যন্ত্রণাদায়ক মাম্পস- জেনে নিন ব্যথা উপশমের ঘরোয়া কয়েকটি উপায়

Mumps-Home-Treatmentচোয়াল ও গলার মধ্যখানে অবস্থিত মাংসগ্রন্থি (glands)সমূহ ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যে রোগের সৃষ্টি হয় তা মাম্পস (mups) নামে পরিচিত। এটা ছোয়াঁচে জাতীয় রোগ। এটি সাধারণত ৫-১৫ বছর বয়সীদের বেশি হতে দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়ষ্করাও বাদ যান না।

এর ফলে জ্ব্রর ও নানা সমস্যাসহ দেহের বিভিন্ন স্থানে ব্যথার উদ্ভব হয়। যেমন- মাথা,কান ও গলা ব্যাথা,ক্ষুধার উদ্রেক না হওয়া, কোনকিছু খেতে ও চিবানোর অসুবিধা, ক্লান্তি , মুখ ও গলা ফুলে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা ইত্যাদি। এটি খুবই অস্বস্থিকর ফলে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করাও জরুরী।

মাম্পস আক্রান্ত হলে যা করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি ঘরে কিছু নিয়ম মেনে চললে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন আরাম বোধ করবে, একইভাবে অন্যকারো কাছে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।

লোকজনের সাথে মেলামেশা কমানো

যেহেতু এটি সংক্রামক (infectious) ধরণের তাই আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত পরিবারে অন্য সদস্যদের সংস্পর্শ যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলা। আরো ভালো হয় সুস্থ হওয়া অবধি বাইরে লোকজনের সাথে প্রয়োজন ছাড়া মেলামেশা না করা।

বিশ্রাম ও গরম ভাপ নেওয়াঃ

এই অবস্থায় বিশ্রাম নেওয়া খুবই জরুরী। আক্রান্ত স্থান ফুলে গেলে ,ব্যথা হলে কাপড় চেপে চেপে গরম ভাপ দিতে হবে। প্রাথমিক ভাবে সাধারণ ব্যথানাশক ঔষধ সেবন করা যেতে পারে।

শক্ত ও টক জাতীয় খাবার পরিহার করাঃ

ভাইরাসটা গ্লান্ডে বা গ্রন্থিতে আক্রমণ করে বিধায় খাওয়ার অনেক অসুবিধা হয়। তাই যেসব খাবার শক্ত ও চিবিয়ে খেতে হয়। তা পরিহার করে নরম ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন-স্যুপ,ভর্তা ইত্যাদি। সাথে টক জাতীয় খাবারও ত্যাগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

প্রাকৃতিক উপাদানের প্যাক লাগানোঃ

কিছু কিছু প্রাকৃতিক উপাদান এই রোগের প্রতিষেধকের কাজ করে থাকে। এসব উপাদানের প্যাক বানিয়ে সপ্তাহ খানিক আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। যেমন-হরিতকি বা আদা দিয়ে তৈরি প্যাক।
হরিতকি বা আদা দিয়ে তৈরি প্যাক

  • এক/দুইটা শুকানো হরিতকির গুঁড়া অল্প পানির সাথে মিশিয়ে গলা ও অনান্য ফোলা স্থানে লেপে দিতে হবে দিনে ২/৩ বার।
  • আদা প্রাকৃতিক ভাবে ব্যথা নাশক। এক টেবিল চামচ রোদে শুকানো আদার গুঁড়া অল্প পানির সাথে গুলে গাল ও চোয়ালের নিচে প্রলেপ দিতে হবে।এভাবে শুকিয়ে আসলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। দিনে৩/৪ বার।

বটগাছের পাতার প্যাক
ব্যথা ও ফুলা কমানোর জন্য এটি বেশ ফলফসূ।একটি পরিষ্কার বটগাছের পাতায় আলতো ভাবে বাটার লাগিয়ে সেটিকে গরম করে(সহনীয় মাত্রায়) বেন্ডেজ দিয়ে চেপে লাগিয়ে রাখতে হবে। দিনে ২বার ।

ঘরোয়া সমাধানঃ

ঘরে প্রায়শ কাজে বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি মামসের মত সংক্রামক রোগ নিরাময়ে বেশ কার্যকরী। অল্প পানির সাথে এক চিমটি বেকিং সোডা মিশিয়ে প্যাকের মত করে লাগাতে হবে।২/৩ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটিও দিনে ২/৩ বার ব্যবহার করুন।

চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া

জ্ব্রর ১০৩ডিগ্রি বা তা্র বেশি হলে,খাবার একেবারে খেতে না পারলে, পেটে ব্যাথা হলে,ছেলেদের অন্ডকোষে ব্যথা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।