আপনার সন্তানের ভর্তি পরীক্ষার সময়গুলোতে মনে রাখবেন যা

children-class

আপনার ছোট্ট সোনামণি বড় হয়ে উঠার সাথে সাথে আপনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় যা তা হল সন্তানের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আর সুন্দর পরিবেশের স্কুল নির্বাচন করা।

আর দায়িত্ব কেবল স্কুল নির্বাচন করা পর্যন্তই শেষ হয়ে যায়না।

বর্তমান সময়ের এই প্রতিযোগিতার ভিড়ে আপনার সন্তানকে একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা আর যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ জয় করে বিজয়ের হাসি হাসা একই ব্যাপার।

বললে খুব একটা ভুল হবে না যে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার সময়গুলোতে  আপনার বাচ্চার থেকে আপনাকেই বেশী পরিশ্রম ও মেধা খরচ করতে হবে।

আর তবেই হয়তো আপনার সন্তান জায়গা করে নিতে পারবে কোন ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

আসুন সন্তানদের স্কুলে ভর্তি নিয়ে বিপাকে ভরা বাবা মায়ের জন্য খানিকটা স্বস্তি দিতে আজ কিছু পরামর্শ প্রদান করা যাক। সেটা স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার সময়গুলোতে বাবা মায়ের জন্য হয়তো সাহায্যকারী হবে।

*সবার প্রথমে আপনার সন্তানকে যে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করাতে চান সেগুলোর একটা তালিকা প্রস্তুত করুন।

আর সম্ভব হলে নিজে গিয়ে সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একবার ঢু মেরে আসুন। দেখে আসুন আদৌ সেখানকার পরিবেশ আপনার সন্তানের জন্য উপযুক্ত কিনা।

আপনি আগে নিজে আশ্বস্ত হয়ে তারপর সন্তানকে সেখানে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করুন।


আরো পড়ুনযখন আপনার জুনিয়র স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত


*আপনার বাচ্চার স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার পড়াশোনার ধরণ সম্পর্কে আগে নিজে ধারণা নিয়ে নিন। সাধারণত সব স্কুলেই বাচ্চাদের পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ একই রকম হয়ে থাকে।

যেমন- সহজ যোগ বিয়োগ, স্বরবর্ণ, ইংরেজি অ্যালফাবেট ও ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত গণনা।

আর ছোট ছোট ছড়া ও সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন উত্তর। স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার আগে আপনার সন্তানকে সেই জিনিসগুলো ভালোভাবে আয়ত্ব করতে শেখান।

*আপনার বাচ্চাকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার সময় যদি সে পড়াশোনার ব্যাপারে দুর্বলতা প্রকাশ করে তবে তাকে বকাঝকা করবেন না।

এতে তার মনোযোগ শক্তি নষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে যাবে। আর বর্তমান সময়ে ভালো পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস অনেক বড় একটা ব্যাপার আপনার বাচ্চার স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য।

তাই আপনি আপনার বাচ্চাকে পড়াশোনায় বকে নিরুৎসাহিত না করে বরং বুঝিয়ে বলে উৎসাহিত করুন।

*স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শুধু শুধু অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে নিজের মাথা খারাপ করার সাথে বাচ্চার মাথায় অতিরিক্ত প্রেশার দিয়ে ফেলবেন না।

এতে করে আপনার বাচ্চা পড়তে বসে ভালো করার চেয়ে খারাপ বেশী করবে। আর আপনি নিজেও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বেন। তারচেয়ে ভালো হয় অল্প অল্প করে বাচ্চাকে স্কুলের পরীক্ষার জন্য তৈরি করা।


আরো পড়ুন– স্কুল উপযোগী শিশুদের জন্য অভিভাবকদের কিছু করণীয়


*ইদানিং অনেক স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার সময় ভাইবা সিস্টেমে বাচ্চাদের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তাই একজন সচেতন বাবা মা হিসেবে আপনার করণীয় হবে বাচ্চাকে ঘরে বসে ভাইবার জন্য রেডি করা।

আপনি নিজে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আপনার বাচ্চার পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

এতে করে আপনার বাচ্চা ঘরে থেকেই বেশখানিকটা নিজেকে পরীক্ষার জন্য তৈরি করে নিতে পারবে।

*স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার দিন বাচ্চাকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে তৈরি করে দিন। খেয়াল রাখবেন সে যেন কোনভাবেই কোন ব্যাপারে মন খারাপ না করে ফেলে বা নিজেকে গুটিয়ে না ফেলে।

একবার যদি সে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে তাহলে কিন্তু এর প্রভাব পড়বে স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার উপর। তাই বাচ্চার মন ভালো রাখার চেষ্টা করুন আর তাকে আত্মবিশ্বাস দিতে থাকুন।

বাচ্চাকে মানুষ করতে চাইলে আগে নিজেকে ধৈর্য ধারন করতে শিখতে হবে। অন্যথায় কখনই আপনি আপনার বাচ্চার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবেন না।



সম্পর্কিত পোস্ট: