যে ৫টি কথা বলা যাবে না আপনার সন্তানকে

angry_parent1সন্তানদের উপর রেগে গিয়ে বা এমনিতেই আমরা অনেকসময় অনেক কথা বলে ফেলি, ব্যবহার করি নানা শব্দ। কিন্তু এই কথাগুলো যে শিশুর অবচেতন মনের উপর কি ধরণের প্রভাব ফেলে সেটি আমরা কতজনই বা জানি? নিজের অজান্তেই শিশুর কোমল মনের বাগানে ঝড় তোলে শব্দগুলো। তাই এই শব্দগুলো উচ্চারন থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

১) বিরক্ত করবে না, একা থাকতে দাওঃ

‘বিরক্ত করবে না’, ‘এখন যাও আমি ব্যস্ত’,‘একা থাকতে দাও।’
এই কথাগুলো সবসময় বলা মানে আপনার সন্তানের কাছে একটা মেসেজ দিয়ে দেয়া, কোন কিছু জানতে আপনার কাছে আসা চলবে না। ফলে শিশুর মনে নানা প্রশ্ন বড় হতে থাকে, যে সব প্রশ্নের উত্তর সে নিজে নিজেই খুঁজতে থাকে। স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়ার পরেও তার এই অভ্যাসটা থেকে যাবে এবং পরে কোন সমস্যা সে আপনার সাথে আর শেয়ার করবে না। আপনি ব্যস্ত থাকলে তাকে বুঝিয়ে বলুন সে যেন পরে আসে অথবা কাজ শেষ হলে আপনি নিজে গিয়েই তার খোঁজ নিন।

২) “তুমি একটা ……….”

কোন ভুল হলেই আমরা আমাদের সন্তানদের বলে ফেলি ‘তুমি একটা গর্দভ’ ‘তুমি একটা অলস।’ এতে কি হয় জানেন? তার মন বিশ্বাস করতে শুরু করে সে আসলেই একটা অপদার্থ, সে কিছু পারে না, পারবেও না। নিজের উপর বিশ্বাস হারানোর এই বীজ কিন্তু আপনিই তার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তাই এই ধরণের শব্দগুলো ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকুন।

৩) তুমি কেন ওর মতো হতে পারছো নাঃ

‘তুমি কেন ওর মত রেজাল্ট করছ না’ ‘কেন ওর মত শান্ত থাকছ না।’
একে অপরের সাথে তুলনা করা। অনেক আগে থেকেই ঘটে আসছে এই ব্যাপারটা।
এই তুলনা করার ফলাফল হয় আপনার সন্তান হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে। সে নিজেকে অন্যদের চেয়ে ছোট মনে করতে থাকে। কমতে থাকে তার আত্মবিশ্বাস। তার ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন ঠিক আছে কিন্তু কখনোই অন্যের সাথে তুলনা নয়।

৪) দাঁড়াও তোমার …. আসুকঃ

রেজাল্ট খারাপ হলে, কোন দুষ্টুমির পর বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি যাকে ভয় পায় মায়েরা তার নাম বলে হুমকি দিয়ে রাখে। যেমনঃ ‘দাঁড়াও, আজ তোমার বাবা আসুক!’ অথবা ‘দাঁড়াও, আজ তোমার স্যার আসুক!’
এতে কি ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেখুনঃ
• সন্তান বাবা ঘরে
আসার পর কি হবে এই চাপে থাকার কারণে মানসিক অস্থিরতার মাঝে থাকে।
• সে ভাবে যে তার মায়ের তাকে শাসন করার ক্ষমতা নেই, তাই সে মায়ের কথা কম শুনতে থাকে।

৫) তাড়াতাড়ি করো, তাড়াতাড়িঃ
তাড়াতাড়ি খাও,তাড়াতাড়ি হোমওয়ার্ক শেষ করো,তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাও। সারাটাদিন এই তাড়াতাড়ির উপর থাকতে থাকতে আপনার সন্তান দম ফেলার ফুসরত পায় না। সে তার মস্তিষ্কে সেট করে নেয় তাকে সব কাজ দ্রুত করতে হবে। সব কাজ দ্রুত করতে গিয়ে সে ভুল করে ফেলে, সাথে ভয়ে ভয়ে থাকে। তাই সবসময় তাড়াহুড়ো না করে তাকে ধীরে সুস্থে কাজ করতে শেখান।

এই শব্দগুলো আমরা সবসময় কখনো না কখনো আমাদের সন্তানদের বলেছি,বলছি এবং একবারের জন্যেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো ভেবে দেখিনি। তাই আজ থেকে নিজের শব্দভাণ্ডার থেকে এই শব্দগুলো ছেঁটে ফেলুন, সেটি আপনার সন্তানের মঙ্গলের জন্যেই।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।