৭ টি মারাত্তক ভুল যা ই-কমার্স সাইটগুলো করে থাকে

e-commerce error

বাংলাদেশেত বটেই এমন কি বিশ্বের অনেক জায়গাতেই লক্ষ্য করা যায় ই-কমার্স সাইট মালিকরা মনে করেন তারা তাদের সাইটে শত শত বা হাজার হাজার প্রডাক্ট আপলোড করে দিবেন।

তারপর বন্যার জলের মত ভিজিটর আসতে থাকবে সার্চ ইঞ্জিন থেকে।

বাস্তবতা থেকে এই চিন্তা শত কোটি আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত।

আসল ব্যাপার হল এস ই ও (SEO) না করলে ভিজিটর সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

যদিও বিভিন্ন এড বা বিশেষ প্রমোশান এর মাধ্যমে আপনি ভিজিটর আনতে পারেন। তবে সেগুলোর কার্যকারিতা আপনার এড বা প্রমোশান চলাকালীন পযন্তই।

একটা ব্লগ বা ৫ পেইজের ১ টা কোম্পনি ওয়েবসাইটের তুলনায় একটা ই-কমার্স সাইটের এস ই ও (Search Engine Optimization) করা বেশ কঠিন।

প্রতিনিয়ত অনেক প্রডাক্ট পেইজের পরিবর্তন, নতুন নতুন প্রডাক্ট, প্রডাক্ট পেইজ সংযোজন ইত্যাদি এস ই ও (Search Engine Optimization) এর কাজ কে কঠিন করে তোলে।

আজকে আমরা ৭ টা এস ই ও ভুল সম্পর্কে জানবো যেগুলো ই-কমার্স সাইটগুলো করে থাকে।

১। প্রডাক্ট ডেসক্রিপশান না থাকাঃ

শুধু বাংলাদেশে না বিদেশের অনেক সাইটে ও প্রডাক্ট ডেসক্রিপশান নাই। মজার ব্যাপার হল এমাজন, ইবেতে ও আপনি সব প্রডাক্টের ডেসক্রিপশান পাবেন না।

এ কথা শুনে আমাদের আমজনতার তৃপ্তির ঢেকুর তোলার কোন সুযোগ নাই। ভাই কিছু কাটে ধারে কিছু কাটে ভারে। তাদের সাথে আমাদের তুলনা চলে না তাদের ভারের সাথে সাথে ধাঁরটা ও কম না।

কিছু প্রডাক্টের ডেসক্রিপশান নাই কিন্তু বেশির ভাগ প্রডাক্টেরই আছে। বাংলাদেশের হাতে গোনা ২/১ টা ই কমার্স সাইট ছাড়া কারোই প্রডাক্টেরই টেক্সট ডেসক্রিপশান নাই।

এই না থাকার কারনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লো কম্পিটিশান কিওয়ার্ড হওয়ার পরও গুগল সার্চে ১ থেকে ১০ এর মধ্যে তারা থাকে না। ফলাফল তারা অরগানিক ভিজিটর বলতে কিছুই পায় না।

তাই আপনার ই-কমার্স সাইটের ক্ষেত্রে এই ভুলটি করা থাকলে এখনি শুধরে নিন। ইউনিক প্রডাক্ট ডেসক্রিপশান যোগ করুন।

Lack Of Product Description

উপরের ছবিতে কি দেখতে পাচ্ছেন। একটা সিম্পল বুট। আমরা জানি যে, একটা ছবি ১০০০ ওয়ার্ড এর চেয়ে বেশি কথা বলে।

সে যুক্তিতে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে আবার কেন প্রডাক্ট ডেসক্রিপশান এর জামেলা? কারনটা হল গুগল মামা ইমেজ রিড করতে পারে না, ইমেজ তার কাছে সিমপ্লি কিছু পিকজেল ছাড়া কিছুই না।

ডেসক্রিপশান অবশ্যই ইউনিক হতে হবে। ইউনিক কনটেন্ট আপনার সাইটের এস ই ও (SEO) এর জন্য অতিব জরুরী। ডেসক্রিপশান লিখার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবেঃ

