স্বাস্থ্য সচেতন নারীরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখবেন যে খাবারগুলো

weight-loss-diet-plan-for-womenনারী কেবল শারীরিক ভাবেই পুরুষের থেকে আলাদা নয়, বরং নারী মানসিকভাবেও পুরুষের থেকে আলাদা। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই নারীর খাদ্য তালিকা পুরুষের থেকে একটু আলাদা হওয়ায় জরুরী। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আমাদের দেশের নারীরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যেমন উদাসীন ঠিক একইভাবে খাদ্য সম্পর্কেও সমান অসেচেতন। এই অসচেতনার কারণেই আমদের দেশের নারীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। অথচ খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কে একটু সচেতন হলেই নারীরা শারীরিকভাবে সবল এবং মানসিকভাবে উচ্ছল থাকতে পারে।

জেনে নিন স্বাস্থ্য রক্ষায় যেসব খাবার নারীরা তাদের খাদ্য তালিকায় রাখবেন

১) দুধঃ

নারীদের স্বাস্থ্যরক্ষায় দুধ ভীষণ উপকারী। দুধ পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি১২ এর বিশাল উৎস। এছাড়া দুধে আয়রন ও ভিটামিন সি ছাড়া ও প্রায় সব পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, সুস্থ দাঁত ও হাড় মজবুত করে এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে। দুধ প্রতিদিন খাওয়াতে নারীদের স্তন ক্যান্সার এবং কোলন ক্যান্সার মত ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় ধারণা করা হচ্ছে। তাই নারীদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ রাখা দরকার।

২) মাছঃ

নারীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্য তালিকায় মাছ রাখাটা খুব জরুরী। মাছে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন, ফ্যাট ও অন্যান্য পুষ্টিমাণ থাকে যা নারীদের নিয়মিত পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। তেলযুক্ত মাছ বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা-৩ ও ভিটামিন ই। যা উচ্চ রক্তচাপ, খারাপ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা, ডায়াবেটিস, বাত ও ক্যানসারের সম্ভাবনা কমায়। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক গঠনের জন্য এসব উপাদান খুবই জরুরি। তাই গর্ভবতী মায়েরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে মনে রাখুন।

৩) ফলিক অ্যাসিডঃ

যদিও সবারই ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করা জরুরী তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করাটা খুব জরুরী। ভাবছেন ফলিক অ্যাসিড আবার কি? পাতা কপি, শাক সবজি, কমলার রস এবং যেকোন সবুজ শাকসবজিতে ফলিক অ্যাসিড থাকে। ফলিক অ্যাসিড হার্ট সুস্থ রাখতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

৪) ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলঃ

স্ট্রবেরি, পেয়ারা, পেঁপে, কমলা, জাম্বুরা, টমেটো, আপেল, কলা ও লেবু জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। নারীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভিটামিন সি গ্রহণ করাটা জরুরী। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় আর নারীর মানসিক প্রফুল্লতা ধরে রাখে।

৫) আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্যঃ

শরীরের হিমোগ্লোবিন গঠন, পেশী ফাংশন, মস্তিষ্কের ফাংশন ও নারীদের পিরিয়ডের সমস্যা কমাতে আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ। শাক ও পাতা কপি, মুরগীর মাংস, যকৃত, চিংড়ি ও ডিমের কুসুম ইত্যাদিতে প্রচুর আয়রন থাকে। তাই খাদ্য তালিকায় এগুলো রাখতে চেষ্টা করুন।

৬) ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারঃ

ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। সুস্থ দাঁত ও হাড়ের গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম জরুরী, কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে ক্যালসিয়াম গ্রহণের বিকল্প নেই। দুধ, ডিম, মাছ, দই, পনির, ফুলকপি ও শিমে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। নারীরা সংসারের কাজে অনেক সময় দেয় তাই তাদের হাড়ের গঠন মজবুত করতে এই খাবারগুলো খাওয়া খুব দরকার।

৭) পানিঃ

পানি মানব শরীরের সব বিপাকীয় প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। পানি আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ সরিয়ে দেয় আর আমাদের ত্বক সুন্দর রাখে। নারীর ত্বক ভালো, ওজন হ্রাস ও হজম শক্তি বাড়াতে প্রতিদিন ৮ লিটার পানি পান করা জরুরী।

প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত খাদ্য নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শুধু প্রয়োজন একটুখানি সচেতনতা।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।