বাক্স রহস্য-ফেলুদা : নীরিহদর্শন ঘটনার শ্বাসরুদ্ধকর সমাপ্তি

feloda

সত্যজিতের “ফেলুদা” সিরিজ নিয়ে অনেকদিনই লিখবো লিখবো করেও লেখা হচ্ছিল না। আজ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, ফেলুদা’কে নিয়ে একটা মুভি রিভিউ লিখেই ফেলি।

শীতের রাতে কনকনে ঠান্ডার ভেতরে লেপ মুড়ি দিয়ে বসে, সরিষার তেল দিয়ে মাখানো ঝালমুড়ি খেতে খেতে, দুরু দুরু বুকে ফেলুদার একেকটা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান দেখার যে কি মজা, তা অভিজ্ঞজনেরা ভালোই জানেন।

সত্যজিতের ফেলুদা’র কাহিনীগুলো নিয়ে তাঁর ছেলে সন্দ্বীপ রায় যে থ্রিলার মুভি/টেলিফিল্মগুলো নির্মাণ করেছেন, প্রত্যেকটিই তাদের নিজস্বতায় ভাস্বর।

কিন্তু তাদের মধ্যেও “বাক্স রহস্য” আমার কাছে আলাদা একটি স্থান দখল করে আছে এর কাহিনী বৈচিত্রের কারণে।

দিল্লীগামী “কালকা মেল” নামক ট্রেনের যাত্রী, ধনী ব্যাবসায়ী দীনানাথ লাহিড়ির একটি সুটকেস (বাক্স) তাঁরই একজন সহযাত্রীর সাথে বদল হয়ে যায়। বাক্স দুটি দেখতে ছিল হুবহু একইরকম।


আরো পড়ুন–  দ্য নাইন্থ গেইট – একটি অসাধারণ থ্রিলার মুভি, যা আপনার অবসরকে অর্থপূর্ণ করে তুলবে


তো লাহিড়িবাবু ফেলুদা’র কাছে আসেন তাঁর কাছে থাকা বাক্সটি তার আসল মালিককে খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিতে। যাতে করে তিনি ওই বাক্সের আসল মালিকের কাছে বাক্সটি হস্তান্তর করতে পারেন।

লাহিড়িবাবুর নিজের বাক্সটিতে ছিল শম্ভুচরণ বোসের একটি অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি, যা অমূল্য। কিন্তু তার নিজের বাক্সের প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না।

তিনি শুধু চাইছিলেন তার কাছে থাকা বাক্সটি যেন তার আসল মালিকের হাতে তিনি তুলে দিতে পারেন।

আপাতদৃষ্টিতে নীরিহদর্শন এই কেসটি নিতে ফেলুদা রাজি হন কিনা, এটা নিয়ে লাহিড়িবাবু সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু প্রখর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ফেলুদা কেসটি নিতে রাজি হন।

তারপর? একের পর এক সমস্যা, হুমকির গোলকধাঁধায় আটকা পরতে থাকেন ফেলুদা। কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে গন্তব্য শিমলা। বাক্সের মালিককে তো খুঁজে বের করতে হবে!

তুলে দিতে হবে বাক্স। সাথে তার দুই যোগ্য সহযোগী খুড়তুতো ভাই তোপসে এবং বন্ধু লালমোহন গাঙ্গুলী। একে একে বেড়িয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।


আরো পড়ুন– নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে যে ৩ টি অসাধারণ মুভি আপনাকে সাহায্য করবে


কেঁচো খুড়তে বেড়িয়ে পড়ে সাপ! বাক্সটি কি তার মালিকের কাছে পৌঁছায়? ফেলুদা কি এবারও সফল হতে পারেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলে মুভিটার মজাই নষ্ট হয়ে যাবে। প্রিয় পাঠক, কোন এক শীতের রাতে ঝালমুড়ি খেতে খেতে মুভিটা দেখেই ফেলুন না!

ফেলুদা চরিত্রে সব্যসাচী চক্রবর্তীর অনবদ্য অভিনয়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের “তোপসে” চরিত্রটির আরেকটি সফল রূপায়ন।

জটায়ু বা লালমোহন গাঙ্গুলীর চরিত্রে রবি ঘোষের মুন্সীয়ানা, সেই সাথে সাদামাটা শুরুর একটি কাহিনীর ভোল পাল্টে রোমাঞ্চকর একটি অভিযানে মোড় নেওয়া, আপনার ভালো লাগতেই হবে।

এক নজরে —–
মুভির নামঃ বাক্স রহস্য
মূল লেখকঃ সত্যজিৎ রায়
পরিচালকঃ সন্দ্বীপ রায়
ব্যাপ্তিঃ ১ ঘন্টা ৩৭ মিনিট
মুক্তির বছরঃ ১৯৯৬ সাল
অভিনয়ঃ ফেলুদা- সব্যসাচী চক্রবর্তী
তোপসে- শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়
লালমোহন গাঙ্গুলী- রবি ঘোষ
সিধু জ্যাঠা- অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়
দীনানাথ লাহিড়ি- হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়
মিস্টার পাকড়াশি- দিব্য ভট্টাচার্য এবং আরো অনেকে।
IMDb রেটিংঃ 6.9/10
আমার রেটিংঃ 7.7/10


সম্পর্কিত পোস্ট: