অনুপ্রাণিত হতে শিখুন নেতিবাচকতা থেকে

inspired

একজন মানুষের মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে নেতিবাচক সমালোচনায় যেমন যথেষ্ট।

একইভাবে নিজে মনের মধ্যে নেতিবাচকতা পুষে রাখলে তা তিলে তিলে আপনাকে শেষ করে দিতে যথেষ্ট।

আপনি যদি নেতিবাচকতা থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসতে পারেন জীবনে কখনো আগে বাড়তে পারবেন না। আর এজন্য নেতিবাচকতার কাছে হার না মেনে বরং নেতিবাচকতা থেকে অনুপ্রাণিত হতে শিখুন।

ব্যাপারটা কিছুটা এমন যে “মাছের তেলেই মাছ ভাজা।”

নেতিবাচকতা আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করার আগেই আপনি নেতিবাচকতাকে ইতিবাচকতায় রূপান্তর করুন।

নেতিবাচকতা আপনার দুর্বলতা এটা না ভেবে ভাবুন নেতিবাচকতা আপনার জন্য একটা সুযোগ নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার।

তাই আসুন আজ থেকেই নেতিবাচকতা থেকে নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে শিখি।

* “Valuable lessons sometimes come as gifts in ugly wrappers called disappointments.”

হতাশা নেতিবাচকতার একটি অন্যতম দিক। একজন মানুষকে কেবলমাত্র হতাশায় অর্ধেক মৃত বানিয়ে ফেলতে পারে।

আপনি হতাশার কাছে বলি হবেন না, ভেবে দেখুন এই হতাশা আপনার কাছ থেকে কি কি কেড়ে নিয়েছে।

এবার সেইসব কেড়ে নেওয়া জিনিসগুলো আবার ফিরে পেতে হতাশার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।

দেখবেন পরবর্তীতে আবার যদি আপনার জীবনে হতাশা দেখা দেয় তাহলে আপনি সবার আগে হতাশাগ্রস্থতার লাভ ক্ষতি নিয়ে ভাবতে বসে যাবেন আর এই সময়টাই হতাশা আপনাকে আঁকড়ে ধরতে পারবে না।


আরো পড়ুনযখন সবকিছু আপনার সাথে খারাপ হয় তখন অনুপ্রাণিত হবেন কিভাবে?


* আপনাকে কেউ বলতেই পারে যে আপনি খারাপ, আপনি অবিবেচক, আপনি নির্বোধ। নেতিবাচক সমালোচনা শুনতে কারোরই ভালো লাগেনা।

কিন্তু কেউ আপনার নেতিবাচক সমালোচনা করলে তো আপনি তার মুখে হাত চাপা দিতে পারেন না।

তাই এটা থেকে বরং কিছু শিখতে চেষ্টা করুন। ভালো করে লক্ষ্য করুন আপনার দোষ ধরা ব্যক্তিটি ঠিক কি কারণে আপনার উপর এতোটা বিরক্ত।

এবার সেই কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হন। এভাবে সহজেই নেতিবাচকতা থেকে নিজেকে অনুপ্রাণিত করা যায়।

* আপনি ভীষণ বদরাগী এটা আপনার নেতিবাচক দিক। আর স্বাভাবিকভাবে আপনার এই বদরাগী স্বভাব নেতিবাচকতা হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

আপনি কি এখন এটা নেতিবাচক দিক জেনেও চুপচাপ সবটা মেনে নেবেন কিংবা সহ্য করে যাবেন?

না, একদম এমন করা চলবে না। আপনাকে এই বদরাগী স্বভাবের খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসতে হবে। এর জন্য যা করতে হবে তা হল নিজেকে আগে স্থির করে নিয়ে বদরাগী হওয়ার কুফল সম্পর্কে জানতে হবে।


আরো পড়ুননিজেকে ভালোবাসুন ও অনুপ্রাণিত করুন


যখনই আপনি আপনার এই নেতিবাচক দিকের কুফল সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা আনতে সক্ষম হবেন তখন থেকে আর এই বদরাগী স্বভাব আপনাকে আছন্ন করতে পারবেনা।

এভাবে আপনি একটু মন থেকে চাইলে নেতিবাচকতা থেকে নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন।

আপনি নিজেকে একজন জ্ঞান আহরক হিসেবে ভাবতে শিখুন, যে কিনা চারপাশের সবকিছু থেকে কিছুনা কিছু শিখতে আগ্রহী।

তাহলেই দেখবেন একটা সময় নেতিবাচকতা থেকেও আপনি অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

নেতিবাচকতা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছেনা উল্টো প্রেরণাদাত্রীর ভূমিকায় থেকে আপনাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করে যাচ্ছে।


সম্পর্কিত পোস্ট: