ওজন কমানো সংক্রান্ত ৫টি ভ্রান্ত ধারণা, যা আজই পরিবর্তন করবেন

weight lossআপনি ওজন কমাতে চাচ্ছেন, কিন্তু নিশ্চিত নন ঠিক কোন পদ্ধতি বা খাদ্যাভ্যাসটি আপনার জন্য উপযুক্ত। অসংখ্য পদ্ধতি এবং খাদ্যতালিকার বর্ণনা আপনি পাবেন যা অনুসরণ করলে আপনার ওজন কমবে। কিন্তু এসব আসলে কতটুকু সঠিক? চলুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে যা আসলে আপনার ওজন কমানোর পরিবর্তে বাড়িয়ে তুলছে।

১. কম ক্যালরি যুক্ত খাদ্য ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ
ক্যালরি পরিমাপ করে খাবার খেলে ওজন কমবে এমন ধারণা অনেকেরই। এই ধারণা সঠিক নয়। ক্যালরি নয় বরং খাদ্যের পুষ্টিগুণই শরীরের ওজনের হ্রাস-বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ক্যালরি কমানোর দিকে মনোযোগ দেয়ার পরিবর্তে উচ্চ প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার এবং ফাস্ট ফুড খাওয়া বন্ধ করে দিন। অধিক পরিমাণে তরতাজা এবং প্রাকৃতিক খাবার যেমনঃ ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

২. ফ্যাট যুক্ত খাবার ওজন বাড়ায়ঃ
ফ্যাট যুক্ত খাবার ওজন বাড়ায় এ কথাটা আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু ফ্যাট পরিপাক তন্ত্রকে শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে হরমোন কাজ নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রেই শরীরের জন্য দরকারি। বরং ফ্যাট পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করলে ত্বক ফেটে যাওয়া, শুকনো ত্বক, চুল পড়ে যাওয়া, স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া, কালশিরা পড়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় এমন খাবার রাখুন যা শরীরে পর্যাপ্ত ফ্যাট যোগান দেয় যেমন, মাছের তেল, অলিভ অয়েল, ঘি (পরিমিত পরিমাণ) ইত্যাদি।

৩. মার্জারিন মাখনের চেয়ে কম ক্ষতিকরঃ
মার্জারিনে ফ্যাট নেই, তাই অনেকেই একে মাখনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। এই মার্জারিন প্রাকৃতিক নয়, এটি তৈরি হয় কারখানায়। এতে এমন অনেক ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয় যার সাথে আমাদের পরিপাক তন্ত্র পরিচিত নয়, তাই হজমে সমস্যার সৃষ্টি হয়। মার্জারিনের পরিবর্তে ঘি (পরিমিত পরিমাণ), অলিভ অয়েল, নারকেল এবং বাদাম তেল ব্যবহার করুন।

৪. ডায়েট কোলা, প্রচলিত কোমল পানীয়ের চেয়ে কম ক্ষতিকরঃ
ডায়েট কোলা তৈরিতে কৃত্রিম মিষ্টিকারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, ফলে ওজন বেড়ে যায়। ডায়েট কোলার পরিবর্তে টাটকা ফলের রস, প্রচুর পানি এবং সবুজ চা পান করুন

৫. কম ফ্যাট বা ফ্যাট বিহীন খাবার শরীরের জন্য ভালঃ
খাদ্য বিক্রেতারা আমাদের মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে কম ফ্যাট যুক্ত বা একেবারেই ফ্যাট বিহীন খাবার আমাদের শরীরের পক্ষে উপকারী। খাবার থেকে ফ্যাট সরিয়ে ফেললে তা হয়ে পড়ে স্বাদহীন। তাই খাবারে স্বাদ আনার জন্য তারা এতে বিভিন্ন কৃত্রিম পদার্থ এবং চিনি ব্যবহার করে। যা ফ্যাটের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি ক্ষতিকর। তাই চেষ্টা করুন প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক এবং টাটকা খাবার খাওয়ার।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।