ডাবল চিন থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে


বয়স বেশি হয়নি অথচ অনেকেরই থুতনির নীচে মানে গলায় চর্বির একটা স্তর জমা হয়। দেখে মনে হয়ে চিবুকের নীচে আরেকটি চিবুক। একেই বলা হয় “ডাবল চিন” (double chin) । কথাটি আরেকটু বুঝিয়ে বলি, আমাদের চিবুকের অধীনে থাকা চামড়ার ইলাস্টিন যখন কোলাজেন তন্তুর ভাঙ্গনের কারণে লুজ হয়ে যায় এবং তার স্থিতিস্থাপকতা হারায় তখন একটি ডাবল চিবুকের উদ্ভাবন হয়। সাধারণত, ডাবল চিন মূলত বয়সের কারণে হয় (natural aging process) । এমনকি অনেক বছর ধরে সূর্য এক্সপোজার বা জেনেটিক্স জনিত কারণে এমনটি ঘটতে পারে। আমরা এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সাধারণত মুখের ব্যায়াম করে থাকি। কিন্তু আমাদের অনেকেরই ব্যায়ামের প্রতি ভীষণ অনীহা আছে, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি অনীহা প্রকাশ করে তেমন কোন লাভ হবে না। বরং ব্যায়ামের পাশাপাশি আরও কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে যদি এই ডাবল চিন নামক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাহলে এর চেয়ে সুখবর কি আর কিছু আছে? এই উপায় গুলো ডাবল চিন প্রতিরোধের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

ডাবল চিন, ফোলা গাল আমরা কেউই পছন্দ করি না। যদি নিয়মিত ব্যায়াম করা যায় তাহলে শরীরের বাকি অংশের সঙ্গে মুখের মেদও ঝরে। ওজন বাড়লে মুখেও তার প্রভাব পড়ে। গাল ফুলে যায়, মুখ ভারী দেখায়, থুতনির কাছে বিশেষ করে মেদ জমে যায়।

অনেক সময় মেক আপ দিয়ে ঢাকা গেলেও সমাধান হয় না। ব্যায়ামের সাহায্যে (exercise) মুখ থেকে মেদ কমাবার সব থেকে সহজ ও নিরাপদ উপায়। তবে মনে রাখতে হবে শুধু মুখের ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয় পুরো শরীরের ওজনও কমানো প্রয়োজন।

কোন ধরনের ব্যায়াম করতে পারেন (exercises that you can do)

আপনি যে ধরণের বায়াম করেন তার মধ্যে কোন পরিবর্তন আনার দরকার নেই। যোগাসন বা জিম যা হোক না কেন তা বন্ধ করবেন না। শরীর থেকে মেদ ঝরানো জরুরী তবেই মুখের মেদ কমবে। আপনার ব্যায়ামের রুটিনের মধ্যে মুখের পেশিগুলি সচল ও তরতাজা রাখতে কয়েকটি বিশেষ ব্যায়াম যুক্ত করে নিন তাতেই হবে।

  • ব্যায়াম ১: সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে মাথা পেছনের দিকে হেলান যতক্ষণ না ঘাড়ে চাপ অনুভব করছেন। এবার চোয়াল বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ও ডান দিক থেকে বাঁ দিকে নড়াবার চেষ্টা করুন। দিনে ৫বার এই ব্যায়াম করলে ঘাড় ও গলার পেশিগুলি তাজা হবে।
  • ব্যায়াম ২: যতটা সম্ভব হয় মুখ বড় করে হা করার চেষ্টা করুন। যতক্ষণ না গালে, ঠোটে, থুতনিতে চাপ অনুভব করবেন। ১০ গুণে বিশ্রাম করুন। দিনে ৩বার করুন ৫মিনিট করে। এতে শুধু মুখের মাসল টোন হয় না রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে।
  • ব্যায়াম ৩: সোজা হয়ে বসুন চেয়ারে। আস্তে আস্তে মাথা পিছনের দিকে হেলিয়ে দিন। সিলিংয়ের দিকে সোজাসুজি তাকান। মুখ বন্ধ রেখে নিচের ঠোট উপরের ঠোটের উপর নিয়ে আসার চেষ্টা করুণ ১০ গুণে ছেড়ে দিন। দিনে ১০ বার করুন উপকার পাবেন।
  • ব্যায়াম ৪: ডাবল চিনের সমস্যা থাকলে চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। মাথা পিছনের দিকে হেলিয়ে সিলিং এর দিকে তাকান। এবার ঠোট বন্ধ করে সার্কুলার মোশনে ঘোরান। ২০ গুণে বিশ্রাম নিন। দিনে ৩বার ৫মিনিট করুন দেখবেন কিছুদিনের মধ্যে ডাবল চিনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  • ব্যায়াম ৫: মুখের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে যতটা সম্ভব জোরে চুষুন। ১০গুণে আঙ্গুল বার করে দিন। দিনে ১০বার করলে গালের ফোলাভাব অনেকটা কমে যাবে, দেখতেও রোগা লাগবে।
  • ব্যায়াম ৬: মাথা পিছনের দিকে হেলিয়ে হাতের তালু দিয়ে গালের উপর চাপ সৃষ্টি করুন। একই সঙ্গে যতটা সম্ভব মুখ বন্ধ করে হাসার চেষ্টা করুন। ১০মিনিট এই ব্যায়াম করতে পারলে গাল থেকে অতিরিক্ত মেদ কমে যাবে।
  • ব্যায়াম ৭: চোখ বন্ধ করে চোখের পাতায় আঙ্গুল রাখুন। চোখের পাতা নিচের দিকে ও সঙ্গে ভুরু উপরের দিকে তোলার চেষ্টা করুণ। এতে কপাল টোনড হবে প্রতিদিন ৫মিনিট।
  • ব্যায়াম ৮: অনেক সময় চোখের নিচে মেদ জমে যায় এই মেদ কমাতে চোখ বন্ধ করে চোখের মনি একবার উপরে তুলুন আবার নামান। মনে করবেন আপনি কিছু দেখার চেষ্টা করছেন। ১০মিনিট ধরে এই ব্যায়াম করতে হবে।
  • ব্যায়াম ৯: চোখ বন্ধ করে যতটা সম্ভব ভুরু উপরে তোলার চেষ্টা করুন। চোখ যেন খুলে না যায়। ১০গুণে বিশ্রাম নিন। প্রতিদিন ১০ মিনিট করুন।

তাহলে আজই ডাবল চিন (double chin) প্রতিরোধের যুদ্ধে নেমে যান। উপরোক্ত টিপস মেনে চললে জয়ী আপনি হবেনই। এগুলোর সঙ্গে নিয়মিত গলার ব্যায়াম করতে ভুলবেন না যেন।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।