যেভাবে চিনবেন একটি ফেইসবুক আইডি ফেইক কি না?

fake fb id

fake fb idফেসবুক ব্যবহার করে না এমন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন খুঁজেই পাওয়া যাবে না। আমাদের দেশের কথাই ধরি। যার কাছে একটা মোবাইল বা পিসি এবং ইন্টারনেট কানেকশান আছে, ধরে নিন তার ফেসবুক আইডিও আছে। আমরা প্রয়োজনেই ফেসবুক ব্যবহার করি। তবে একঝুড়ি আমের ভেতর দুই একটা পচা আম থাকবেই। এই পচা আম টাইপের মানুষ গুলোই বানায় ফেইক আইডি। হয়রানির স্বীকার হয় আপনার ভাই, বোন, বন্ধু বা আপনি নিজেই। অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে এই ফেইক আইডি গুলো, ক্ষুণ্ণ হতে পারে আপনার সামাজিক মর্যাদা। তাই সময় থাকতেই সাবধান হন ফেইক আইডি গুলো থেকে।

১) অচেনা কাউকে এড করার সময় সতর্ক থাকুনঃ

ফেইক আইডি খোজার আগে আপনি নিজেই সতর্ক হোন। একদম অচেনা কেউ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিলে এক্সেপ্ট করার আগে চিন্তা করুন আসলেই তাকে আপনার দরকার আছে কি না? মিউচুয়াল কোন ফ্রেন্ড থাকলে তার কাছে আগে জিজ্ঞাসা করে নিন। এতে ঝামেলা কমবে। আর যদি মনে করে থাকেন ফেসবুকে অচেনা কারো সাথে  ফ্রেন্ডশিপ করবেন, অনেক গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হবে, বাস্তব জীবনে অনেক উপকার হবে, তাহলে বিশ্বাস করুন, আপনার ধারণা ভুল। এরকম খুব কমই ঘটে।

২) চেক করুন অচেনা আইডিটির ফ্রেন্ডলিস্টঃ

এখন প্রায় সবাই ই ফ্রেন্ডলিস্টে প্রাইভেসি দিয়ে রাখে। কাজেই এই সুযোগটা কম। তারপরেও বেখায়ালে অনেকে প্রাইভেসি দিতে ভুলে যান। তাই চেক করে নিন আপনার সন্দেহের আইডিটির বন্ধু তালিকা। ৩-৪ হাজার ফ্রেন্ড? ইগ্নোর করুন। অবশ্যই সেই আইডিটি ফেইক। বলতে পারেন, কেন সে তো একজন সেলিব্রিটিও হতে পারে? হুম হতে পারে। তবে সেলিব্রেটিরা যথেষ্ট ফেসবুক জ্ঞান সম্পন্ন। তারা তাদের আইডিতে যথেষ্ট প্রাইভেসি বজায় রাখেন। তাদের ফ্রেন্ডলিস্ট দেখার সুযোগ আপনার না হবার সম্ভবনাই বেশি।

৩) চেক করুন পোস্টের মানঃ

কাউকে এড করার আগে বা রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করার আগে একটু চোখ বুলিয়ে নিন তার বর্তমান আর অতীতের পোস্ট গুলোতে। বেশির ভাব ফেইক আইডি ই নিম্নমানের পোস্টে ভরপুর। “অমুক পেজে লাইক দিন, এই এই উপায়ে টাকা কামাই করুন ফেসবুক থেকেই, কেমন আছো বন্ধুরা, অনেকদিন পর ফেসবুকে আসলাম” ইত্যাদি ধরনের পোস্টের আধিক্য যেসব আইডিতে, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

