ভার্চুয়াল জগত নয়, বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলো রক্ষা করবেন যেভাবে

rltnদুর্বল সামাজিক সম্পর্ক (social relationship) আর প্রতিদিন ১৫টি সিগারেট খাওয়ার কুফল একই। Brigham Young University’র গবেষণায় জানা গেছে এমনটাই। প্রশ্ন করতে পারেন, এই যে ফেসবুক, ইমেইল, মোবাইলে সারাদিন সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি এসব কি কিছুই না? না, এসব কখনোই সত্যিকার সামাজিক সম্পর্ক নয়। এসবের উদ্ভাবন করা হয়েছিলো একজন মানুষের সাথে অন্য একজন মানুষের যোগাযোগ সহজ করে তোলার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এখন ফেসবুক, স্মার্ট ফোন, ইমেইল এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, কমে গেছে মানুষের সাথে মানুষের সংস্পর্শে থাকার সময়টা।

এই লেখায় এমন কিছু বিষয় তুলে ধরেছি যা আপনার আশেপাশের মানুষের সাথে সত্যিকার সামাজিক সম্পর্ক(social relation) রক্ষা করতে আপনাকে সাহায্য করবে।

১.শুরু করুন নিজের বাসা থেকে (Start from your home)

কখনো লক্ষ্য করেছেন, ক্লাস বা অফিস থেকে ফেরার পর আপনি ঠিক কতটা সময় নিজের পরিবারকে দেন আর কতটা ফেসবুকে? নিজের বাবা-মা এর সাথে বসে শেষ কবে প্রাণ খুলে কথা বলছেন তা কি মনে করতে পারছেন? অনেকগুলো পরিবার নিয়েই তৈরি হয় সমাজ। তাই সামাজিকতা রক্ষা করতে চাইলে আগে পারিবারিক সম্পর্কগুলো মজবুত করুন। সময় দিন নিজের পিতা-মাতা, ভাই-বোনদের। ইন্টারনেটের অচেনা বন্ধুদের চেয়ে এরা অনেক বেশি আপন।

২. লিখে নিন কখন কার সাথে যোগাযোগ করবেন (Write It Down)

আমাদের এমন কিছু আত্মীয় এবং পরিচিত থাকে যাদের সাথে কোন বিয়ে বা ধর্মীয় উপলক্ষ ছাড়া দেখা হয় না। এমন কিছু আত্মীয়ের নাম লিখে ফেলুন একটি কাগজে, পাশে লিখুন প্রতি মাসের কোন সময়টায় তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। প্রথমদিকে কথা বলতে হয়তো একটু অস্বস্তি লাগবে, তারাও কিছুটা অবাক হবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখবেন আপনার সাথে তাদের সম্পর্ক অনেকটাই মজবুত হয়ে উঠেছে। একই ভাবে তৈরি করুন স্কুল, কলেজের পুরানো বন্ধুদের তালিকাও।

৩. “আবার দেখা হবে” কথাটি বাস্তবে পরিণত করুন (Make It Happen)

অনেক সময়ই বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচয় হয় আমাদের। বিদায় নেয়ার সময় “আবার দেখা হবে” কথাটিও বলা হয় প্রায়শই। কিন্তু আসলেই কি দেখা হয়? এই কথাটিকে বাস্তবে পরিণত করার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকেই। প্রতি মাস বা ২-৩ মাসে একবার হলেও তাদের সাথে দেখা করুন যাদের আপনি “আবার দেখা হবে” কথাটি বলেছেন।

৪. পারিবারিক কলহ ভুলে যান (Let Go of Grudges)

প্রায় সবারই এমন কিছু আত্মীয় থাকে যাদের সাথে ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়েছে। কোথাও দেখা হলে মুখ ফিরিয়ে নেন উভয় পক্ষই। ধীরে ধীরে ভুলে যান এসব মনোমালিন্যের কথা। ক্ষমা করে দিন তাদের, এবং আবার মেলামেশা শুরু করুন। Dare to Forgive বইয়ের লেখক DR. Hallowell বলেছেন “Forgiveness is a gift you give yourself, as it frees you from the toxins of chronic anger and resentment,”

৫. সারপ্রাইজ দিন কাছের মানুষদের (Surprise Them)

প্রতিদিনের গতানুগতিকতা থেকে বের হয়ে আসুন, সারপ্রাইজ দিন কাছের মানুষদের। আপনার কোন প্রিয় আত্মীয়ের বাসায় না জানিয়ে উপস্থিত হোন। সাথে নিন তার প্রিয় খাবারটি। এছাড়া সারপ্রাইজ গিফট দিন মা-বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। সপ্তাহে বা মাসের কোন একদিন সবাইকে কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে নিয়ে যান। আপনার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এই কাজগুলো।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।