অপরিণত শিশু জন্মদানের ঝুঁকি কমাতে যা করণীয়

how to prevent the risk of premature birth of babyএকটি শিশুর জন্ম -একটি স্বপ্ন পূরণ। সেই স্বপ্ন মা-বাবার মনে জাগায় আরো হাজারো স্বপ্ন। সকল পিতা-মাতার প্রার্থনা থাকে সুস্থ পরিপূর্ন সন্তান। প্রকৃতিগত ভাবে মায়ের গর্ভে শিশু পূর্নতা পেয়ে মায়ের কোলে আসার পুরো প্রস্তুতি নেয় ৪০ সপ্তাহে। কিন্তু মাঝে মাঝে তার ব্যতিক্রম ঘটে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে শিশু(premature baby) জন্ম গ্রহণ করে থাকে। সাধারণত ৩৭ সপ্তাহ পূর্বে জন্ম নেয়াকে অপরিণত স্তর বিবেচনা করা হয়। যাদের ক্ষেত্রে এই ব্যতিক্রম হয় দেখা যায় তাদের কেউ ২২সপ্তাহে, কেউ ২৫ কিংবা ৩২ সপ্তাহে সন্তান প্রসব করেছে। এইসব স্তরে জন্ম নেয়া শিশুরা নানা জটিলতায় ভোগে যেমনঃ শ্বাস কষ্ট, রক্ত শূণ্যতা, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণও বিকাশের সীমাব্ধতা। এমন কি প্রতিবন্ধীও হতে পারে।

এমন শিশুর সংখ্যা খুব কম যারা জটিলতা জয় করে মায়ের কোল জুড়ে থাকে। বেশিরভাগই মৃত্যুকে আলিংগন করে হয় জন্মের সাথে সাথে নতুবা কিছু দিনের ভিতর। আর যারা বেচে যায় তাদের দীর্ঘদিন ইনকিউবেটরের ভিতর চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। কত সপ্তাহের অপরিণত সেটা এবং জটিলতার ধরনের উপর নির্ভর করে শিশুর বিকাশ। এই ধরণের শিশুদের নিয়ে সব সময় সংশয় থাকে।

কিভাবে অপরিণত শিশু জন্মদানের ঝুঁকি কমানো যাবে? (how to prevent the risk of premature birth of baby)

এমন দূর্ঘটনার নি্র্দিষ্ট কোন কারণ এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি। সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও অপরিণত শিশু জন্ম নিতে পারে। আবার কারো প্রথম সন্তান যদি অপরিণত ভাবে জন্ম নেয় তবুও বলা যাবে না তার দ্বিতীয় সন্তানও এমন হবে। কখনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা যেমনঃ মা কিংবা শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে নাড়ি কেটে মা-শিশুকে আলাদা করেন। আবার কোন সমস্যা না থাকলেও অজ্ঞাত কারনেও এরকম হতে পারে। তবুও কিছু বিষয়ে সর্তক থাকলে সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো যায়।

পরপর গর্ভধারণ (be conscious about consecutive pregnancies)

কেউ যদি দুটি সন্তানের পরিকল্পনা করেন তবে দুইবার গর্ভধারণের মাঝে কম পক্ষে ১৮ মাসের ব্যবধান থাকা। প্রথম সন্তান যদি অকাল প্রসব হয় তবে অবশ্যই পরবর্তী গর্ভধারনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ(check diabetes regularly)

কারো যদি উল্লেখিত স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে ।তাহলে অবশ্যই এসব বিষয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। ডায়াবেটিস নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখুন।

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ (avoid the risk of infection during pregnancy)

গর্ভাবস্থায় যেন কোন প্রকার সংক্রমণ না হয় সেজন্য প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা নিন যেমনঃ মিলনে কনডম ব্যবহার করা, প্রজনন অংগে কোন রকম জ্বালা বা ব্যাথা অনুভব হলে শীঘ্রই চিকিৎসকের শরানাপন্ন হোন।

অতিরিক্ত ওজন বা অতি কম ওজন (maintain your proper body weight)

গর্ভাবস্থায় সঠিক ওজন সম্পর্কে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন। বেশি কিংবা কম কোনটাই ভাল নয়। তাই এই বিষয় মাথায় রেখে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার গ্রহণ এবং ব্যায়াম করা।

ধূ্মপান ,মদ্যপান এবং রাস্তার ঔষধ সেবন (avoid bad habits and inappropriate medicine)

ধূ্মপান , মদ্যপান , রাস্তার ঔষধ সেবন অপরিণত শিশু জন্মের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই মায়েদের অবশ্যই এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। অভ্যাস থেকে থাকলে তা গর্ভধারণের আগেই ত্যাগ করুন।

আরো পড়ুন

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।