• আপনার ক্রেতাকে পণ্য কিনতে উৎসাহিত করবে এমন কোয়ালিটি ডেসক্রিপশান লিখতে হবে।
• ভুলে ও অন্যের সাইট থেকে কনটেন্ট কপি করবেন না, করলে গুগল মামা আপনাকে পেনাল্টি উপহার দিবে।

২। উৎপাদনকারিদের প্রডাক্ট ডেসক্রিপশান ব্যবহারঃ

আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা ফিল্টারিং হয়ে  ব্যান খেতে চান তাহলে উৎপাদনকারিদের ডেসক্রিপশান হুবুহু ব্যবহার করতে পারেন।

আসল ঘটনা হল, উৎপাদনরিদের সেসব ডেসক্রিপশান আরো অনেক সাইটকে ও দেয়া হয় এবং তাদের প্রায় সবাই সেসব ডেসক্রিপশান হুবহু ব্যবহার করে।

তাই গুগল শত শত কখনো কখনো হাজার হাজার পেইজে একই ডেসক্রিপশান পায় এবং কপি কনটেন্ট হওয়ায় ফিল্টার করে সেগুলোকে বাদ দিয়ে দেয়।

এটা একটা মারাত্তক ভুল। তা ছাড়া উৎপাদনকারিদের ডেসক্রিপশান বেশির ভাগ সময়ই সেলস ফ্রেন্ডলি হয় না।

নিয়মটা হল সব সময়ই ইউনিক কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তা না হলে গুগল মামা আপনার সাইট কে লাথি মেরে র‍্যার্ঙ্কিং এর সবার নিচে ফেলে দিবে কনটেন্ট কপি করা আর স্ক্র্যাপ করার পুরস্কার স্বরূপ।

এখন হয়ত আপনি বলবেন, ভাই আপনার কি মাথা খারাপ আমার কয়েক হাজার পণ্য আছে আমি কিভাবে এই হাজার হাজার পণ্যের ইউনিক ডেসক্রিপশান লিখবো।

উত্তরঃ না ভাই,মাথা ঠিক আছে । আপনাকে চেষ্টা করতে হবে ইউনিক ডেসক্রিপশান লিখার।

যদি তা পারেন তাহলে গুগল র‍্যাঙ্কিং এ আপনার সাইট কে ভাল অবস্থান দিবে, যার ফলস্বরূপ আপনি প্রচুর অরগানিক ভিসিটর পাবেন গুগল থেকে বিনা পয়সায়।

আর আপনি যদি তা পুরোপুরি না পারেন সেখত্রে আপনি যেসব পেইজের ডেসক্রিপশান ইউনিক লিখতে পারেননি সেখানে নো ইনডেস্ক মেটা ট্যাগ (No Index Meta Tag) ব্যবহার করতে পারেন।

৩। প্রডাক্ট রিভিঊ না থাকা বা ঘাটতি থাকাঃ

https://www.poramorsho.com//wp-content/uploads/2015/02/Lack-of-product-reviews.jpg

৭০% ক্রেতা কোন পণ্য কেনার আগে অনলাইন স্টোর বা ফোরাম গুলোতে প্রডাক্ট রিভিউ খুজে থাকে।

তার মানে যদি আপনার সাইটে কোন রিভিউ না থাকে তাহলে আপনি নিশ্চিত ভাবে বেশ ভাল সংখার একদল ক্রেতাকে হারাচ্ছেন।

একটা মজার তথ্য হল রিভিউ পেইজকে গুগল সার্চ এর টপে নিয়ে যাওয়া তুলনামূলক ভাবে সহজ।

কাস্টমারদের কাছ থেকে পাওয়া প্রডাক্ট রিভিউ সম্পর্কে মজার কিছু তথ্যঃ

• ইউনিক কনটেন্ট বানাতে আপনার জান খারাপ অবস্থা, কিন্তু ক্রেতারা আপনার জন্য ফ্রিতে ইউনিক কনটেন্ট লিখে দেন।

