নারীর সুস্থতার জন্য যে কারণে ফ্যাট গ্রহণ করা জরুরী

fatবর্তমানে আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে পাড়ি দিচ্ছি যেখানে জিরো ফিগারের কদর অনেকখানি বেশী। নিজেকে একটু স্লিম আর শুকনো দেখানোর জন্য অনেকেই অনেক রকম অসাধ্য সাধন করছে। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা যে নারীর সুস্থতার জন্য শরীরে সামান্য কিছুটা চর্বি বা ফ্যাট ভীষণ জরুরী। নারীদের শরীরে পুরুষের তুলনায় চর্বি থাকাটা প্রয়োজন। নারীর স্বাভাবিক পিরিয়ড চক্র, সন্তান ধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান গর্ভে থাকাবস্থায় ভ্রূণের সুষ্ঠু বিকাশে মায়ের স্বাস্থ্যবতী হওয়াটা অত্যন্ত দরকারি। রোগা নারীরা সন্তান জন্মদানের পর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন। তবে এটাও সত্যি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি নারী স্বাস্থ্য এর জন্য ভালো নয়, এ কারণে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট আকারের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতোসব কারণেই নারীর সুস্থতার জন্য ফ্যাট গ্রহন করা প্রয়োজন।

১) ফ্যাট শরীরের ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করেঃ

ফ্যাট আমাদের শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। পুরুষের শরীর স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশী উষ্ণ থাকে। নারীদের শরীর তুলনামূলকভাবে কম উষ্ণ আর তাই তাদের ফ্যাট গ্রহন করা জরুরী। ফ্যাট শরীরে ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে। ফ্যাট ক্ষুধা বৃদ্ধি করে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।

২) ফ্যাট শরীরের শক্তি সঞ্চয় করে রাখেঃ

ফ্যাট শরীরের শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। অনেক সময় দেখা যায় নারীরা তাদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্যালোরি গ্রহণ করে না, সেক্ষেত্রে ফ্যাট নারী দেহের অব্যবহৃত শক্তি সঞ্চয় করে রাখে, তাই নারীদেহে ক্যালোরি সল্পতা দেখা দিলে ফ্যাট সেই ক্যালোরি সল্পতা পূরণ করে।

৩) ত্বকের কমনীয়তা বাড়াতে ফ্যাটঃ

নারীর ত্বকের কমনীয়তা ধরে রাখতে ফ্যাট খুব জরুরী। হালকা মোটা মেয়েদের ত্বক সুন্দর আর মসৃণ হয়, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে আর স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সজীব ভাব বজায় রাখে। অতিরিক্ত স্লিম নারীদের ত্বক খসখসে হয়ে যায়, ত্বকের স্বাভাবিক তেলতেলে ভাব নষ্ট হয়ে যায়। আর তাই সুন্দর মসৃণ ত্বকের জন্য ফ্যাট জরুরী।

৪) সুস্থ মাতৃত্ব এর জন্য ফ্যাটঃ

একটি সুস্থ আর স্বাস্থ্যবান সন্তান জন্মদানের জন্য মায়ের স্বাস্থ্যবতী হওয়া আবশ্যক। একজন স্বাস্থ্যবতী মা’ই কেবল একটি স্বাস্থ্যবান সন্তান জন্ম দিতে পারে। সন্তান ধারণ থেকে শুরু করে সন্তান জন্মদানের পর মায়ের নিজ স্বাস্থ্য রক্ষা ও সন্তানকে স্তন্যদান প্রতিটি ধাপে মায়ের সুস্থতার কোন বিকল্প নেই। আর সে কারনেই নারীর ফ্যাট গ্রহণ করা দরকারি।

যেসব খাদ্য আমাদের শরীরে ফ্যাট বাড়াতে সাহায্য করেঃ

ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার প্রচুর ফ্যাট থাকে। মাছ এবং সীফুড ওমেগা-৩ একটি বড় উৎস। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় দুধ, ডিম, মাংস ও কর্ণ জাতীয় খাবার রাখুন। এছাড়া যেসব নারীরা সন্তান নিতে আগ্রহী তাদের এখন থেকে ওমেগা-৩ গ্রহন করা দরকার। কারণ ওমেগা-৩ তে প্রচুর ফ্যাট থাকে যা কিনা আপনার সন্তানের ডি এইচ এ (DHA) গঠনে সহায়তা করে।

যেসব নারীরা সন্তান নিতে আগ্রহী তাদের এখন থেকে ওমেগা-৩ গ্রহন করা দরকার। কারন ওমেগা-৩ তে প্রচুর ফ্যাট থাকে যা কিনা আপনার সন্তানের ডি এইচ এ(DHA)  গঠনে  সহায়তা করে। মাছ এবং সীফুড ওমেগা-৩ একটি বড় উৎস। ফ্যাট বাড়াতে ফাস্ট ফুড আর রেস্টুরেন্টের খাবারের জুড়ি হয় না। তাছাড়া প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় দুধ, ডিম, মাংস ও কর্ণ জাতীয় খাবার রাখুন।

আমাদের বর্তমান আধুনিক সমাজব্যবস্থা এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি করেছে যেখানে মানা হয় যে একজন নারী যতক্ষণ না পেন্সিলের মতো শুকনা হচ্ছে, ততক্ষণ সে সুন্দরী বা ফ্যাসান সচেতন হিসেবে আখ্যায়িত হবেন না। এটা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং এমন কি বিপজ্জনক ধারণা। নারীদের স্বাভাবিক কাজ কর্ম ও জীবন যাপনের জন্য কিছুটা ফ্যাট অবশ্যই প্রয়োজনীয়।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।