ব্লগের জন্য হোস্টিং নির্বাচনের পূর্বে যে বিষয়গুলো জেনে নেয়া জরুরী

hosting ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের জন্য হোস্টিং নির্বাচন প্রক্রিয়া মোটামুটি একই হলেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ব্লগের জন্য হোস্টিং (blog hosting) নির্বাচনের আগে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিতে হবে। কারণ পরিশ্রম করে ব্লগ তৈরি এবং মানসম্মত পোস্ট দেয়ার পরেও হয়তো শুধুমাত্র অনুপযুক্ত হোস্টিং (hosting) এর কারণের আপনার ব্লগের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না ও আসতে পারে।

১. হোস্টিং মূল্য (price):

নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য যখনই আমরা হোস্টিং নির্বাচন করতে যাই, সবার প্রথমে আমাদের দৃষ্টি চলে যায় কতটা স্বল্প মূল্যে প্রোভাইডাররা হোস্টিং সুবিধা প্রদান করছে তার দিকে (free blog hosting)। সাধারণ কোন ওয়েবসাইট হলে স্বল্পমূল্যের হোস্টিং (cheap web hosting) নির্বাচন করা যায়। কিন্তু যেহেতু আপনি ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জনের কথা ভাবছেন তাই একটু বেশি টাকা খরচ করে ভাল হোস্টিং নির্বাচন করাই শ্রেয়। কারণ স্বল্প মূল্যের হোস্টিং নির্বাচন করলে দেখা যেতে পারে আপনার ব্লগে জন্য প্রয়োজনীয় র‍্যাম, প্রসেসিং পাওয়ার এবং ডিস্ক স্পেস পাচ্ছেন না।

২. হোস্ট প্রোভাইডারের বিশেষত্ব (specialty):

অনেক সময় দেখা যায় কিছু হোস্ট (host) বড় বড় ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের জন্য আদর্শ হলেও ব্লগের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে পারে না। তাই ব্লগের জন্য হোস্টিং নির্বাচনের আগে যাচাই করে নিতে হবে ব্লগ হোস্ট এর ব্যাপারে তাদের কোন বিশেষত্ব আছে কি না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত ব্লগগুলোর (blogs) পরিচালকদের সাথে আলোচনা করে তারা কোন প্রোভাইডারের কাছ থেকে হোস্টিং নিচ্ছেন, এবং কি ধরণের সুবিধা পাচ্ছে্ন তা জেনে নেয়া।

৩. ডিস্ক স্পেস, আপটাইম, কানেকশন স্পিড এবং ব্যান্ডউইথ এর ক্ষেত্রে হোস্ট প্রোভাইডারের প্রদত্ত সুবিধাসমূহ (facilities):

  • ব্লগ যেহেতু নিয়মিত আপডেট হয় তাই আন লিমিটেড ডিস্ক স্পেস নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ ব্লগের পেজ, ছবি, ভিডিও ইত্যাদির জন্য প্রচুর জায়গা দরকার হয়। এছাড়া আন লিমিটেড ডিস্ক স্পেস নিলে পরবর্তীতে যখন আপনার ব্লগ আরও বিস্তৃত হবে, তখন আপনাকে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।
  • সাধারণত প্রায় সব প্রোভাইডারই (hosting company) ৯৯% আপটাইমের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় তা সঠিক নয়। যত বেশি আপটাইম থাকবে, তত বেশি সময় ধরে আপনার ব্লগটি পাঠকরা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে দেখতে পারবেন। তাই হোস্টিং নেয়ার আগে যাচাই করে নিন ঠিক কতটা আপটাইম আপনার প্রোভাইডার আপনাকে অফার করছে।
  • কানেকশন স্পিড অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। যে কোন প্রোভাইডারের কাছ থেকে হোস্টিং নেয়ার আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে তাদের সার্ভারে ইতিমধ্যেই যে সব ওয়েব সাইট হোস্ট করা আছে, সেসব কতটা দ্রুত লোড হচ্ছে। আপনার ব্লগ (blog site) যদি অত্যন্ত ধীর গতিতে লোড হতে থাকে ব্রাউজারে, অবশ্যই আপনি পাঠক হারাবেন।
  • আপনার প্যাকেজের সাথে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ পাচ্ছেন কিনা লক্ষ্য রাখুন। কারণ অল্প ব্যান্ডউইথ নিলে দেখা যাবে আপনার ধারণার চেয়ে বেশি ট্রাফিক ব্লগে এলে ব্যান্ডউইথ শেষ হয়ে যাবার কারণে মাসের মাঝপথেই ব্লগ বন্ধ হয়ে যাবে।

