অবসরে দেখতে পারেন বিশ্বসেরা কিছু অ্যানিমেশন মুভি

animation movieঅ্যানিমেশন মুভি দেখা সব সময়ই মজার। তবে মুভিগুলো যদি সিরিজের হয় তবে মজা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সিরিজ অ্যানিমেশনের বৈশিষ্ট্য হল মুভিগুলো এমন এক জায়গায় শেষ হবে এরপরের কাহিনী না জানা পর্যন্ত আপনার রাতের ঘুম গায়েব হয়ে যাবে !

নিচে কয়েকটি বিশ্বসেরা অ্যানিমেশন মুভি সিরিজের ছোট্ট করে রিভিউ দিলাম। যারা দেখেন নি, আজই দেখতে বসে যান-

Tinker Bell: ছোট্ট এক পরী টিংকার বেল। চঞ্চল, দুরন্ত, অফুরন্ত প্রাণ শক্তির অধিকারী। নিজের চটপটে স্বভাবের জন্য সব সময়ই কোন না কোন বিপদে পড়ে সে। তবে তার আছে কিছু অকৃত্রিম বন্ধু। বন্ধুদের সহায়তায় সে ঠিকই নিজেকে বিপদ থেকে বের করে আনে। বিখ্যাত চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Disney-র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান DisneyToon Studios এর ব্যনারে নির্মিত Tinker Bell সিরিজটি মূলত বাচ্চাদের জন্য নির্মিত একটি ফ্যান্টাসি অ্যানিমেশন মুভি সিরিজ। এখন পর্যন্ত এই সিরিজের ছয়টি মুভি রিলিজ হয়েছে। ২০০৮ সালে নাম ভূমিকায় রিলিজ হওয়া Tinker Bell ব্লকবাস্টার হিট হওয়ার পর ডিজনি একের পর এক এর সিক্যুয়েল বের করতে থাকে। ২০০৯ সালে Tinker Bell and Lost Treasure, ২০১০ এ Tinker Bell and the Great Fairy Rescue, ২০১১ তে Tinkerbell and the Mysterious Winter Woods এবং ২০১২ তে Secret of the Wings বাজারে আসে। ২০১৩ তে ডিজনী তাদের বিগ প্রজেক্ট Frozen নিয়ে ব্যস্ত ছিল বিধায় এই সিরিজের কোন মুভি রিলিজ হয় নি, তবে ২০১৪ তে আবার ডিজনী নিয়ে আসে এই সিরিজের পরবর্তী মুভি The Pirate Fairy. বাচ্চাদের মাঝে টিংকার বেল অসম্ভব জনপ্রিয় একটি ক্যারেক্টার। বড়রাও এই সিরিজটি সম উৎসাহে দেখেন।

Kung Fu Panda: বিশ্বব্যাপী আরেক জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ হল কুংফু পান্ডা। চাইনিজ কুংফুকে মূল উপজীব্য করে এই সিরিজটি নির্মাণ করেছে DreamWorks Animation Skg. এক পেটুক পান্ডাকে ঘিরে এই ছবির কাহিনী বিস্তৃতি লাভ করেছে যে কিনা বাবার দোকানে নুড্যুলস বিক্রয় করেই তুষ্ট ছিল কিন্তু ভাগ্যক্রমে দেশরক্ষার স্পেশাল বাহিনী ‘ড্রাগন ওয়ারিঅরস’ এ এসে পড়ে। তারপরই কাহিনী ভিন্ন দিকে মোড নেয়। প্রচন্ড হাসির এই সিরিজটির এখন পর্যন্ত দুইটি সিক্যুয়েল বের হয়েছে- ২০০৮ সালে Kung Fu Panda আর ২০১১ তে Kung Fu Panda 2. ২০১৫ সালে এই সিরিজের তৃতীয় মুভিটি রিলিজ হওয়ার কথা আছে।

Despicable Me: ডেসপিক্যাবল মি হল এমন একটি অ্যানিমেশন সিরিজ যেখানে আছে সায়েন্স প্রজেক্ট, এডভেঞ্চার, চুরি, প্রেম, সন্তানের প্রতি বাবার ভালবাসা, বিশ্বস্ততা এবং অ্যাকশন। এই সিরিজটি তৈরি করেছে Illumination Entertainment এবং ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে ছিল Universal Movies. ২০১০ সালে এই সিরিজের প্রথম মুভি Despicable Me এবং ২০১৩ তে দ্বিতীয় মুভি Despicable Me 2 রিলিজ করা হয়।

How To Train Your Dragon: ২০১০ সালে রিলিজ পাওয়া How to train your dragon মুভিটিকে সর্বকালের সেরা ৫টি অ্যানিমেশন মুভির একটি বলে গণ্য করা হয়। DreamWorks Animation এর ব্যানারে নির্মিত এই মুভির নায়ক হিক্ক্যপ একজন ভাইকিং, ড্রাগনদের সাথে যুদ্ধ করেই যাদের বসবাস। টুথলেস নামক এক নাইট ফিউরি ড্রাগনকে বস মানিয়ে সে ভাইকিংদের ৩০০ বছরের ইতিহাসকেই বদলে দেয়। ভাইকিংরা ড্রাগনদের হন্তারকের পরিবর্তে হয়ে উঠে তাদের রক্ষক। ২০১৪ সালে মুক্তি পায় এই সিরিজের দ্বিতীয় মুভি How To Train Your Dragon 2.

Cloudy With Chance Of Meatballs: ফ্লিন্ট, একজন বিজ্ঞানী। সে চায় এমন কিছু উদ্ভাবন করতে যা তার শহরের কাজে লাগবে। কিন্তু তার বেশিরভাগ উদ্ভাবনই হিতে বিপরীত হয়ে যায়। তার সবচেয়ে মহান আবিষ্কার হল মিটবলস। খাওয়ার নিয়ে যাতে কখনো কাউকে কষ্ট করতে না হয় সেজন্যই মিটবলস তৈরি করা হয়েছিল। যার কাজ হচ্ছে ইলেকট্রিক এনার্জিকে ব্যবহার করে ফুড সাপ্লাই করা। উদ্দেশ্য মহৎ কিন্তু মেয়রের ভুলে শহরে খাদ্যের বন্যা দেখা দেয়। তখন মিটবলসকে বন্ধ করতে শুরু হয় আরেক অভিজান। Sony Entertainment Ltd. এই সিরিজটি পরিচালনা করে। এখন পর্যন্ত এই সিরিজের দুইটি মুভি রিলিজ পেয়েছে। দ্বিতীয় মুভিটিতে মিটবলস কি করে নতুন আরেকটা ফুড কমিউনিটি গড়ে তুলে তা দেখানো হয়। সিরিজের প্রথম মুভিটি ছিল মিটবলস ধ্বংস করার মিশন আর দ্বিতীয় মুভিতে ছিল তাকে রক্ষা করার মিশন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।