• এটি আপনার প্রডাক্ট পেইজ কে জিবন্ত রাখে। এর কারনে গুগল মামা কে বার বার আপনার পেইজ এ ক্রল করতে আসতে হয়।

ইন্ডেস্ক করতে হয়। এসব কিছুই আপনার সাইট র‍্যাঙ্কিং এ ভাল ভুমিকা রাখে।

৪। সার্চ ডিমান্ড অনুযায়ী প্রডাক্ট পেইজ অপ্তিমাইজড করাঃ

আপনি যখন হেডলাইন, টাইটেল, প্রডাক্ট ডেসক্রিপশান লিখবেন তখন মাথায় রাখতে হবে ডিমান্ড ও সার্চ কিওয়ার্ড এর কথা যেগুলো লোকেরা কোন কিছু সার্চ করতে ব্যাবহার করে থাকে।

এটা না করার মানে হল আপনি কষ্ট করে এমন কিছু কনটেন্ট বানালেন যেগুলো দিয়ে কেউ সার্চ করে না। সেরকম হলে আপনার এত এত পরিশ্রম জলেই যাবে বলতে হয়।

প্রডাক্ট পেইজ অপ্তিমাইজ করার কিছু টিপসঃ

• টাইটেল ও H1 ট্যাগে মডেল নাম্বার ব্যাবহার করুন।
• টাইটেল ও H1 ট্যাগে ব্র্যান্ড নাম ও ব্যাবহার করতে পাড়েন ।
• আপনার সাইটে ব্যাবহার করা ইমেজ গুলোতে alt tag ব্যাবহার করতে ভুলে যাবেন না ।
• আর কখনই iframe ব্যাবহার করবেন না।

নোটঃ এস ই ও (SEO) টিপস নিয়ে সামনে আরো বিস্তারিত লিখবো আশা করছি।

৫। ইউনিক নয় এমন টাইটেল ব্যবহারঃ

No Unique Title

এস ই ও এর (SEO ) এর একদম বেসিক একটা বিষয় হল এটি। কিন্তু ই-কমার্স সাইটের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময়ই ইউনিক ট্যাগ এর বিষয়টি খেয়াল করি না।

কোন একটা সাইটের সোর্স কোড যদি আপনি দেখেন তবে টাইটেল ট্যাগ কে নিচের ছবির মত দেখতে পাবেন।

এটা অবশ্য সত্যি যে যখন আপনি একই ব্যান্ড এর একাধিক আইটেম সেল করবেন অ্থবা একাধিক ব্যান্ডের একই আইটেম সেল করবেন তখন তাদের জন্য ইউনিক টাইটেল করা কঠিন ।

সেক্ষেত্রে আপনি বাধ্য হয়েই বার বার একই কিওয়ার্ড বা শব্দ ব্যাবহার করবেন। সার্চ ইঞ্জিন কিন্তু এদিকে সজাগ থাকে সব সময়ই।

এ থেকে বাচতে আপনি ইউনিক কিওয়ার্ড ফ্যাজ বা লং টেইল কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

এক্ষেত্রে ব্যান্ড- মডেল কিওয়ার্ড ফর্মুলা দিয়ে আপনি আপনার কিওয়ার্ড ফ্যাজ বা লং টেইল কিওয়ার্ড বানাতে পারেন।

উদাহরণ স্বরূপ আপনার লং টেইল কিওয়ার্ড টি হতে পারে এরুপঃ ব্যন্ড – মডেল- আইটেম টাইপ। একটা বাস্তব উদাহরণ হতে পারে এমনঃ “Honda Accord Sports Coupe” or “Burton Aftermath Snowboard 2013″

৬। কথা বলা ইউ আর এল এর অভাবঃ

Lack of Speaking URL

কি মজার কথা। ইউ আর এল নাকি কথা বলে? আপনি হয়ত ভাবছেন ইউ আর এল কি মানুষ যে কথা বলবে।
ঠিক কথা ইউ আর এল মানুষ না বাট ইউ আর এল কথা বলে ।

এই উদাহরণ টি দেখুন তারপর বলুন এটি কিসের কথা বলছে

http://archive.ittefaq.com.bd/index.php?

ref=MjBfMDRfMzBfMTNfMV8yNV8xXzM3MTY2 এখন এটি দেখে বলুন এটি কি বলছে।

http://www.readanybook.com/ebook/harry-potter-and-the-prisoner-of-azkaban-65

প্রথম টি দেখে কার বাবার সাধ্য যে বোঝে সেটা কিসের কথা বলছে। আমরা কিন্তু পরের তা দেখে ঠিকই বুজতে পেরেছি সেটা হ্যারি পটারের একটা ই-বুকের কথা বলছে।

তাহলে আমরা দেখলাম যে শুধু আপনার ঘরের বউ ( থাকলে ) ছারাও, মানুষ না, মুখ নাই বাট এমন কিছু ও কথা বলে। শুধু কথা না, কাজের কথা।

এ ধরনের ইউ র এল কে কিওয়ার্ড ফ্রেন্ডলি ইউ এর এল বলে। আপনার সকল পণ্যের জন্য এরকম ইউ এর এল তৈরি করা এস ই ও এর জন্য খুবই গুরুত্তপূর্ণ।

৩ টি কারনে আপনার উচিত কথা বলা ইউ আর এল বানাবেনঃ

১। সিমেন্টীক্সঃ এ ধরনের ইউ আর এল আপনার ভিজিটরদের ও বলে দেয় যে, তারা আপনার পেইজ বা সাইট থেকে কি পেতে যাচ্ছে।

এর ব্যাতিক্রম হলে মানে যদি আপনার ইউ আর এল এ প্রচুর নাম্বার আর সংখ্যা থাকে তখন ভিজিটররা সেটা কে স্পাম বলে ধরে নিবে এবং পেইজ ভিজিট না করেই ভেগে যেতে পারে।

২। কিওয়ার্ড এবং এঙ্কর লিঙ্ক ভাগ্যঃ অন্যান্য সাইট আপনার এই ইউ আর এল কে পিক করে তাদের সাইটে পোস্ট করতে পারে।

আপনার এই ইউ আর এল কে এঙ্কর টেক্সট হিসেবে ব্যাবহার করলে আপনার গুরুত্ব পূর্ণ কিওয়ারড এঙ্কর ট্যাগে আসবে।

এরকম এঙ্কর টেক্সট এ আপনার কিওয়ার্ড থাকলে এবং সেগুলো ভিজিটর কে আপনার সাইট এ নিয়ে আসলে, আপনার জন্য সার্চ ইঞ্জিন এ টপ এ র‍্যার্ঙ্কিং পাওয়া খুবই সহজ হবে।

৩। ডোমেইন নেইমে রিলিভেণ্ট কিওয়ার্ড থাকা কে গুগল কম গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছে। কিন্তু প্রডাক্ট পেজের ইউ আর এল এ রিলিভেন্ট কিওয়ার্ড থাকা কে গুগল অগ্রাধিকার দেয়।

৭। ডুপ্লিকেট বা নকল কনটেন্ট এর ছড়াছড়িঃ

LOt of duplicate content

নকল কনটেন্ট আছে এমন পেইজ কে সার্চ ইঞ্জিন এ ইন্ডেক্স করতে দেয়া উচিত না বরং সেগুলো রোবট টিএক্সটি (robot.txt) এ অফ করে দিতে হবে। এটা না করলে আপনার সাইট পেনাল্টিতে পরে যেতে পারে।

আপনি যদি আপনার ই-কমার্স সাইতে উপরের মারাত্তক ভুল গুলো করে থাকেন তবে এখনই এগুলো শুধরে নেন।

কোন প্রশ্ন বা জিজ্জাসা থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।


সম্পর্কিত পোস্ট: