ত্বকের মেছতা দূর করতে আপনার করনীয়

pigmentation

মেছতা! নামটি শোনার সাথে সাথে নিশ্চয় মুখে চিন্তার রেখা পরেছে। আসলে এই জিনিসটিই এমন যা কিনা আপনার মুখের সৌন্দর্য নিমিষেই নষ্ট করে দেই।

মেছতা সাধারণত বংশগত কারনেই বেশী হয়ে থাকে। তবে গ্রীষ্মকালে এটির সৃষ্টি হওয়ার মাত্রা বেশী বেড়ে যায়। সূর্য রশ্মির প্রভাবে ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন উৎপন্ন হয়।

এতে ত্বকের কিছু কিছু জায়গায় গাঢ় কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয় যা মেছতা নামে পরিচিত। মেছতা গাল, নাক, ঠোঁট এবং কপালে বেশী পরিমাণে হতে দেখা যাই। আমরা চাইলে ঘরোয়া ভাবে মেছতা থেকে মুক্তি পেতে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি।

ঘরোয়া ভাবে মেছতা থেকে মুক্তি পেতে আপনার করনীয়ঃ

  • মেছতা দূর করতে পেঁপে খুব কার্যকরী উপাদান। পেঁপেতে থাকা প্যাপাইন নামক এনজাইম ত্বকের উপরের মরা কোষ এবং রুক্ষতা দূর করে ত্বককে মসৃণ করে।পেঁপে পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেরতে হবে। এটি ত্বকে মেছতার দাগ কমাতে কাজ করবে।

    আরো পড়ুন- সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে যে ৫টি কারণে পেঁপে খাবেন


  • ত্বকে মেছতা দূর করতে ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে।  ভিনেগারের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে লাগালে মেছতার কালো দাগ দূর হয় ও ত্বক উজ্জ্বল হয়।
  • ত্বকের মেছতা দূর করতে আপনি নিশ্চিন্তে লেবু ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর রসে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের মেছতার দাগ দূর করতে খুব কার্যকরী।লেবুর রস সরাসরি বা তুলার বলে করে ত্বকে লাগালে দাগ হালকা করে মুখের রং উজ্জ্বল করে।

    আরো পড়ুনত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন লেবু


  • পেঁয়াজের রসের সাথে সমপরিমাণ অরগানিক ভিনেগার মিশিয়ে ত্বকের মেছতা আক্রান্ত স্থানে দিনে শুধু দুই বার লাগানোতেই মেছতা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আবার পেঁয়াজের স্লাইস করে সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগালেও কাজ হয়।
  • মুখের মেছতা হওয়া জায়গাতে অ্যালোভেরা জেল হাতে নিয়ে ঘষে দিয়ে সারারাত লাগিয়ে রাখলেও মেছতা দাগ দূর হয়। এভাবে এক সপ্তাহ নিয়মিত লাগিয়ে গেলেই মেছতার থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

আরো পড়ুন- যে ৫টি উপকারিতার জন্য পান করবেন অ্যালোভেরা জুস


  • হলুদের পেস্টের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে পরে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে মেছতা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন।

    আরো পড়ুন- যে কারনে আপনার ডায়েট লিস্টে হলুদ অন্তর্ভুক্ত করবেন


  • কিছু মেছতা আছে যা ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে। আঙ্গুর বীজের নির্যাসে আছে এণ্টিফাঙ্গাল উপাদান যা এই ধরনের মেছতার ক্ষেত্রে কার্যকর।

সাধারণত আঙ্গুরের নির্যাস লিকুইড, পিলবা ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায়। তবে গর্ভবতী এবং দুগ্ধদান কারী মায়েদের বেলায় এই নির্যাস প্রযোজ্য নয়।

উপরের পদ্ধতিগুলো কিছুদিন নিয়মিত ব্যবহার করেই দেখুন ফলাফল অবশ্যই পাবেন। আর মেছতা থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজের ত্বকের প্রতি যত্নবান হতে হবে, উত্তমরূপে ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিজের ব্যাবহারের কাপড় চোপড় ও লেপ তোষক পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে।


সম্পর্কিত পোস্ট: