যেভাবে আপনার সন্তানকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলবেন

How-to-Teach-Kids-About-Climate-Changeএখনকার সময়কে বলা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। প্রতিদিনই আমাদের দেখা পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায়। তাই এ সময়ে বিজ্ঞানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার অর্থ হচ্ছে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা। আর তাই প্রতিটি বাবা-মায়ের উচিত ছোটবেলা থেকেই তাদের সন্তানকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তোলা। এরকম নয় যে শিশুটিকে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানই পড়তে হবে। কিন্তু শিশুদের জানার ব্যপারে আগ্রহী করে তোলার জন্য আকর্ষণীয়ভাবে বিজ্ঞানকে উপস্থাপন করার বিকল্প নেই।

(১) বাসায় রাখুন মজার মজার বিজ্ঞানের বই ও ভিডিও
শিশুরা সব সময় প্রশ্ন করতে ভালোবাসে, কারণ তাদের বয়সটাই হচ্ছে নতুন কিছু শেখার। নতুন ও অজানা কিছু দেখলেই তারা সেটা নিয়ে বাবা-মাকে প্রশ্ন করে। আর এটা স্বাভাবিক যে, বাবা-মা সব কিছু জানবেন না। তাই বাসায় রাখুন বিজ্ঞান বিষয়ক ছবিযুক্ত মজার সব বই। হতে পারে তা গাছ, পাখি বা প্রাণী নিয়ে। শিশুরা নতুন কিছু দেখে আসলে তাদেরকে বইয়ের ছবিগুলো দেখাতে পারেন। এতে যেমন তারা নতুন কিছু শিখতে পারবে, একইভাবে আগ্রহ জন্মাবে বই পড়ার প্রতিও।

(২) শিখতে বাধ্য করবেন না
শিশুদেরকে তাদের নিজেদের মতো করেই শিখতে দিন, আনন্দ নিতে দিন। জোর করে তাদের কোন কিছু শেখাতে যাবেন না। এতে তারা তো কিছু শিখবেই না, উলটো শেখার আগ্রহটাই নষ্ট হয়ে যাবে। যা তাদের ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শিশুদের মস্তিষ্ক নিজ থেকেই বিকশিত হয় ও বিভিন্ন নতুন জিনিস শেখার জন্য প্রস্তুত হয়। তাই নতুন কোন বিষয় জানার ক্ষেত্রে জোর জবরদস্তি নয়, বাবা-মায়ের সহযোগিতাটাই মুখ্য।

(৩) শেখানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনুন
মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই কিন্তু আলাদা মন-মানসিকতার অধিকারী। তাই তাদের শেখার আগ্রহের ধরণটাও ভিন্ন হবে। তাই একজন অভিভাবক হিসেবে সন্তানকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনাকে এ বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়া বয়সের সাথে সাথে শিশুদের শেখার পদ্ধতিতেও আসতে পারে পরিবর্তন। যেমন, একটি শিশু তার এক থেকে তিন বছর বয়সে হয়তো নতুন নতুন জিনিস দেখে শেখে, সে শিশুটিই এর পরের বছরগুলোতে গল্পের বইতে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। আর এভাবেই অভিভাবকদেরও উচিত তার সন্তানকে বয়সের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিষয় শিখতে উদ্বুদ্ধ করা।

একটি দেশের উন্নয়ণে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরত্ব অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি বিজ্ঞানমনস্ক ভবিষ্যত প্রজন্মই পারবে এদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় দেশ থেকে অপসারিত হবে সব কুসংস্কার ও কুশিক্ষা।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।