নতুন বাচ্চার জন্যে কেমন হবে আপনার আর্থিক পরিকল্পনা?

new-parentsপরিবারে নতুন একটি বাচ্চার জন্মগ্রহণ করা মানে পরিবারের বেশ কিছু পরিবর্তন হওয়া। আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা আসে আপনার খরচের উপর। আর সে খরচগুলো এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায়ও থাকে না। এই অবস্থায় সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে, নতুন বাচ্চার জন্যে একটি আর্থিক পরিকল্পনা করে রাখা। নতুন একটি আর্থিক পরিকল্পনা থাকার মানে ভবিষ্যতের কাজ অনেক সহজ করে রাখা। চলুন দেখি নতুন বাচ্চার জন্যে কিভাবে সহজে একটি আর্থিক পরিকল্পনা করা যায়।

১) আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থা লিপিবদ্ধ করুনঃ
আপনার সকল আয়, খরচ, ঋণ এর পরিমাণ লিপিবদ্ধ করুন। আপনি কত পাচ্ছেন আর কত খরচ করছেন এই নিয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকলে আপনার বাচ্চার জন্যে আর্থিক পরিকল্পনা করতে সহজ হবে।

২) একটু মিতব্যয়ী হওয়ার চেষ্টা করুনঃ
বাচ্চা প্রসবের সম্ভাব্য মাসটিতে এবং ঐ মাসটির আগে থেকেই একটু মিতব্যয়ী হওয়ার চেষ্টা করুন। খুব বেশি দরকার নেই এই ধরণের খরচগুলো ছেঁটে ফেলুন। মিতব্যয়ী হওয়ার জন্যে খুব কষ্ট করার কিন্তু দরকার নেই। নতুন অতিথি আপনার জন্যে কত গুরুত্বপূর্ণ এবং কত আদরের। এইভাবে ভাবলে খরচ কম করা আপনার জন্যে সহজ হবে।

৩) বাচ্চার জন্যে খরচের তালিকাটিকে দুইভাগ করুনঃ
বাচ্চার জন্যে কি কি কিনতে হবে আগে সেটার একটা তালিকা করবেন। কিছু খরচ একটু বড় পরিমাণের হয়। যেমন বাচ্চার দোলনা, আসবাবপত্র, Stroller (বাচ্চাকে বসিয়ে চড়ানোর গাড়িবিশেষ)।
এছাড়া বাচ্চার খাবার, জামাকাপড়, খেলনা এগুলোর খরচ একটু কম হবে। এই তালিকাটি করার পর কোন জিনিসগুলো বেশি দরকারি আর কোনগুলো কম দরকারি এই দুইভাগে তালিকাটি ভাগ করে ফেলুন। তাহলে প্রথমে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কেনার পর টাকা থাকলে, কম প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনতে পারবেন।

৪) সম্ভাব্য খরচের সাথে আপনার বাজেট মিলিয়ে দেখুনঃ
এইবার সব মিলিয়ে কত টাকা খরচ হতে পারে একটা অনুমান করুন। এবার আপনার হাতে কত টাকা আছে দেখুন। যদি দেখেন যে ঘাটতির পরিমাণ বেশি হয়েছে তবে বাকি টাকা কোথা থেকে জোগাড় করতে পারেন তা ঠিক করুন। আর যদি যথেষ্ট পরিমাণ টাকা থাকে তাহলে তো দুশ্চিন্তার আর কিছু নেই।

৫) কিছু টাকা সরিয়ে রাখুনঃ
হাসপাতালের খরচ থেকে শুরু করে বাচ্চাকে বাসায় আনা, বাচ্চার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা এই সব কিছু করার পরেও কিছু খরচ থাকে। যেমন বাচ্চা বা মায়ের যে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, এছাড়া হঠাৎ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোন নতুন খরচের আবির্ভাব ঘটতে পারে। সেই দিশেহারা অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে সম্ভব হলে আগে থেকেই কিছু টাকা আলাদা করে রাখুন।

ভবিষ্যতের সংখ্যাভিত্তিক পরিকল্পনাকেই বাজেট বলে। এইরকম একটি বাজেট করা থাকলে আপনি অনেক ঝামেলা এড়িয়ে থাকতে পারবেন। এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।