হীনমন্যতা কাটিয়ে উঠুন ৭ টি সহজ উপায়ে

On Fingers2
বেশিরভাগ মানুষই নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট নন। আর এ অসন্তুষ্টি থেকেই আসে হতাশা, নিজের উপর অভিমান কিংবা চাপা ক্ষোভ। অথচ পৃথিবীতে কেউই নিখুঁত নয়। আর প্রতিটি মানুষই তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলাদা। তাই জীবনকে সুন্দর ও আনন্দময় করে তুলতে চাইলে আজই নিজের বিষয়ে সব হতাশা ঝেড়ে ফেলুন, কাটিয়ে ফেলুন হীনমন্যতা। আজ থাকলো সেটারই কিছু দিক-নির্দেশণা।

(১) সুন্দর কোন কাজ করুন

যখনই আপনার খুব মন খারাপ হবে, নিজের ব্যাপারে হতাশ অনুভব করবেন, তখনোই হয়তো আপনি নিজেই নিজের সমালোচনা করতে শুরু করবেন। এটা আসলে নিজের আত্মবিশ্বাসকে অনেক কমিয়ে দেয়। এখন থেকে ভিন্ন কিছু করুন। যখনই মন খারাপ হবে, তখনোই এরকম কিছু মানুষের কথা বলুন যাদের আসলে আপনাকেই দরকার, আপনার সামান্য একটু সহযোগিতা হয়তো তাদের জীবন বদলে দিতে পারে। এরা হতে পারে আপনার পরিবার, বন্ধু কিংবা যে কেউ। আপনার একটি সুদর কাজ তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারে। আর সেই হাসিটি কিন্তু আপনাকে মন খারাপ করে থাকতে দেবে না একদমই।

(২) নেতিবাচক চিন্তা বন্ধ করুন

নিজের ব্যপারে নেতিবাচক চিন্তা বন্ধ করুন এখন থেকেই। হয়তো আপনার কোন ত্রুটি কিংবা ভুল নিয়ে আশেপাশের মানুষ অনেক কথা বলবে। আপনার সে কথাগুলো গুরত্বের সাথে নেয়ার কোন প্রয়োজনই নেই, অথবা দরকার সেই সেইসব মানুষের সাথে তর্কে যাবার। নিজের ত্রুটি কিংবা ভুল কাজগুলো নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। কারণ, একটু খুঁজলেই দেখা যাবে, আপনার ভালো দিকের সংখ্যাও কম নয়! তাই মানুষের কথায় কান দিয়ে নিজের ব্যপারে নেতিবাচক চিন্তা করা বাদ দিন।

(৩) জীবনের লক্ষ্য স্থির করুন

জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন। হোক সেটা স্বল্প কিংবা দীর্ঘ মেয়াদের। আর এ লক্ষ্য হতে পারে যেকোন কিছু নিয়েই- ক্যারিয়ার, পড়াশোনা কিংবা কোন শখের কাজ। যখন আপনি লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোরভাবে পরিশ্রম করবেন, তখন আসলে আপনার মন খারাপ করার কিংবা নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার কোন সুযোগই থাকবে না।

(৪) অনুপ্রেরণা গ্রহণ করুন

জীবনের ছোট ছোট বিষয় কিংবা আনন্দময় ঘটনাগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিন। প্রতিদিনের রুটিন জীবন মানুষের সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেয় ও মানুষকে করে তোলে হতাশ। আর এ অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে কারো একটু ভালো কথা, কারো আন্তরিকতাপূর্ণ হাসি, কোন দারুণ বই, সুন্দর একটি গান, মুভি কিংবা ভিডিও। আর নতুন কোন কিছুর শুরুটাই হয় অনুপ্রেরণা থেকে। যে জিনিস হয়তো শুধু আপনাকেই নয়, পালটে দিতে পারে আপনার গোটা পৃথিবীটাকেই।

(৫) নিজেকে অন্য কারো সাথে তুলনা করবেন না

কখনোই নিজেকে অন্য কারো সাথে তুলনা করবেন না। সবাই যার যার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। নিজের ভালো দিক, নিজের দক্ষতা নিয়ে সচেতন হন- যা হয়তো অন্য কারো নেই। আর অবশ্যই সব সময়ই নিজেকে আরো উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করুন।

(৬) নেতিবাচক মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকুন

যারা সব সময় অন্যের দোষ ধরে বেড়ায় তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। তারা নিজেরা হতাশ, আর সেই হতাশাকে অন্যের মাঝেও ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। হয়তো এ ধরণের মানুষগুলো আপনার খুব কাছের কেউ হতে পারে, তবুও আবেগকে সংযত করে এগিয়ে যান নিজের আলোকময় পথে।

(৭) পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও শরীরের যত্ন নিন

জীবনে ভালো থাকার জন্য দেহ ও মন- দুটোরই পর্যাপ্ত যত্ন নেয়া দরকার। প্রতিদিনের কাজের চাপ ও এতো এতো চিন্তার মাঝে ভালো থাকাটাই তো দায়! তবুও চেষ্টা করুন শরীরের যত্ন নিতে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে। এতে ক্লান্তি আর হতাশা আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না।