যেসব কারণে বিয়ের আগে সঙ্গীর রক্তের গ্রুপ অবশ্যই জেনে নেবেন

Blood_Compatibility.svgবিয়ের (marriage)আগে পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন সংক্রান্ত যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে থাকি আমরা, কিন্তু জেনে নিতে ভুলে যাই সব চেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যটি- স্বামী-স্ত্রীর কার রক্তের গ্রুপ কি। আসুন জেনে নেয়া যাক এই বিষয়ে জরুরী কিছু পরামর্শ ও তথ্য।

রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জেনে নিন (know about blood group)

প্রধানত রক্তের গ্রুপ কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হল ABO system (A, B, AB ও O), আরেকটা হল Rh factor {Rh positive (+ve) ও Rh negative (-ve)} অর্থাৎ Rh factor ঠিক করবে রক্তের গ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে। তাহলে ব্লাড গ্রুপগুলো হলঃ A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve।

জেনে নিন, যদি ভিন্ন গ্রুপের রক্ত কারো শরীরে দেওয়া হয় তাহলে কী হবে? (what is the affect of wrong blood transfusion)

যখন কোনো Rh নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে Rh পজেটিভ গ্রুপের রক্ত দেয়া হয় তখন প্রথমবার সাধারণত কিছু হবে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি (antibody)তৈরী হবে যার ফলে যদি কখনো রোগী আবার পজেটিভ ব্লাড নেয় তাহলে তার রক্ত কণিকাগুলো (blood cell) ভেঙ্গে যাবে, এর কারণে অনেক সমস্যা হবে। যেমন- জ্বর, কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি। এই সমস্যাকে চিকিৎসা শাস্ত্রে বলা হয় ABO incompatibility.

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কী রকম হওয়া দরকার?(what should be the blood group of husband and wife)

  • স্বামীর রক্তের গ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ ও পজেটিভ হতে হবে।
  • আর যদি স্বামীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে।
  • তবে স্বামীর রক্তের গ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে কোনো ভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না।

যদি স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজেটিভ হয় আর স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে কী সমস্যা হব? রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোন সমস্যা হয় না। তবে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয় তাহলে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাধা দেয় বা জাইগোটমেরে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়।

যদি স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজেটিভ হয় তাহলে সাধারণত বাচ্চার রক্তের গ্রুপ ও পজেটিভ হবে। যখন কোনো নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের মা ধারণ করবে পজেটিভ Fetus বা ভ্রুণ, তখন সাধারণত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ Fetus এর ব্লাড placental barrier ভেদ করে এবং placental displacement এর সময় মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। মায়ের শরীরে ডেলিভারির সময় যে রক্ত প্রবেশ করবে, তা ডেলিভারি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরী করবে।

যখন মা দ্বিতীয় সন্তান বহন করবে, তখন যদি তার fetus এর ব্লাড গ্রুপ পুনরায় পজেটিভ হয়। তাহলে মায়ের শরীরে আগে যেই Rh এন্টিবডি তৈরী হয়েছিলো সেটা placental barrier ভেদ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। আর যখন fetus এর শরীরে Rh antibody ঢুকবে তখন fetus এর লোহিত রক্ত কণিকার (RBC)এর সাথে agglutination হবে, যার ফলে RBC ভেঙ্গে যাবে। ফলে বাচ্চাটি মারা যাবে। একে মেডিকেল টার্ম এ “Rh incompatibility” বলে।

তাই বিয়ের সময় অন্য সব কিছুর সাথে সাথে বর কনে দুজনেরই রক্তের গ্রুপটি জেনে নিন।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।