৪. হোস্ট প্রোভাইডার কি ধরণের গ্রাহক সুবিধা দিচ্ছে (customer care):

একদিন হঠাৎ দেখলেন আপনার ব্লগ বন্ধ হয়ে আছে, ব্রাউজারে দেখা যাচ্ছে না। কল করলেন আপনার হোস্ট প্রোভাইডারের (hosting company) কাছে এবং মুহূর্তেই ঠিক হয়ে গেল সব কিছু। এমন সুবিধা কিন্তু সব প্রোভাইডার দেন না। এছাড়াও আরও বিভিন্ন সাহায্যের জন্য হোস্ট প্রোভাইডারের সাথে আপনার যে কোন মুহূর্তে যোগাযোগ করতে হতে পারে। তাই ব্লগের হোস্টিং নির্বাচনের আগে দেখে নিন কোন প্রোভাইডার কেমন কাস্টমার কেয়ার বা গ্রাহক সুবিধা প্রদান করছে। সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টার যে কোন সময় যোগাযোগ করলে সাহায্য পাওয়া যায় এমন হোস্ট (hosting) নির্বাচন করুন।

৫. ব্লগ ব্যাকআপ রাখার সুবিধা পাচ্ছেন কি না দেখুন (blog backup):

হোস্টিং নেয়ার আগে দেখুন কোন প্রোভাইডার আপনাকে ব্লগ ব্যাকআপ রাখার সুবিধা দিচ্ছে । এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনার ব্লগ হ্যাক (website hack) হয়ে যেতে পারে, হোস্টিং প্রোভাইডারের হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। ফলে আপনি হারাবেন অনেক পরিশ্রম তৈরি ব্লগের সব কন্টেন্ট সেই সাথে সব পাঠকও।

৬. হোস্টিং প্রোভাইডার কি ধরণের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন তা জেনে নিন (types of hardware and software):

হোস্টিং প্রোভাইডার কি ধরণের কম্পিউটার, সার্ভার, অপারেটিং সিস্টেম ইত্যাদি ব্যবহার করছে তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। নিজে যদি বুঝতে না পারেন, এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারনা আছে এমন কারো সাহায্য নিন। তা না হলে হয়তো দেখা যাবে সব সুযোগ সুবিধা যাচাই করেই আপনি হোস্টিং নির্বাচন করলেন, কিন্তু অনুন্নত যন্ত্রপাতির কারণে সে সব সুবিধার বেশ অনেকটাই পেলেন না।

৭. কন্ট্রোল প্যানেল আধুনিক এবং সহজ কি না দেখে নিন (control panel):

ব্লগে লেখা পোস্ট করা, ছবি বা ভিডিও আপডেট করা ইত্যাদি কাজগুলো আপনাকে করতে হবে কন্ট্রোল প্যানেল থেকেই। এটা যত আধুনিক এবং ব্যবহার বান্ধব হয়ে ততই আপনার কাজ সহজ হবে এবং সময় বাঁচবে। তাই হোস্টিং নির্বাচনের আগে জেনে নিন তারা আপডেট সহজ করার জন্য cPanel বা Plesk ব্যবহার করছে না কি খুব দুর্বোধ্য কোন ইন্টারফেস দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।

৮. পরবর্তীতে ব্লগকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পাবেন কি না আগেই জেনে রাখুন (room to grow):

আপনি বর্তমানে যে প্ল্যানটি কেনার কথা ভাবছেন কয়েক বছর পর তা আপনার জন্য উপযুক্ত না ও হতে পারে। যেহেতু আপনি অর্থ উপার্জনের জন্যই ব্লগ তৈরি করছেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান ব্লগের আকার এবং ৫ বা ১০ বছর পর ব্লগের আকারে এবং আপনার চাহিদায় বিশাল পার্থক্য দেখা দিবে। তখন আপনি প্ল্যান বদলাতে পারবেন কি না, বা বড় ব্লগের জন্য উপযুক্ত সুবিধাসমূহ প্রোভাইডার দিতে পারবেন কি না তা খুব ভালভাবে জেনে নিয়ে তবেই হোস্টিং (blog hosting) নির্বাচন করুন। ব্লগ নিয়ে আরও লেখাঃ ১. কিভাবে ব্লগের নাম নির্বাচন করবেন ২. একটি জনপ্রিয় ব্লগ পোস্ট লেখার জন্য যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা প্রয়োজন ৩. ব্লগের লেখা প্রকাশ করার আগে যে বিষয়গুলো দেখে নেয়া দরকার লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।