছে ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত নতুন ধরণের এক জ্বরের ব্যাপারে। মারাত্মক ও ভয়াবহ প্রাণঘাতী এ জ্বর Ebola hemorrhagic fever (Ebola HF) নামেও পরিচিত, যার জন্য দায়ী (Ebola Virus) বা (EBOV)। ইবোলা জ্বর প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানীরা এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোন কার্যকর ভ্যাক্সিন উদ্ভাবন করা যায় নি এখনো। তাই এই মূহূর্তে সতর্ক থাকাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। জেনে নিন ইবোলা ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ ও এটা থেকে নিরাপদ থাকার উপায়।

লক্ষণ গুলো জেনে নিন (know signs and symptoms)

  • ইবোলা ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ হঠাৎ করেই দেখা দেয়। এটার তুলনা করা যেতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণের সাথে। ক্লান্তি (fatigue), জ্বর (fever), মাথা ব্যথা (headache), মাংসপেশী ও হাড়ের সংযোগ স্থলে প্রদাহ (muscle and joint pain), পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া ও খাবারে অরুচি এ রোগের প্রধান লক্ষণ।
  • এছাড়া অন্যান্য কিছু লক্ষণও দেখা যেতে পারে। যেমন- গলা ব্যথা (sore throat), বুকে ব্যথা (chest pain), হেঁচকি ওঠা, কোন কিছু গিলে ফেলতে সমস্যা হওয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা।
  • আক্রান্ত রোগীর অন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র (gastrointestinal tract), যোনিপথ, নাক ও দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। চোখ লাল (reddening of the eye) হয়ে যেতে পারে ও রক্ত বমিও (bloody vomit) হতে পারে।
  • সংক্রমণের চূড়ান্ত ধাপে multiple organ dysfunction syndrome দেখা দিতে পারে, এর ফলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

যেভাবে প্রতিরোধ করবেন (how to prevent)

  • জেনে নিন এ ভাইরাসটি কিভাবে ছড়ায় (understand how the disease is spread): ইবোলা বিভিন্নভাবে ছড়াতে পারে, যেমন- আক্রান্ত রোগীর দেহ বা দেহ থেকে নিঃসৃত রক্ত বা অন্যান্য তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসলে সুস্থ ব্যক্তির দেহে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়। এছাড়া রোগীর পোশাক, ইঞ্জেকশনের জন্য ব্যবহৃত সূঁচ, বিছানা থেকেও এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই
  • সতর্ক থাকুন ভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চল থেকে  (stay safe from the suspected area): যদি কোন এলাকায় ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, তবে সেসব স্থানে যাতায়াতের ব্যপারে সতর্ক থাকুন।
  • বন্য প্রাণীর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন (Avoid eating wild-caught bush meat): অনেকে শখ করে বনের বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে। এছাড়া বাজারেও অনেক বন্য প্রাণীর মাংস বিক্রি হয়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এসব বন্য প্রাণীর মাংসের মাধ্যমে ইবোলা ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই সাবধান থাকুন।
  • নিজেকে নিরাপদ রাখুন (keep yourself safe): এ লেখার প্রথম অংশে বর্ণিত লক্ষণগুলো জেনে রাখুন। নিজেকে ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করুন।
  • নিরাপদ পোশাক পরিধান করুন (wear protective clothes): আক্রান্ত রোগীর সাথে দেখা করতে গেলে বা পরিচর্যা করতে গেলে অবশ্যই ভাইরাস প্রতিরোধী পোশাক পরে নিন।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন (stay clean and hygienic): রোগীর পরিচর্যার জন্য ব্যবহৃত সকল জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখুন ও যিনি এ দায়িত্ব থাকবেন তাকেও প্রতিবার নিজের হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

 

আক্রান্ত হলে কি করবেন? (taking action if you are infected)

১) দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
২) প্রচুর পানি পান করুন, যাতে দেহে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়।
৩) নিয়মিত রক্ত চাপ পরিমাপ করুন।
৪) প্রচুর অক্সিজেন আছে এরকম পরিবেশে থাকুন।
৫) রোগের কোন লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত তা চিকিৎসককে অবহিত করুন।
৬) বিশ্রাম নিন। এছাড়া নিয়মিত খোঁজ রাখুন কোন প্রতিষেধক উদ্ভাবিত হয়েছে কিনা বা বাজারে এসেছে কিনা।

যেহেতু এ মুহূর্তে ইবোলা ভাইরাস জ্বরের কোন প্রতিষেধক নেই, তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়। সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন।

বিস্তারিত পড়তে পারেন এখানে।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।