আপনি কি প্রস্তুত নিত্য নতুন আইডিয়া ভিত্তিক ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য?

innovative ideaএকটা ইনোভেটিভ বা সম্পূর্ণ নতুন ধরণের আইডিয়া বা ধারণা (innovative idea) একজন আন্ডারগ্রাজুয়েট বা স্নাতক পাশ শিক্ষার্থীর জীবন, তার ক্যারিয়ার, গোটা একটা সমাজ, এমনকি একটা দেশ বদলে দিতে পারে; বদলাতে পারে পুরো ব্রহ্মাণ্ডকেও। পশ্চিমারা যেখানে হন্যে হয়ে লেগেছে আইডিয়ার পেছনে সেখানে আমরা এখনো খুঁজি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার এর মত সহজলভ্য (মাঝে মাঝে দুষ্প্রাপ্য) এবং আরামদায়ক ক্যারিয়ার।

আমাদের এখানে এইচএসসি পাশের পরই একটা তরতাজা যুবকের মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয় তুমি ডাক্তার হও, না হয়ত ইঞ্জিনিয়ার হও, কমার্স এ পড়লে ব্যাংকার হও। জগতের আর সবকিছু এগুলোর নিচে। সত্যটা অনেকের অজানা রয়ে যায়, অনেকে হয়তো জানতে পারে তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

বাস্তব হলো- পৃথিবী চলছে এখন আইডিয়া বা ধারণার উপর। তোমার ইউনিক(নিজের) কোনো আইডিয়া আছে? নতুন কিছু করার চেষ্টা আছে? তুমি আত্মবিশ্বাসী? ব্যাস- হয়ে গেল। কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব বর্তমানের এই তিনটি সেরা টেকজায়ান্ট এর ইতিহাস পড়। বুঝতে পারবে।

pappuu-imageক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল আইডিয়া (creative idea) হলে তোমাকে কেউ থামাতে পারবেনা, টাকা তোমার পথের বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না, তোমার বিগত পরীক্ষার খারাপ ফলাফল তোমাকে ঘামাবে না আসলে এগুলো মুখ্য নয়, এগুলো গৌণ। আমাদের শেখানোই হয়েছে বা হচ্ছে উল্টোভাবে। যেখানে হংকং, সাংহাইয়ের ম্যাট্রিক/এস এস সি (সমমান) পাশ করা ছেলেমেয়েরা তৈরি করছে নতুন নতুন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন সেখানে আমাদের ম্যাট্রিক পাশ ছেলেমেয়েরা সেই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে বিনোদন নিচ্ছে। তারা জানেই না এইগুলো চাইলে তারাও তৈরি করতে পারত (যদি তাদেরকে সেইভাবে গড়ে তোলা হতো)। তাদের বয়সের ছেলেমেয়েরা কত নতুন নতুন ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে কম্পিটিশনে অংশ নিচ্ছে শুধুই মজার জন্য নয়, নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য।

আমরা জানি এবং বিশ্বাসও করি এই দেশে যে আর্টস বা কলা নিয়ে পড়বে সে সবচেয়ে খারাপ মেধার শিক্ষার্থী। এমনকি সেই শিক্ষার্থী নিজেও বিশ্বাস করে সে নিতান্তই মেধাহীন, তার পরীক্ষার ফলাফল ভালো না, তাই সে আর্টস নিয়েছে কল্পনায় পর্যন্ত দেখতে/জানতে পারে না পৃথিবীর কত কত সৃজনশীল ক্ষেত্রে (creative sector) রয়েছে যেগুলো আর্টসের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর, আর্টস বা কলার একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য কত মজার, কত আকর্ষণিয় সব বিষয় পড়ে আছে এই পৃথিবীতে তা আমাদের দেশের ওনেক আর্টস শিক্ষকেরা (বিশেষ করে স্কুল শিক্ষকেরা) নিজেই জানেন না। তারা শুধু জানেন, এখানে কিছু “গাধার পাল” পড়ে, তিনি গাধার পালের রাখাল এই বিষ মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয় স্কুল বেলাতেই।

দোষ দিয়ে লাভ নেই, দোষা-দোষী করে লাভ নেই। সময় হারিয়ে যায় নি। নিজেকে আবার প্রস্তুত করতে হবে আমাদের নিজেদেরকেই শিখতে হবে, জানতে হবে; জ্ঞানবৃক্ষে আরোহণ করতে হবে। দেখতে হবে সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষে উঠলে কি দেখা যায় তবেই নিজের মুক্তি সম্ভব, নিজেদের মুক্তি সম্ভব।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।