নিজের উপর অন্যের মানসিক প্রভাব বিস্তার থেকে যেভাবে বের হয়ে আসবেন

emotional-impact

“ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল” এই শব্দটার সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত।

সহজ করে বলতে গেলে ব্যাপারটা কিছুটা এরকম আপনার উপর অন্য আরেকজন মানুষ খুব কৌশলিভাবে মানসিক প্রভাব বিস্তার করে থাকবে।

যেখানে আপনি প্রতি পদে পদে নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতা হারাবেন, হয়ে যাবেন অন্যর হাতের পুতুল।

যেখানে আপনার ইচ্ছে অনিচ্ছের থেকে বেশী অগ্রাধিকার পেয়ে থাকবে আপনার উপর মানসিক প্রভাব বিস্তার করা মানুষটি।

এরকমটি ঘটে সাধারণত নিজের মানসিক শক্তির অভাবের কারণে নতুবা নিজেকে খুব বেশী পরনির্ভরশীল ভাবার কারণে। কারণ যেটাই হোক আমাদের জন্য এটি খুব বাজে ধরণের একটি অবস্থা সৃষ্টি করে।

নিজের উপর অন্যকারো মানসিক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসা সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রচুর মানসিক শক্তি আর সাহসের দরকার হয়।

আপনিও যদি কারো মানসিক প্রভাব বিস্তারের শিকার হয়ে থাকেন আর যদি নিজেকে এই প্রভাব থেকে বের করে নিয়ে আসতে চান তাহলে এই লিখাটি আপনার জন্য।

যদি চান নিজেকে উপর অন্যর মানসিক প্রভাব থেকে দূরে থাকবেন তাহলে সবসময় নিজের সতন্ত্রতা বজায় রেখে চলুন। কারও সাথে খুববেশী খোলামেলা ভাবে মিশতে যাবেন না।

আজ আপনি যাকে নিজের সবচেয়ে আপন ভেবে নিজেকে সম্পূর্ণ উজার করে দিয়ে মেলামেশা করছেন।

কাল হয়তো সেই আপনাকে তার নিজের ইচ্ছের পুতুলে রূপান্তরিত করবে। তাই সব সময় একটু হলেও দুরুত্ব রেখে মেলামেশা করুন।

নিজেকে দোষারোপ করার স্বভাব ত্যাগ করুন

অন্যরা আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ তখনই পাবে যখন আপনি নিজেকে অন্যর সামনে নিতান্ত নগণ্য আর অপরাধী হিসেবে তুলে ধরবেন।

কোন ব্যাপারে যদি আপনার মনে অপরাধবোধ জন্ম নিয়েই থাকে তাহলে সেটা অন্য কারও সামনে প্রকাশ করার আগে ভেবে দেখুন সে কতোটা বিশ্বাসযোগ্য। সেকি আপনার মূল্যবোধের সমাদর করবে?

তাই নিজেকে কোন বিষয়ে দোষারোপ করার আগে চারপাশটা দেখে নিন আর নিশ্চিত হয়ে নিন যে কেউ আপনার এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে কিনা।


আরো পড়ুন– কাটিয়ে উঠুন অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য অপরাধবোধ


না বলতে শিখুন

সবসময় সব কথায় হ্যাঁ বলতে যেয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। ক্ষেত্র বিশেষে না বলতে শিখুন।

আপনার প্রতি কথায় হ্যাঁ বলার অভ্যাস সহজেই আপনার উপর অন্যর মানসিক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করবে। মুখের উপর না না বলেও আপনি চাইলে কৌশলে না বলতে পারেন।

যখনই আপনি আপনার হ্যাঁ আর না বলার কৌশল আয়ত্ব করতে পারবেন তখনই সহজে অন্য কেউ আপনার উপর মানসিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।


আরো পড়ুন– প্রাণ খুলে হাসুন, সুস্থ থাকুন


আত্মসচেতনতা বাড়িয়ে তুলুন

নিজেকে অন্যর প্রভাবমুক্ত রাখতে আত্মসচেতনতা বোধ বাড়িয়ে তুলুন। যখনই কেউ আপনার উপর মানসিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে তখনই সেটা বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রতিরোধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করুন।

আপনি যদি আত্মসচেতনতা বোধে বলিয়ান হয়ে থাকেন তাহলে কেউ আপনার উপর কোনভাবেই প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।


আরো পড়ুন– কাটিয়ে উঠুন মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা


কাউকে নিজের কোন গোপন কথা বা দুর্বলতা সম্পর্কে বলার আগে দশবার ভাবুন। মনে রাখবেন মানসিক প্রভাব বিস্তারের সবচেয়ে সহজ আর কার্যকরী রাস্তা হল নিজের অপারগতাগুলো অন্যর কাছে তুলে ধরা।


সম্পর্কিত পোস্ট: