আত্মহত্যার প্রবণতা বা চিন্তা করা থেকে বের হয়ে আসার কিছু কৌশল

How-To-Save-Someone-From-Suicideআপনি কি আত্মহত্যার কথা চিন্তা করেন? জীবনটা কি মাঝে মাঝেই অর্থহীন মনে হয়? মনে হয় বেঁচে থেকে আর কি লাভ? তাহলে বলব আপনি একা নন অধিকাংশ মানুষই জীবনের কোন না কোন অসহায় মুহূর্তে আত্মহত্যা করার চিন্তা করে থাকে। আত্মহত্যা করার চিন্তা আসা মানে এই নয় যে আপনার ব্যক্তিত্ব ত্রুটিপূর্ণ এবং এটার মানে এই নয় যে আপনি পাগলাটে ধরনের অথবা আপনি দূর্বল চিত্তের।

অনেক ধরনের আবেগিয় অনুভূতি বা কষ্ট এর জন্য আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের কাছেই এই কষ্টগুলো অনেক বড় এবং এই কষ্টগুলোর সাথে মানিয়ে চলার ক্ষমতাও আমাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা। সুতরাং কেউ যদি বলে, তোমার কষ্টগুলো আত্মহত্যা করার মত যথেষ্ট বড় নয় তাহলে তার কথায় কান না দেয়াই ভাল। কারণ আমরা প্রত্যেকেই আলাদা এবং আমাদের নিজের কষ্টগুলো আমাদের নিজের জন্য অনেক বড়।

আপনি আত্মহত্যা করার চিন্তা করছেন তার মানে হচ্ছে আপনার কষ্টের মাত্রা এতটাই বেশি যে সেই মুহূর্তে আপনি এত কষ্টের ধাক্কাটা সামলিয়ে ওঠার মত মানসিক অব্থায় নেই। হয়ত সেই মুহূর্তে আপনার কষ্টগুলোকে খুব বেশী অপ্রতিরোধ্য এবং স্থায়ী মনে হচ্ছে।

কিছু কিছু সময় যদিও এটা মনে হতে থাকে যে আমাদের এই কষ্টগুলো আর কখনই শেষ হবেনা এবং আমরা সবসময়ই এমন অসুখী থাকব কিন্তু পাশাপাশি এটাও অনুধাবন করা জরুরী যে সাধারণত সব সঙ্কটই সাময়িক। প্রায়ই অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক ঘটনা ঘটতে থাকে, আমাদের অনুভূতি পরিবর্তন হয় এবং অধিকাংশ সময় সেই সংকটময় সমস্যার সমাধানও পাওয়া যায়। আর এজন্য নিজেকে সময় দিতে হবে বিষয়গুলো পরিবর্তন হওয়ার জন্য এবং কষ্টগুলো প্রশমিত হওয়ার জন্য।

আসুন জেনে নেয়া যাক যখন এমন আত্মহত্যার চিন্তা আসবে তখন আমরা কিভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারি।

১) মাদক এবং মদপান করা থেকে বিরত থাকুন

যদি কেউ মাদক এবং মদ্যপান করে থাকে তবে আত্মহত্যা করার চিন্তা আরও শক্তিশালী হয়। কেউ যখন আশাহীন অনুভব করে বা আত্মহত্যা করার চিন্তা করে তবে সেই সময়টায় ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ বা মদ্যপান অথবা মাদক না গ্রহন করাটাই উত্তম।

২) নিজের থাকার জায়গাটি নিরাপদ রাখুন

নিজের ক্ষতি করতে পারে এমন সব জিনিস ঘর থেকে সরিয়ে রাখুন যেমন: ঘুমের ঔষধ, ছুরি, কাঁচি, রেজর অথবা যেকোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এগুলো সরিয়ে রাখুন। যদি এগুলো সরিয়ে রাখা সম্ভব না হয় তবে এমন কোন জায়গায় চলে যাওয়া যেখানে নিজেকে নিরাপদ ভাবা যায়। যদি কেউ কোন অসুখের জ্ন্য ঔষধ গ্রহণ করতে থাকে এবং যদি তা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করার সম্ভাবনা থাকে তবে সেগুলো এমন কাউকে দিয়ে দেয়া যারা শুধু প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঔষধ দিবে।

৩) প্রতিদিন সামনাসামনি কারো সাথে কথা বলুন

যদিও সংকটময় সময়টাতে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেই বেশি ভাল লাগে কিন্তু তারপরেও কিছু বিশ্বাসী বন্ধু অথবা প্রিয়জনকে বলুন কিছুটা সময় আপনার সাথে কাটানোর জন্য। অথবা এমন কাউকে যদি কাছে না পাওয়া যায় তবে suicide crisis helpline এ ফোন করুন এবং আপনার অনুভূতিগুলো তাদের সাথে বলুন। আপনার সঙ্কট ময় মুহূর্তে তারা আপনাকে প্রয়োজনীয় মানসিক সেবা প্রদান করে যথাসম্ভব আপনার পাশে থাকার চেষ্টা করবে।

