যে ৭টি কারণে আম বেশি করে খাবেন

mango

mangoসব বয়সের মানুষের কাছে আম জনপ্রিয় একটি ফল। প্রচণ্ড গরমে এক টুকরো কাটা আম চোখের আর মনের শান্তি এনে দেয়। মুখে দেয়ার পর যেটি রূপান্তরিত হয় তৃপ্তিতে। এজন্যেই তো আমকে বলা হয় ফলের রাজা। আর এই রাজার আছে অনেক গুণ, যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। আমরা এখানে আমের ৭টি গুণ নিয়ে আলোচনা করেছি, যার সব কয়টি হয়তো আপনি জানেন না।

১) ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ
গবেষণায় দেখা গেছে আমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি কোলন, স্তন, লিউকেমিয়া, প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

২) কোলেস্টেরল কমায়ঃ
আমের মধ্যে উচ্চমাত্রায় আছে ফাইবার, পেকটিন (pectin) এবং ভিটামিন সি, যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই যাদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল রয়েছে তারা প্রাকৃতিক উপায়ে কোলেস্টেরল কমাতে বেশি করে আম খাবেন ।

৩) ত্বক সুস্থ রাখেঃ
খাবার ও সৌন্দর্যবর্ধক- এ দুইভাবেই আম ত্বকের জন্যে উপকারী। আমে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’। ভিটামিন ই ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। তাই আম খেলে যেমন ত্বক ভাল থাকে তেমনি এটি রূপচর্চার জন্যেও ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বকের লোমের গোঁড়া পরিষ্কার রাখে। এছাড়া ত্বকের ব্রণ কমাতেও সাহায্য করে।

৪) চোখ ভাল রাখেঃ
দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে, রাতকানা রোগে এবং চোখের শুষ্কভাব প্রতিরোধে আম অনেক উপকারী। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’। যা চোখের দৃষ্টি ভাল রাখতে সাহায্য করে। তাই যারা চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন আম খেলে তারা উপকৃত হবেন সন্দেহ নেই।

৫) দেহের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করেঃ
আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি।’ আরো আছে প্রায় ২৫ রকমের কেরাটিনোইডস(carotenoids)। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দকার্যকর রাখতে খুবই সাহায্য করে।

৬) হজমে সাহায্য করেঃ
যারা হজম বা পরিপাকের সমস্যায় ভুগছেন তারা আম খেতে পারেন। কেননা আমে আছে প্রচুর ফাইবার বা তন্তু যা হজমে সাহায্য করে থাকে। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে হজমশক্তি বাড়াতে আম বেশি করে খেতে পারেন।

৭) আয়রনের অফুরান উৎসঃ
যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন বিশেষ করে নারীরা তাদের জন্যে আম খুবই উপকারি। কেননা আমে রয়েছে প্রচুর আয়রন। তাই গর্ভাবস্থায় এবং ঋতুস্রাবের সময় মহিলারা আম খেতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় রক্তের চাহিদা পূরণ হবে এবং আয়রনের মাত্রা সঠিক পর্যায়ে থাকবে।

তবে অবশ্যই বাজার থেকে আম কেনার আগে ফরমালিন আছে কিনা তা দেখে নেওয়া ভাল। কেননা আমে যে সকল প্রয়োজনীয় উপাদান আছে ফরমালিন বা অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাজা আম খান আর সতেজ থাকুন।

যদি ফরমালিন মুক্ত আম সনাক্ত করতে না পারেন তাহলে আপনি নিজেই ফরমালিন দূর করতে পারেন। ফরমালিন দূর করতে বিস্তারিত পড়ুন এইখানে

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।