আপনার জন্য একজন পারফেক্ট জীবনসঙ্গী খুঁজতে যে কয়েকটি দিকের উপর নজর রাখবেন

lifepartner

আপনার চারপাশের এতো এতো লোকের ভিড়ে নিজের জন্য পারফেক্ট সঙ্গী খুঁজে বের করা সত্যি ই খুব কঠিন কাজ।

এমন একজন মানুষকে খুঁজে বের করতে হবে যে আপনাকে পাগলের মতো ভালোবাসার সাথে সাথেই আপনার বিপদের সময় আপনার প্রয়োজনে একজন যোগ্য রক্ষকের মতোই আপনাকে সমস্ত বিপদের ছোঁয়া বাঁচিয়ে রাখতে পারবে।

আপনার সকল চাহিদা পূরণ করবে আবার সাথে আপনার ভালো খারাপ দিকগুলোর যথাযোগ্য মূল্যায়ন ও করবে। এটা সত্যি যে মানুষের চেহারা বা বাহিরের অবয়ব দেখে সব সময় তার সঠিক চরিত্র বিচার করা সম্ভব হয় না।

তবে এটাও সত্যি একজন মানুষের ব্যবহার ও চালচলন দেখেও মোটামুটিভাবে তাকে মূল্যায়ন করা সম্ভব।

আসুন দেখে নিই কিভাবে আপনি হাজার হাজার মানুষের মধ্য থেকে আপনার পারফেক্ট সঙ্গী বেছে নেবেন।

* যদি আপনার সুযোগ থাকে নিজের জন্য সঙ্গী নিজে বেছে নেওয়ার তবে অন্ধের মতো যাকে তাকে নিজের জন্য নির্বাচন না করে বরং একটু সময় নিন।

কাউকে মনে ধরলে তার প্রতি একটু সতর্ক দৃষ্টি দিন। তার প্রতিটি কার্যকলাপ মনোযোগ দিয়ে দেখুন।

একটা কথা মনে রাখবেন মানুষের ভালো আর খারাপ দিকগুলো এমন যা কখনই কেউ লুকিয়ে রাখতে পারেনা। তাই আপনি যদি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন তাহলে তার ভালো খারাপ দিকগুলো আপনার চোখে পড়তে বাধ্য।


আরো পড়ুনযেভাবে খুঁজে পেতে পারেন মনের মতো জীবনসঙ্গী


*একজন পুরুষের পূর্ণ ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় তার পোশাক আশাকে। আপনি যদি কাউকে আপনার সঙ্গী হিসেবে পছন্দ করে থাকেন তাহলে তার পোশাক আশাকের দিকে খেয়াল রাখুন।

একজন ভালো রুচির মানুষের অবয়ব ফুটে উঠে তার পোশাকে। গোছানো আর ছিমছাম পুরুষের পোশাক আশাক সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন থাকে।

তাই আপনি যদি একজ গোছানো ও পরিচ্ছন্ন মানুষ সঙ্গী হিসেবে চান তাহলে তার পোশাক পরিচ্ছদ নজরে রাখুন।

*একজন ভালো পুরুষের অন্যতম গুণ হল নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। যেকোন পরিস্থিতি সামলে নিতে ও অবস্থা নিয়ন্ত্রনে রাখতে নেতৃত্ববান পুরুষের জুড়ি নেই।

তাই আপনি কাউকে সঙ্গী হিসেবে বাছাই করতে গেলে তার যে গুনটি অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন তা হল নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা।

*সঙ্গী হিসেবে প্রতিটি নারীর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা পুরুষের আরও একটি বৈশিষ্ট হল রোম্যান্টিক মন মানসিকতা।

সঙ্গী হিসেবে খুব বেশি ব্যক্তিত্ববান পুরুষের থেকে রোম্যান্টিক ও বন্ধুসুলভ মানসিকতার পুরুষরা ভালো হয়।

এরা সব সময় আপনাকে মানসিকভাবে সুখী রাখবে, তাই সঙ্গী নির্বাচন করতে এই দিকটি পর্যবেক্ষণ করতেও ভুলবেন না।


আরো পড়ুনসঙ্গীর বিরক্তির কারণ হতে না চাইলে আজই ত্যাগ করুন এই ৩টি আচরণ

*সঙ্গী হিসেবে কেয়ারিং ও দায়িত্ববান পুরুষ সবথেকে ভালো হয়। এরা আপনার সকল চাহিদা পুরনের পাশাপাশি আপনার দায়িত্ব ও ভালো মন্দের দিকে খেয়াল রাখতে তৎপর থাকবে।

কেয়ারিং পুরুষের লক্ষণ পেতে আপনাকে তার পরিবারের দিকে নজর দিতে হবে। দেখতে হবে পরিবারের প্রতি সে কতোটা দায়িত্ববান।

যে পরিবারের সদস্যদের কেয়ার করে না সে আপনার জন্য কতোটা কেয়ারিং হবে তা হিসেব করে বের করা দুষ্কর।

*সঙ্গী হিসেবে কাউকে নির্বাচন করার আগে দেখুন যে সেই মানুষটা আপনাকে কতটুকু শ্রদ্ধা করতে পারবে। কেনোনা সম্পর্কে ভালোবাসা ও কেয়ারিং এর পাশাপাশি শ্রদ্ধাবোধ থাকাটাও জরুরী।

যে সম্পর্কে এক অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকে না সে সম্পর্ক যেকোন সময় মুখ থুবরে পড়তে পারে।

*সঙ্গী হিসেবে হাসিখুশি মানুষ সবথেকে পারফেক্ট হয়। খুববেশী রাশভারী স্বভাবের মানুষ সঙ্গী হিসেবে সুবিধের হয় না।

জীবনে সুখে দুঃখে আপনার সঙ্গী যদি আপনার পাশে হাসি মুখে আপনার হাত ধরে দাঁড়ায় এই অনেকক্ষানি  পাওয়া হবে আপনার জন্য।

আর হাসিখুশি মানুষ চিন্তে নিশ্চয় কোন বিশেষ লক্ষনের উপর দৃষ্টিপাত করতে হবে না।

*সঙ্গী বাছায় করতে গিয়ে অবশ্যই আবেগকে খুব বেশি প্রশ্রয় না দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খেয়াল রাখুন। আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে সে আর্থিকভাবে কতটুকু স্বাবলম্বী।

কেনোনা একজন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী পুরুষই কেবল আপনার সকল সুখ সুবিধার দায়ভার নিতে সক্ষম হবে। তাই কাউকে সঙ্গী হিসেবে বাছায় করার পূর্বে তার আর্থিক দিকটা খুব সাবলীলভাবে জেনে নিতে ভুলবেন না।


আরো পড়ুনযেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনি একটি সুন্দর সম্পর্কে আছেন


সবথেকে বড় সত্যি হল পৃথিবীতে কোন মানুষই সবদিক দিয়ে পারফেক্ট হয় না। কিন্তু তারপরও আমাদের একটু সচেতনভাবে খুঁজে দেখতে হয় যাতে নিজের জন্য যোগ্য কারও সাথেই নিজের জীবন জড়াতে পারেন।

কেনোনা সম্পর্ক এমন কোন জিনিস নয় যে বার বার বদলানোর ফলে ভালো কাউকে পেয়ে যেতে পারেন। যারা এমনটা ভাবেন তারা সম্পর্কের মূল মর্মই কোনদিন অনুভব করতে পারেনা।


সম্পর্কিত পোস্ট: