পা ফাটা রোধে কিছু কার্যকরী টিপস

feetশীতকালে পা ফাটা নারী-পুরুষ সবার জন্যই একটি সাধারণ সমস্যা। তবে কিছু সহজ উপায় মেনে চলে খুব সহজেই পা ফাটা রোধ করতে পারেন।

মেয়েদের জন্য

  • বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই ভালোভাবে পা পরিষ্কার করুন।
  • গোসল করার সময় সাবান ও ব্রাশের সাহায্যে গোড়ালি পরিষ্কার করে নিতে পারেন।
  • প্রতিদিন গোসলের পর পায়ে ও গোড়ালিতে বডি লোশন লাগান।
  • একটু সময় নিয়ে পায়ের যত্ন নিন। গরম পানিতে পা ভিজিয়ে নিন। এবার এক টুকরা লেবু দিয়ে গোড়ালি ঘষে নিন। তারপর ঝামাপাথর দিয়ে গোড়ালি ঘষুন। এরপর স্ক্রাব ব্যবহার করুন এবং পা ধুয়ে নিন। পা শুকানোর পর লোশন ব্যবহার করুন। এটি সপ্তাহে এক দিন করতে পারেন।
  • অর্ধেক পাকা কলা মেখে নিয়ে এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে প্লাস্টিক র্যাপার দিয়ে পা মুড়ে রাখতে হবে ১০ মিনিট। তারপর এটি ধুয়ে ফেলে ঝামাপাথর দিয়ে ঘষে পায়ের গোড়ালি পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। পা ধুয়ে নিয়ে শুকানোর পর লোশন লাগাতে হবে। এতে পা থাকবে নমনীয়।
  • পায়ের তলার যেসব অংশ কোনো কারণে শক্ত হয়ে যায়, সেখানকার শক্ত চামড়া কাটার জন্য বিশেষ ধরনের ব্লেড কিনতে পাওয়া যায় বাজারে। বাসায় পেডিকিওর করার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে পায়ের তলার শক্ত অংশগুলো সরিয়ে ফেলতে সুবিধা হবে।
  • ভালো জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করুন, তা না হলে যাদের অনেক হাঁটতে হয়, তাদের পায়ের পাতার কোনো কোনো অংশ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
  • জুতা-স্যান্ডেলে ব্যবহার করার জন্য বাজারে জেল প্যাড কিনতে পাওয়া যায়। চাইলে এগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। একটি জেল প্যাড পায়ের পাতায় এবং আরেকটি পায়ের গোড়ালিতে ব্যবহার করতে পারেন।
  • প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে, এতে পা কোমল থাকবে।
  • প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর পেডিকিওর করাতে হবে। যাদের গোড়ালি ফাটার সমস্যা খুব বেশি, তারা প্রতি সপ্তাহে পেডিকিওর করাতে পারলে উপকার পাবেন।

ছেলেদের জন্য

  • যারা জুতা-মোজা ব্যবহার করেন, তাদের অবশ্যই প্রতিবার পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করতে হবে। মোজা একবার ব্যবহার করলেই সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে। অপরিষ্কার মোজার কারণে দুর্গন্ধও হতে পারে, আবার এর কারণে হতে পারে জীবাণুর সংক্রমণ।
  • যারা স্যান্ডেল ব্যবহার করেন, তাদের পায়ে ধুলোবালি থাকে বেশি। তাই বাসায় ফিরেই পরিষ্কার পানিতে পা ধুয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে কিছুটা গরম পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করুন।
  • জুতার যে অংশ পায়ের দিকে থাকে, সেটি বেশি শক্ত হলে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তাই জুতা কেনার সময় বিষয়টি খেয়াল রাখুন।
  • প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের গোড়ালিতে অলিভ অয়েল লাগাতে পারেন।
  • সম্ভব হলে গোসলের আগে পায়ে তেল ম্যাসাজ করতে পারেন।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান।
  • ফাটা গোড়ালিতে জীবাণুর সংক্রমণ হলে অথবা কোনো কারণে পায়ের ফাটা অংশ থেকে রক্ত পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

বয়স যাদের একটু বেশি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। পা ফাটার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাঁরাও এসব পদ্ধতি মেনে চলতে পারেন। তবে পা বেশি ফাটলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।

এ ধরণের আর লেখা পড়ুন

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।