যে ৭ টি কাজ আপনার মস্তিষ্ককে রাখবে সতেজ

brain oxygen

brain oxygenমস্তিষ্ক। এই একটিমাত্র অংশের কারণে মানুষ পুরো প্রাণিজগতের মাঝেই আলাদা একটি স্থানে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষের যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে আসলে এ মস্তিষ্কই। আর এই মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম ও সতেজ রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন। আর ৭ টি কাজ আপনার মস্তিষ্ককে দেবে অক্সিজেনের যোগান, বাড়াবে কর্মক্ষমতা।

১) পড়ুন বইঃ
যদি প্রশ্ন করা হয় কোন জিনিসটা মানুষের মনকে সহজে আলোকিত করে? উত্তরটি খুব ছোট। সেটি হচ্ছে বই। একটি ভাল বই আপনার স্নায়ুকে করতে পারে শান্ত। মনকে করতে পারে প্রফুল্ল। কোন ভালো গল্পের সাথে আপনি হতে পারেন একাত্ম। আবার কোন ভ্রমণ কাহিনী পাঠে ঘুরে আসতে পারেন লেখকের সাথে চেনা সীমানার বাইরে। সুতরাং অবসর পেলে বই পড়ুন, জ্বালুন মনের বাতি।

২) ঘুরে বেড়ানঃ
ঘুরে বেড়াতে পারেন বিভিন্ন জায়গায়। সেটা হতে পারে দেশের ভেতরে, সাধ্য হলে দেশের বাইরে। হতে পারে পাহাড় কিংবা সমুদ্র। সমুদ্রের নীল যখন আকাশের নীলের সাথে মিশবে অথবা পাহাড়ের চূড়া যখন খেলা করবে মেঘের ভেলার সাথে, তখন মন হবে প্রফুল্ল। সতেজ হবে প্রাণ।

৩) ভাসুন সুরের ভেলায়ঃ
প্রিয় সুর, প্রিয় গান। যোগাবে মনের খোরাক। একটি ভাল গান অথবা আপনার পছন্দের কোন গান দূর করতে পারে আপনার বিষণ্ণতা, নাচিয়ে তুলতে পারে মন। একা গভীর রাতে বারান্দায় যখন শীতল বাতাস লুটিয়ে পড়বে আপনার পায়ে, নিজের পছন্দ কোন গান শুনেই দেখুন না কেমন লাগে।

৪) মেতে উঠুন আড্ডায়ঃ
তরুণদের কাছে কিন্তুু আড্ডাই জীবন। অনেকের কাছেই, ‘আড্ডা তারুণ্যের মাইট্রকন্ড্রিয়া।’ মানে শক্তিঘর। অনেক দুশ্চিন্তা, মন খারাপের পোকা দূর হতে পারে আড্ডার ট্রেনে চাপলে। সুতরাং কাছের বন্ধুদের সাথে একটা জম্পেশ আড্ডা আপনার মস্তিষ্কতে তুলতে পারে আনন্দের আলোড়ন।

৫) খেলাধুলা করুনঃ
খেলাধুলা শুধু স্বাস্থ্যের জন্যেই নয়। উপকারী মনের জন্যেও। তবে এই খেলার ভেন্যু কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোনে হলে হবে না। সবুজ মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট বা আপনি যেটি পছন্দ করেন সেই খেলার কথা বলা হচ্ছে। খেলা আনবে পরিশ্রম, ঝরাবে ঘাম। আর আপনাকে করে তুলবে প্রাণবন্ত অবশ্যই।

৬) করুন সৃজনশীল কিছুঃ
ভাল কবিতা লিখতে পারেন আপনি? অথবা গল্প? অথবা গাইতে পারেন গান? আপনাকেই খুঁজছি আমরা। না কোন প্রতিযোগিতার জন্যে নয়। নিজের মনকে আনন্দ দেয়ার জন্যে জড়িয়ে পড়ুন কোন সৃজনশীল কাজে। যেটি আপনার ভাল লাগে। হয়তো নিজের লেখা একটি কবিতা শেয়ার করলেন ফেসবুকে। বন্ধুরা প্রশংসা করলো খুব। দেখবেন কতই না ভাল লাগবে।

৭) বাড়িয়ে দিন আপনার হাতঃ
কোন স্বার্থ ছাড়া কখনো কারো উপকার করার মাঝে কী পরিমাণ আনন্দ কখনো টের পেয়েছেন? হয়তো কোন অন্ধ ব্যক্তিকে পার করে দিলেন রাস্তা, কখনো কোন ফেরিওয়ালাকে তার ঝোলা তুলতে করলেন সাহায্য। বাইরে বাদ দিয়ে পরিবারের কোন সদস্যেরও কোন কাজ করে দিতে পারেন যেটি সে একদমই আশা করিনি। অন্যকে খুশি করার মাঝে নিজেকেও কিভাবে খুশি করতে হয় যাচাই করুন নিজেই।

আমাদের চলার পথে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন কাজে খারাপ হতে পারে আমাদের মন। জমতে পারে বিষণ্ণতা। এই সব কিছু চাইলে দূর করতে পারেন উপরের ছোট ছোট কাজগুলি করে। ভাল থাকুন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।