ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণ জানুন,সফলতাকে রাখুন হাতের মুঠোয়

Smiley-IT-Business-Planজীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য স্থির করা (set a goal)। সে লক্ষ্যের সাথে জড়িত সকল কিছু সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা। যারা নিজেকে সফল ব্যবসায়ী (successful businessman) রুপে দেখতে চান। তাদের প্রথমেই ঠিক করা উচিত কোন ধরণের ব্যবসার সাথে যুক্ত হবেন। কেননা সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে শুরুতে ঘাটতি আর শেষে লাল বাতি জ্বলবে ।

যে বিষয়গুলো ব্যবসায়িক ব্যর্থতার জন্য দায়ী

যে কোন ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করার আগে তার প্রতিবন্ধকতা সমূহ চিহ্নিত করা বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা এটি বাধা অতিক্রম করার সক্ষমতা দেবে এবং মূলধণ ও সফলতাকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলতে সাহায্য করবে।

দূর্বল ব্যবস্থাপনা (poor management)

যেকোন ব্যবসায় ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হলো ব্যবস্থাপনায় দূর্বলতা। নতুন ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে এটি বেশ লক্ষ্যণীয়। মূলধন (capital) যোগান, দ্রব্য ক্রয়, বিক্রয়, উৎপাদন এবং লোকজন নিয়োগ দেয়া তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব থাকলে খুব শীঘ্রই লোকসানের মুখ দেখতে হবে। তাই ব্যবসায়ী এবং কর্মচারী উভয় শিক্ষিত হওয়া, নিয়োগ পরবর্তী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, প্রতিদিনের বাজার ধরণ ও ক্রেতার চাহিদা বোঝা, বিভিন্ন রকমের জালিয়াতি ও প্রতারনার ব্যাপারে সজাগ থাকা জরুরী।

অপর্যাপ্ত মূলধন (insufficient capital)

অপ্রতুল মূলধন নিয়ে কোনপ্রকার ব্যবসা উঠে দাঁড়াতে পারে না। বরং মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। ব্যবসা আরম্ভ করার সাথে সাথে রমরমা হবে তা ভাবা উচিত নয়। বরং মাথায় রাখতে হবে ব্যবসায় স্থির হতে এক বা দুই বছর লেগে যেতে পারে। সেজন্য ব্যবসার প্রাথমিক খরচ, বাজারের আবহাওয়ার সাথে ব্যবসাকে খাপ খাওয়ানোর মত তৎক্ষণাৎ অর্থের যোগানের পরিমাণ হিসেব করতে হবে। কেননা যতদিন পর্যন্ত না বিক্রয়মূল্য সকল খরচ এর সমমূল্য অতিক্রম করছে অর্থাৎ লাভ হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মূলধন প্রস্তুত রাখতে হবে।

অনুপযুক্ত স্থান (imperfect location)

ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী স্থান নির্বাচন করা না হলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা কিংবা মোটা অংকের মূলধণ ব্যবসায় ধস ঠেকাতে পারে না। তাই প্রথমে দেখতে হবে আপনার পণ্যের (product) প্রতি মানুষের চাহিদা কেমন, এর ক্রেতার সমাগম কোথায় বেশি,আশে পাশে অন্য কেউ একই ব্যবসায় আছে কিনা,আপনার প্রতিষ্ঠান ভবনের অবস্থা ও নিরাপত্তা কেমন,তার সাথে সংযুক্ত রাস্তার পার্কিং সুবিধা ও ট্রাফিক সব কিছু বিবেচনা করতে হবে।

পরিকল্পনার ঘাটতি (lack of planning)

সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কোন কিছু অর্জন সম্ভব হয় না। পরিকল্পনার উপর কাজের অর্ধেক সাফল্য-ব্যর্থতা। সেক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিভাবে পরিচালিত হবে (strategy),আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসেব, বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া (marketing),যথাযথ প্রচারমূলক কার্যক্রম,বাজেট বন্টন (budget) ,ব্যাংকিং লেনদেন (transaction) সব কিছু পরিকল্পনার আওতায় রাখতে হবে।

অতিরিক্ত সম্প্রসারণ (overexpansion)

ব্যবসায় একটু লাভ হলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত দুর্দিন ঢেকে আনে। কেননা বাজারের উঠানামা ও মানুষের চাহিদা সব সময় এক থাকে না। তাই আগে নির্ভরযোগ্য ক্রেতা তৈরী করতে হবে এবং মূলধণের দিক থকে শক্ত অবস্থান তৈরী করতে হবে।

প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও নতুনত্বের অভাব (lack of technology)

যুগের সাথে তা্ল মিলিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আধুনিক করতে হবে যেমনঃ পণ্যের বিজ্ঞাপন। নতুবা অনেক কিছু হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে যেমন- ক্রেতা,প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের পরিচিতি ইত্যাদি। যদি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে পণ্যের ধরণ-মান,সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ থাকে তবেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার অভাবে অনেক উদ্যোগ (entrepreneurship) থেমে যায়। কতশত প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে দুই বছর/পাঁচ বছরে বন্ধ হয়ে যায়। সঠিক জ্ঞান ও সচেতন থাকলে সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হওয়া সহজ হয়।

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।