৪) দেখুন ছবির সংখ্যা এবং ছবিতে থাকা কমেন্টগুলোঃ

বেশির ভাগ ফেইক আইডিতে ই সাধারনত ১-২ টা ছবি থাকে। এবং সাধারণত তা হয় ভারতীয় কোন অভিনেত্রীর। অবশ্য অনেক চালাক ফেইক আইডির মালিক, অন্যের অসংখ্য ছবি চুরি করে নিজের ফেইক আইডিতে আপলোড করে। তাই এভাবে যাচাই করার সুযোগ ও সীমিত। তাই চেক করুন ছবির নিচে থাকা তার ফ্রেন্ডদের কমেন্ট এবং তার রেসপন্স কেমন। অধিকাংশ ফেইক আইডি তাদের ছবির কমেন্টের উত্তর দেবার ব্যাপারে উদাসীন। এবং কমেন্টের মান ও থাকে জঘন্য। যেমনঃ সুন্দর লাগছে, নাইস পিক, এটা কোথায় ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি নিজেই আপনার অন্য বন্ধুদের ছবি দেখুন। দেখবেন সেখানে থাকে প্রশংসা, ধন্যবাদ প্রদান, আড্ডা অথবা বন্ধুসুলভ ঝগড়ার আভাস। ফেইক আইডিতে এগুলোর কিছুই পাবেন না।

৫) কি ধরনের পেজে লাইক দেয়া আছেঃ

আপনার সন্দেহের আইডিটি কি ধরনের পেজে লাইক দিয়েছে সেটা তার রিসেন্ট এক্টিভিটিতেই প্রদর্শন করে, আর টাইমলাইনে তো বটেই। তাই ভবিষ্যতে কোন বিপদে পড়ার আগে বর্তমানে একটু সময় খরচ করে চেক করুন তার টাইমলাইন। যদি ফেইক আইডি হয়, ১০-১২ টা ১৮+ পেজ যে আপনার নজরে পড়বেই এই ব্যাপারে আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি।

এছাড়া খেয়াল করুন কেমন গ্রুপে সে যুক্ত। সাধারণত লোকে এমন গ্রুপে জয়েন করে যা তার স্কুল/কলেজ/ইউনিভারসিটি, কর্মক্ষেত্র, কোন সেবামূলক কাজ ইত্যাদির সাথে যুক্ত। ফেইক আইডি এসবের তোয়াক্কা করে না। যেখানেই গ্রুপ পায়, জয়েন করে ফেলে।

৬)ইউজার নেম আর আইডি নেম একই কিনা দেখুনঃ

এই জায়গাটায় অনেকেই ভুল করে ফেলে। এই ইউজার নেমটি একবারে বেশি বদলানো যায় না।  তাই এটা হতে পারে আপনার জন্য ফেইক বা রিয়েল আইডি বুঝার অন্যতম উপায়। মিলিয়ে দেখুন ইউজার নেম এবং সেই আইডিটির নাম একই কিনা। ইউজার নেম আপনি পাবেন abouts এ অথবা ব্রাউজারের এড্রেস বারে।

৭) সন্দেহজনক আইডির সাম্প্রতিক ওয়াল পোস্ট চেক করূনঃ

যদি দেখেন কোন আইডির ওয়াল পোস্টে তার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা লোকজনের“’THANKS FOR THE ADD….DO I KNOW YOU’’ , “আপনার বন্ধু হতে পেরে ভাল লাগছে” ইত্যাদি লেখা থাকে এবং সেগুলোর কোন সঠিক উত্তর দেয়া না থাকে, বুঝে নিন, সেটা ফেইক আইডি।

নিরাপদ থাকুন ভার্চুয়াল জগতে। অনেক অনেক নকল বা ফেইক আইডির বন্ধু থাকার চেয়ে অল্প কয়েকজন সত্যিকারের চেনা-জানা বন্ধু থাকা অনেক ভালো।

ফেসবুক নিয়ে আরও পড়তে ক্লিক করুনঃ

বাড়িয়ে নিন আপনার ফেসবুক আইডির সিকিউরিটি যা সাধারণত আপনি এড়িয়ে যান

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।