আপনার ডিভোর্সের প্রভাব যেন না পড়ে আপনার সন্তানের উপর

child

একটি সম্পর্কের শুরু হয় অনেক স্বপ্ন, আস্থা আর বিশ্বাস নিয়ে। কিন্তু সংসার নামক একটা গণ্ডীর মধ্যে প্রবেশ করার পড়ে অনেক সম্পর্কেই টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর আর ভালোবাসার এই সম্পর্কটিও ভাঙতে বসে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে কাল যেই দুজন মানুষ একে অন্যর সুখ দুঃখের সাথী ছিল সামান্য সময়ের ব্যবধানে সেই দুইজন মানুষই একে অপরের কাছে সবচেয়ে ঘৃণার আর শত্রুভাবাপন্ন মানুষে রূপান্তরিত হয়।

আর যার ফলাফল ডিভোর্স। হ্যাঁ একটা সময় সবটা ঠিক হয়ে যায় ডিভোর্সের পর আবার দুজন মানুষ নতুন করে তাদের জীবন শুরু করে।

কিন্তু যদি আপনাদের এই ডিভোর্সের মাঝখানে যদি আপনার সন্তান পড়ে যায় একবারও ভেবে দেখেছেন সেই বাচ্চাটির উপর দিয়ে কতোটা ঝড় বয়ে যায়?

ডিভোর্সের সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে আপনার আদরের সন্তানটির উপর। একটা কথা সব সময় মনে রাখতে হবে, ডিভোর্স স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হতে পারে কিন্তু বাবা মায়ের সাথে সন্তানের কখনো ডিভোর্স হয়না।


আরো পড়ুন– ডিভোর্সের পর সন্তানের উপর খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য অবশ্যই করণীয়


আপনার ডিভোর্সের নেতিবাচক প্রভাব সন্তানের উপর না ফেলতে অনুসরণ করতে পারেন কিছু কার্যকরী পরামর্শ।

ডিভোর্স নিয়ে আপনাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতেই পারে তবে সেটা চেষ্টা করুন আপনার সন্তানের সামনে না করতে।

আপনাদের একে অপরের সাথে তর্ক আর কথা কাটাকাটি আপনার সন্তানের মনে আপনাদের প্রতি অশ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করবে আর যার ফলাফল পড়বে তার সুদুর ভবিষ্যৎ এর উপর।

আপনার সন্তানের দায় দায়িত্ব কার উপর বর্তাবে কে তার দেখাশোনা করবে আর কেইবা আগামীতে তার অভিবাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এই বিষয় সংক্রান্ত আলোচনাগুলো নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।

শুধু আপনার সন্তানের সম্মুক্ষে এসব বিষয়ে আলোচনা করে তার মন বিষিয়ে তুলবেন না। এই বিষ একবার তার মনে ঢুকলে সহজে বের হবেনা।

ভুলেও আপনার সন্তানকে ডিভোর্সের কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করবেন না।

আপনার সন্তানের কচি মনে যদি একবার বাবা মায়ের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার অপরাধবোধ জন্ম নেই তাহলে সে জীবনে মনে হয় আর কখনোই নিজে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না।

অনেকেই আছেন ডিভোর্স সংক্রান্ত আলোচনায় সন্তানকে বোঝা হিসেবে মূল্যায়ন করেন, এটি একটি চরম ধরণের অন্যায় কাজ।

সন্তানের সুন্দর আর বিকশিত আগামীর স্বার্থে তাকে সকল অপরাধ বোধে ভোগা থেকে বের করে নিয়ে আসুন।

ডিভোর্সের প্রভাব থেকে আপনার সন্তানকে বের করে নিয়ে আসতে তার সাথে বেশী বেশী সময় অতিবাহিত করুন। তাকে ঘুরতে নিয়ে যান, বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ করে দিন।


আরো পড়ুনএকজন ডিভোর্সি বাবা মা হিসেবে যে ৩ টি মারাত্মক ভুল কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন


হাতে খানিকটা সময় পেলে আপনার সন্তানের মনের কথা জানার চেষ্টা করুন তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করুন যাতে করে আপনাদের ডিভোর্সের প্রভাব তাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে না হয়।

দেখা যাচ্ছে ডিভোর্সের পর বাচ্চার আপনি পেলেন না। সেক্ষেত্রে এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে সন্তানের উপর থেকে আপনার সব অধিকার আর সব দায় দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলো।

আপনার এই চিন্তার প্রভাবও আপনার আদরের সন্তানের উপর পড়তে বাধ্য। তাই সন্তানের ভালো চেয়ে সপ্তাহে অন্তত একবার তার সাথে দেখা করুন সাথে কিছু ভালো সময় কাটান।

আপনার ভালোবাসা আর আদর কখনো উপহার বা অন্য কিছু দিয়ে পূরণ করতে পারবেন না।

তাই সন্তানকে দামী দামী উপহার দেওয়ার বদলে তার সাথে তার মতো করে খানিকটা সময় যাপন করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে আপনার সন্তান স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

আপনার সন্তানকে সম্পূর্ণ একটা নতুন আর অজানা জীবন যাপনের সাথে মানিয়ে নিতে আপনি তাকে সহায়তা করুন।

তাকে একা একা দূরে সরিয়ে না রেখে তার হাত ধরে তার জন্য এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।


সম্পর্কিত পোস্ট: