জেনে নিন গ্রিন-টি নিয়মিত পানের উপকারিতা

চা একটি অতি সুস্বাদু এবং সতেজকারী পানীয় । চায়ের রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গুন। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায় বাজারে। মূলত ব্ল্যাক টি আর গ্রীন টি ই বাজারে অধিক প্রচলিত। ব্ল্যাক টি এর চাইতে গ্রীন টি শরীরের জন্য অধিক উপকারী। কারণ গ্রীন টি এর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। যেমন গ্রীন টি-তে রয়েছে ভিটামিন-এ, জিঙ্ক, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-বি, এন্টি অক্সিডেন্ট , ভিটামিন-ই, ভিটামিন-সি, বাইওটিন, ভিটামিন-কে, ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে ইত্যাদি।

আজ গ্রীন টি এর এসব পুষ্টিগুণের ফলে আমাদের শরীরে কি কি উপকার সাধিত হয় সে সম্পর্কে জানব।

১। আথেরোসেক্লরোসিস এর ঝুঁকি কমায়ঃ

আথেরোসেক্লরোসিস এক ধরনের রোগ যা ধমনী বা শিরার ভেতরে প্লাক তৈরি করে রক্ত চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে । ধমনীর মাধ্যমেই হৃদপিণ্ড এবং শরীরের অন্যান্য অংগ প্রত্যঙ্গে রক্ত প্রবাহিত হয়। সুতরাং ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হলে তা আমাদের শরীর এবং হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর।

এক্ষেত্রে গ্রীন টি এর ভেতরে বিদ্যমান ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে নামক উপাদানটি ধমনী বা শিরাতে এই প্লাক প্রতিরোধ করে আথেরোসেক্লরোসিস নামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

২। কোলেস্টোরেল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে আনে । গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে ১০ কাপ গ্রীন টি পান করলে তা তাৎপর্যপূর্ণভাবে ক্ষতিকর কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

৩। ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ

গ্রীন টি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যেমনঃ স্তন ক্যান্সার, যকৃতের ক্যান্সার, মূত্রথলির ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার,ত্বকের ক্যান্সার এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার।

তবে এমন কোন গবেষণা করা হয়নি যে ঠিক কত পরিমাণে গ্রীন টি পান করলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব কিন্তু তারা গ্রীন টি- তে ইপিগ্যালকেটেচিন গ্যালাটে নামক উপাদান খুঁজে পেয়েছে যা খুব কার্যকরী ক্যামো প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ক্যামো প্রতিরোধক উপাদানটি ক্যান্সার ধরা পড়ার আগেই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষগুলোর সাথে লড়াই করে এবং ক্যামো থেরাপির মতই এটি শরীরে ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে থাকে।

৪। উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেঃ

গ্রীন টি আমাদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে সহায়তা করে কারন এর মধ্যে কিছু পরিমাণে ক্যাফেইন আছে। তবে এটা মনে রাখা জরুরী যে, গ্রীন টি-তে খুব অল্প পরিমাণে ক্যাফেইন আছে তাই কেউ যদি কফি পান করে অভ্যস্ত হয় তবে তার নিজের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করার জন্য বেশ কয়েক কাপ গ্রীন টি পান করতে হবে।

৬। গ্রীন টি কারডিওভাস্কুলার এর স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি বিভিন্নভাবে হৃদপিণ্ডকে ভাল রাখতে সহায়তা করে। এর মধ্যে একটি হল গ্রীন টি কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে কারডিওভাস্কুলার প্রক্রিয়াকে ভাল রাখতে সহায়তা করে।

৭। ত্বক প্রানবন্ত এবং সুস্থ রাখতে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি এর মধ্যে বায়োটিন নামক এক ধরনের ভিটামিন খুঁজে পাওয়া গেছে যা ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাছাড়াও গ্রীন টি এর মধ্যে যে এন্টি অক্সিডেন্ট আছে তা ত্বকে বয়সজনিত ছাপ প্রতিরোধ করে এবং সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি এর ফলে ত্বকের ক্ষতি হওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

৮। দাঁতের ক্ষয়রোধ করে এবং মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করেঃ

গ্রীন টি বিভিন্নভাবে আমাদের মুখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করে। যেমনঃ গ্রীন টি আমাদের লালার মধ্যের অম্লতার পরিমাণ কমিয়ে আনে এবং এর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক উপাদান আমাদের মুখের ভেতরের অংশকে পরিষ্কার এবং সুস্থ রাখতে সহায়তা করে যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় না।

৯। বিষণ্ণতা প্রতিরোধে সহায়তা করেঃ

গ্রীন টি এর মধ্যের এমিনো এসিড এল- হিনিং শরীরে এক ধরনের শান্ত এবং প্রশান্তি অনুভূতি উৎপাদন করতে সক্ষম। তাই এটি একটি প্রাকৃতিক বিষণ্ণতা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

গ্রীন টি এর আরও অনেক উপকারীতা রয়েছে। তার কিছু মাত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু গ্রীন টি উপকারী বলেই যে একসাথে অনেক পরিমাণে পান করলেই এসব উপকারীতা দ্রুত পাওয়া যাবে তেমন নয়। প্রতিনিয়ত পান করলে ধীরে ধীরে এসব সুফল পাওয়া সম্ভব। তবে অবশ্যই এটা মাথায় রাখতে হবে যে, মাত্রাতিরিক্ত যেকোন জিনিসই ক্ষতিকর। তাই গ্রীন টি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও দিনে ১০ কাপের বেশী গ্রীন টি পান করা উচিত নয় কারণ দিনে ১০ কাপের চাইতে বেশী গ্রীন টি পান করলে তা যকৃতের ক্ষতির কারণ হয়।

আর্টিকেলটি cookingdetective.com তে প্রকাশিত এই লেখাটি অনুকরনে লিখা হয়েছে।