বাংলাদেশে suicide crisis helpline number হচ্ছে :-

“কান পেতে রই ”

ফোন:

Gp ; 01779554391 , 01779554392

Airtel ; 01688709965 , 01688709966

Blink ; 01985275286

Robi ; 01852035634

৪) একটি নিরাপত্তা তালিকা তৈরি করুন

বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের একটি তালিকা তৈরি করুন যেগুলো আপনি আত্মহত্যার চিন্তা আসলে তা থেকে বের হওয়ার জ্ন্য অনুসরণ করতে পারবেন। যেমন: ডাক্তার অথবা আপনার যদি কোন থেরাপিস্ট থাকে তার ফোন নাম্বার হাতের কাছেই রাখুন। আপনার কাছের কোন বন্ধুর ফোন নাম্বার অথবা আপনার পরিবারের সদস্যদের ফোন নাম্বার লিস্ট করে দেয়াল বা অন্য কোথাও ঝুলিয়ে রাখুন যেখানে সহজেই আপনার চোখে পরবে। যেন সংকট মুহূর্তে চাইলেই আপনি যে কারও কাছে ফোন করে আপনি আনার অনুভূতি জানাতে পারেন। আর উপরোক্ত কারও কাছে যদি সাহায্য চাইতে দ্বিধাবোধ করেন তবে suicide crisis helpline number টাও আপনার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করুন। হেল্প লাইন এর সেচ্ছাসেবকরা আপনার পাশে থেকে আপনাকে সংটময় পরস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে সহায়তা করবে।

৫) একটি দৈনন্দিন কাজের লিখিত তালিকা তৈরি করুন

প্রতিদিন পুরো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনি কি কি কাজ করবেন তার লিখিত এটি তালিকা তৈরি করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করুন এমনকি কাজটা যত সামান্য কাজই হোক না কেন রুটিন অনুসরণ করে তা করার চেষ্টা করুন। যতটা সম্ভব প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করুন এমনকি আপনার অনুভূতিগুলো যদি আপনার নিয়ন্ত্রনের মধ্যে না থাকে তবুও রুটিন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৬) বাইরে ঘুরতে যাওয়া

প্রতিদিন সকাল বিকাল এবং রাতে অন্তত ৩০ মিনিট করে ঘুরতে বের হওয়া। এমন কোন জায়গায় যাওয়া যেখানে লোক সমাগম রয়েছে। এই সময়টাতে জনশূন্য কোন জায়গায় গেলে আত্মহত্যার প্রবণতা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই এই সময় লোক সমাগমের মাঝে থাকলে আত্মহত্যার চিন্তা থেকে অনেটাই দূরে থাকা যায়।

৭) এমন কিছু করুন যা করতে ভাল লাগে

যদি এমন হয় যে খুব অল্প জিনিস আছে যা আপনাকে আনন্দ দিতে পারে তাহলে সেই কাজটি বা সেই বিষয়টিই করতে থাকুন যদিও তা করতে ইচ্ছা না করে তবুও জোর করেই করুন দেখবেন আসতে আসতে আপনার ভাল লাগা শুরু করবে।

৮) নিজের যত্ন নিন

নিয়মিত খাবার গ্রহন করুন এবং পরিমিত ঘুমান। ব্যায়াম করুন, এটা এন্ড্রফিন নিঃসরণ করে আমাদের চাপ কমায় এবং আবেগিয় অনুভূতিকে ইতিবাচক করে।

৯) নতুন নতুন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হোন :

নিজের নতুন নতুন শখ খুঁজে বের করুন অথবা এমন কোন কাজে নিজেকে নিযুক্ত করুন যেগুলো আপনাকে আতম তৃপ্তি প্রদান করবে। এগুলো আপনাকে নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখাবে এবং আপনি আপনার জীবন সম্পর্কে আশাবাদী হতে শিখবেন।

এটা মনে রাখা জরুরী আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান নয়। আমাদের জীবনে কোন সমস্যাই স্থায়ী নয়। যদি কেউ আত্মহত্যা করা ছাড়া সমস্যার কোন সমাধান খুঁজে না পায় তবে তার মানে এটা নয় যে সেখানে অন্য কোন সমাধান নেই কিন্তু সংকটময় মুহূর্তে হয়ত আমরা সেই সমাধান গুলো খুঁজে পাইনা। তাই আমাদের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে সমস্যা সমাধানের অন্যান্য পথগুলো ও খুঁজে দেখতে হবে কারন আমাদের প্রত্যেকের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। আত্মহত্যার প্রবনতার পেছনে হতাশা, আশাহীনতা এবং বিষণ্ণতা সহ আরও নানাবিধ মানসিক কারন থাকতে পারে।

তাই কারও যদি আত্মহত্যার প্রবণতা খুব বেশি থেকে থাকে এবং সে কোন ভাবেই সেই প্রবণতা থেকে বের হতে না পারে তবে তাকে অবশ্যই দ্রুত কোন অভিজ্ঞ মন চিকিৎসক অথবা মনোবিজ্ঞানীর কাছে থকে মানসিক সহায়তা নিতে হবে।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।