প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরোয়া ভাবে চুলের যত্ন ও কন্ডিশনিং করুন

Hair Care Tipsসুন্দর ও ঝলমলে চুল ব্যক্তিকে যেমন উজ্জ্বল করে তেমনি আত্মবিশ্বাসীও করে। এমন চুল পেতে কে না চায়? তাই তো যতই দামী হোক না কেন সেই হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট কিনতে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করিনা। কিন্তু তা ব্যবহার করে কি আমরা প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছি?
প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে ঘরোয়া ভাবে চুলের যত্ন ও কন্ডিশনার করা গেলে।টাকা যেমন সাশ্রয় হবে,সাথে চুল পাবেন ঠিক যেমন চান।

প্রাকৃতিক উপাদান ও ঘরোয়া ভাবে যা যা করণীয়

প্রকৃতির কিছু উপাদান দিয়ে ঘরে যখন নিজের হাতে নিজের চুলের ধরণ বুঝে যত্ন নিবেন। মনে প্রশান্তির পাশাপাশি কাংখিত ফল পেতে পারেন। যা কেনা প্রোডাক্ট দিতে পারে না। চলুন জানা যাক তেমন কিছু বিষয়।

কলা

কলাতে আছে পটাসিয়াম ও ভিটামিন “এ’। যা শুষ্ক চুলের জন্য বেশ উপকারী। ১টি পাকা কলা ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।তার সাথে ১/৪ কাপ দই,১টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি ভালোভাবে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর ভেজা মাথায় লাগাতে হবে। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

মেয়োনিজ

এটি তেল ভরপুর উপাদান যা নিষ্প্রাণ চুলের জন্য দরকারী। যা আর্দ্রতা দেয় এবং দূর্বল ও খসখসে ভাব দূর করে। ১কাপ মেয়োনিজ, ১/৩ কাপ দই, ১/৩ কাপ নারিকেল বা অলিভ অয়েল,২টেবিল চামচ মধু একটি বাটিতে নিয়ে সব উপকরণ মিশিয়ে ভেজা চুলে লাগাতে হবে। ভালো হয় যদি কন্ডিশনিং ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা যায়। ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

ডিম ও দই

প্রোটিন সমৃদ্ধ কন্ডিশনার হিসেবে ডিম ও দইয়ের জুড়ি নেই। চুলের পরিমাণ অনুযায়ী ডিম ও দইয়ের মিশ্রণ বানিয়ে তা তালুতে ঘষে লাগাতে হবে। ৫-১০ মিনিট পর ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আলমন্ড অয়েল

রুক্ষভাব দূর করতে আলমন্ড অয়েল উপকারী। চুলের পরিমাণ অনুযায়ী অল্প আলমন্ড অয়েল বাটিতে নিয়ে ৪০ সেকেন্ড গরম করে চুলে সমান ভাবে লাগাতে হবে। ৩০ মিনিট পর স্বাভাবিক ভাবে শ্যাম্পু করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

অলিভ অয়েল ও মধু

রোদে পোড়া ভাব দূর করতে ১/২ কাপ মধু, ১-২ টেবিল চামচ; অলিভ অয়েল, ১-২ টেবিল চামচ ডিমের কুসুম দিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে চুলে লাগাতে হবে।২০ মিঃ পর হালকা কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

নারিকেল তেল ও ভিনেগার

এটি হলো সবচেয়ে ভাল কন্ডিশনিং উপাদান। চুলের গোড়ায় গোড়ায় ভালো করে তেল লাগিয়ে।কিছু সময়ের জন্য গরম তোয়ালে পেছিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন শ্যম্পু করে ভালো ভাবে পরিষ্কার করে সাইডার ভিনেগার (cider vinegar) দিয়ে আরো একবার ধুয়ে নিতে হবে।

আরো যা যা করণীয়

  • বেশি পানি পান করা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।
  • অপরিচ্ছন্নতার কারণে চুল পড়া ও মাথায় চুলকানি হয়। তাই অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • গরম গরম পানিতে মোটেও চুল ধোয়া উচিত না।
  • ভেজা চুল আচঁড়ানো এবং টাইট করে বাধা উচিত না ।
  • সালফেট আছে এমন শ্যাম্পু এড়িয়ে চলা।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।