সহজে ধূমপান ছেড়ে দেবেন যেভাবে

5766218012_2535611269_oনিকোটিন সবচেয়ে সহজলভ্য নেশা জাতীয় বস্তু। ধূমপান একটি বাজে অভ্যাস তো বটেই। এটি অন্যের কাছে বিরক্তিকরও। এক পরিসংখ্যান মতে, প্রতি বছর প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন লোক মারা যায় শুধুমাত্র ধূমপানের কারণে। এটি খুবই খারাপ ধরণের নেশা, তবে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এই লেখাটি কিন্তু সেটিই বলছে। চলুন দেখি কিভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

১) সংকল্প হতে হবে দৃঢ় ও অনন্যসাধারণঃ

ভবিষ্যতের কোন কারণকে লক্ষ্য না বানিয়ে বর্তমানের কোন বিষয় লক্ষ্য হিসেবে স্থির করুন। সাধারণত অন্যরা যেভাবে চিন্তা ভাবনা করে, সে পথে যাবেন না।
“আমার বয়স যখন ৫০ হবে তখন যেন ক্যান্সার না হয়, এজন্যে ধূমপান ছাড়বো” এইভাবে না ভেবে “গায়ে ধূমপানের গন্ধ মেখে ক্লাসে, বাসে, অফিসে, লিফটে চলাফেরাটা অনেক লজ্জাজনক।” এই ধরণের কারণ বেছে নিন। অনেক দ্রুত কাজ দিবে।

২) নির্দিষ্ট সময় বেছে নিনঃ
বছরের প্রথম দিন, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী অনেকে এই ধরণের সময়গুলো বেছে নেয় ধূমপান ছেড়ে দেয়ার জন্যে। কিন্তু এইভাবে না করে, স্থির করুন আপনি ঠিক আগামী শুক্রবার থেকেই ধূমপান ছেড়ে দিবেন। এটি আপনাকে বছরে একবার নয়, বরং ৫২ বার ধূমপান ছাড়ার সুযোগ দিবে।

৩) অন্য ব্র্যান্ডের সিগারেট বেছে নিনঃ
এটি একটি দারুণ উপায়। আপনি ধূমপান ছেড়ে দেয়ার জন্যে যে সময় ঠিক করেছেন তার মাঝের সময়ে আপনার ব্যবহৃত ব্র্যান্ড ছেড়ে অন্য ব্র্যান্ড বেছে নিন। অন্য ব্র্যান্ড আপনাকে একই স্বাদ, গন্ধ দিবে না। তখন ধূমপান করাটা আপনার কাছে আগের মত উপভোগ্য হবে না। আর এটি আপনাকে ধূমপান সহজে ছাড়তে সাহায্য করবে।


৪) তামাক জাতীয় সকল পণ্য ও তামাক ব্যবহারকারী বন্ধু বর্জন করুনঃ

সিগারেট, লাইটার, ম্যাচ এই ধরণের সকল পণ্য বাসা, অফিসের ড্রয়ার থেকে ফেলে দিন। এই সব যত চোখে কম পড়বে আপনি তত সহজে ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে পারবেন। এছাড়া যে সকল বন্ধু ধূমপান করে সেই সকল আড্ডা থেকে বেঁচে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫) মেডিটেশন এবং ডাক্তারের সাহায্য নিনঃ
ধূমপান ছাড়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়ালে মেডিটেশন করতে পারেন। এটি মনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে আপনাকে দারুণ সাহায্য করবে। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শও নিতে পারেন। বর্তমানে নিকোটিন এর নেশা বিরত রাখার জন্যে অনেক ধরণের থেরাপি, ওষুধ রয়েছে।

৬) কার্যকর বিকল্প উপায়সমূহঃ
এটা ঠিক প্রথম প্রথম ধূমপান ছেড়ে থাকতে আপনার অনেক কষ্ট হবে। কিছু কাজ করে এই ব্যাপারটা ভুলে থাকতে পারেন। খেলাধুলা, সিনেমা দেখতে যাওয়া, অধূমপায়ী বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারেন। এছাড়া ধূমপানের নেশা প্রবল হলে ২০ টি বুক ডন, দাঁত ব্রাশ করতে পারেন। অদ্ভুত শোনালেও এগুলো পরীক্ষিত পদ্ধতি। এছাড়া এই সময়ে প্রচুর পানি পান করবেন।

৭) প্রিয়জনের সাহায্য নিনঃ
বিখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, ‘তার সন্তানকে গুটিগুটি পায়ে হাঁটতে দেখে তিনি ভাবলেন এই অসাধারণ দৃশ্যগুলো দেখার জন্যে তার বেঁচে থাকাটা দরকার এবং তিনি ধূমপান ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন।’ ঠিক এইভাবে আপনার প্রিয় মুখগুলোর কথা ভেবে ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। তাদেরকে জানান আপনি ধূমপান ছেড়ে দিতে চাইছেন তারা দেখবেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে।

বলা হয়ে থাকে, বৃদ্ধ বয়সে ধূমপায়ী ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি সময় কাটে ডাক্তারের চেম্বারে। আপনি একটু খোঁজ করলেই জানতে পারবেন ধূমপানের কারণে কত মারাত্মক ধরণের রোগ হয়ে থাকে, আর কি পরিমাণ কষ্ট পেতে হয়। এইসব মাথায় রেখে ধূমপান ছেড়ে দিন। আর বছর শেষে ধূমপান না করার কারণে যে টাকাগুলো বেঁচে যাবে, তা দিয়ে নিজেকে পুরস্কৃত করুন। আপনার ধূমপান ছাড়ার ইচ্ছা রয়েছে এটি নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই, কারণ আপনি লেখাটা পড়েছেন। সে জন্যে গ্রহন করুন আন্তরিক ধন্যবাদ। অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্যে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।