সোনাদিয়া দ্বীপ সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি

প্রকৃতির অদ্ভুৎ সব সৌন্দর্য মানুষকে প্রতিনিয়ত কাছে টানছে সৃষ্টির শুর হতে। যেন স্রষ্টার সৃষ্টি সব কিছু দিয়ে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেষে জেগে থাকা সোনাদিয়া দ্বীপ।

পৃথিবীর এক মাত্র দ্বীপ যেখানে সব চেয়ে বড় ঝাউবন রয়েছে। পুরো দ্বীপটাই বালির, সৈকতের পাড়ে শান্ত ঢেউয়ের আচড়ে পড়ার দৃশ্য সবার মনে দোলা দেওয়ার মতই।

এখানে সাগরের ঢেউ গুলো ঋতু অনুযায়ী রুপ ধারণ করে।

যেমন- বর্ষা আসলে সাগরের ঢেউ বড় আকারের হয়, শীত আসলে ঢেউ শান্ত হয়, শরৎ আসলে শুভ্র বাতাসের আমেজে পুরো সৈকতটাকে স্বর্গীয় মনে হয়।

সোনাদিয়া দ্বীপটি ছোট ছোট দুটি গ্রাম নিয়ে গঠিত। দ্বীপের দক্ষিণে দীর্ঘ ঝাউবন আর উত্তরে ম্যানগ্রোভ বন, যা দ্বীপকে প্রাকৃতিক দূযোর্গ থেকে রক্ষা করে।

এ দ্বীপে জন সংখ্যা কম থাকায় লোক জন তেমন একটা চোখে পড়ে না তাই যখন আপনি সমুদ্র সৈকতে হাটবেন তখন আপনার কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ো কোন মানুষ দেখতে পাবেন না, মনে হবে এই দ্বীপে আপনিই একা।

আর এই অনুভূতিটাই হতে পারে আপনার ভ্রমনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা।

এখানে আপনাকে আকৃষ্ট করবে পরিষ্কার বালি, চিরসুজের ঝাউবন, ঝাউয়ের ছায়ায় শীতল বালিতে বসে আড্ডা দেয়া।

সোনাদিয়া বীচে আপনাকে গোসল করতে হলে সাঁতার জানাটা খুব জরুরী কেন না কক্সবাজাররের অন্যান্য বীচের চেয়ে এই দ্বীপের বীচ খুবই গভীর

এখানে পাবেন দেশের সব চেয়ে উন্নত মানের যে কোন ধরনের শুটকি। এখানকার বাসিন্দারা জেলে হওয়ায় আপনি পাচ্ছেন বাড়তি এ সুবিধা।


আরো পড়ুনআপনার জীবনকে বদলে দিবে ভ্রমণ


আপনি আপনার পরিবার অথবা বন্ধু নিয়ে ভ্রমন করতে পারেন কোন রকম ঝামেলা ছাড়া। সোনাদিয়া দ্বীপটি মূলত কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার একটি ওয়ার্ড।

সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে কক্সবাজার আসতে হবে। কক্সবাজার লাবনী পয়েন্ট বা মেইন বীচে আসতে হবে অর্থাৎ আপনাকে একেবারে সাগরের পাড়ে চলে আসতে হবে।

এখানে আপনি সোনাদিয়া যাওয়ার জন্য স্পীড বোট পাবেন। স্পীড বোটে জন প্রতি ভাড়া পড়বে ৩০০/৪০০ টাকা করে আসা যাওয়া। আপনাকে যে বোটে যেতে হবে সেই বোটেই আবার ফিরে আসতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আপনি ভ্রমণ করার সময় বেশি পাবেন না। আর যদি স্পীড বোট রির্জাভ করেন তাহলে সারাদিন দ্বীপে থেকে যেতে পারবেন।

তবে খাবারের রুচিসম্মত তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় আপনাকে কক্সবাজার থেকে দুপুরের খাবার নিয়ে যেতে হবে।

কক্সবাজার থেকে সরাসরি সোনাদিয়ায় গেলে সময়ের কারণে আপনাদের ম্যানগ্রোভ বন ভ্রমন করা নাও হতে পারে।


আরো পড়ুনভ্রমণে যাওয়ার আগে যে কয়টি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন


আর যদি মহেশখালী হয়ে সোনাদিয়া যান সে ক্ষেত্রে আপনি ম্যানগ্রোভ বনটা আগে ভ্রমন করতে পারবেন। এই বন ভ্রমন করলে আপনার অর্ধেকটা সুন্দরবন ভ্রমনের অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে

কক্সবাজার থেকে মহেশখালী হয়ে সোনাদিয়া যেতে আপনার জনপ্রতি খরচ হবে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আসা যাওয়া। তবে এ যাত্রায় আপনি মহেশখালীও ভ্রমণ করতে পারবেন।

সোনাদিয়া বা মহেশখালীতে রাত্রীযাপন করার ভালো কোন হোটেল রির্সোট নেই তাই সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আপনাকে আবার কক্সবাজার ফিরে আসতে হবে।

আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও নিশ্চিত করতে আমরা আপনার ভ্রমনের থাকা খাওয়া সহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকি। এ ক্ষেত্রে আমাদের ট্যুরিজম কোম্পানী অত্যান্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে।


সম্পর্কিত পোস্ট: