লিঙ্কডইন মার্কেটিং- ১০ টি পরামর্শ

 

LinkedIn Marketing

linkedin-marketing-for-therapists

লিঙ্কডইন একটি প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট। অনেকটাই ফেসবুকের মত এই ওয়েবসাইটি প্রতিদিনই বিশ্বের হাজারো পেশাজীবী ব্যবহার করছেন একে অপরের সাথে যুক্ত হবার জন্য। এখানে আছেন চাকরি দাতা, চাকরি প্রার্থী, ব্যবসায়ী ইত্যাদি পেশার মানুষ। যদিও সারা বিশ্বে এই লিঙ্কডইন অত্যন্ত জনপ্রিয় কিন্তু আমাদের দেশে এর পরিচিতি তেমন একটা ছিল না। তবে আশার কথা হচ্ছে ধীরে ধীরে এর প্রসার বাড়ছে, অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবীই এখন লিঙ্কডইন ব্যবহারে আগ্রহী।
আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তাহলে এখনই সময় একটি লিঙ্কডইন প্রোফাইল তৈরি করার। কারণ আপনার ব্যবসাকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এটি খুবই সাহায্য করবে। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে ব্যবসা সংক্রান্ত লিঙ্কডইন একাউন্ট পরিচালনা করার সময়ঃ

১. ব্যবসার সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেন আপনার পেইজে থাকেঃ

অসম্পূর্ণ প্রোফাইল কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। তাই আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত সব তথ্য যা আপনি জানাতে চান অন্যদের, তা লিখুন প্রোফাইলে। আপনার বিজনেস আসলে কি নিয়ে, আপনার বিজনেসের মূল উদ্দেশ্য কি, কাদের কাছে আপনি সেবা বা পণ্য বিক্রয় করছেন বা বিক্রয়ে আগ্রহী সেটা স্পষ্ট ভাষায় লিখুন যাতে কেউ কনফিউজড না হয়ে পড়ে।

২. কোন ব্যাপারে আপনি বিশেষ অভিজ্ঞ সেটা তুলে ধরুনঃ

যে বিষয়ে আপনার দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা বেশি তা “হাইলাইট” করুন। এ বিষয়ে আপনি পোস্ট লিখতে পারেন, কোন পুরষ্কার বা সম্মাননা পেলে তা উল্লেখ করতে পারেন। এতে করে অনেক বেশি লোকজন আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং আপনার পরামর্শ জানতে চাইবে। ফলে আপনার যোগাযোগের পরিধিটা বাড়বে।

৩. সামারি সেকশনঃ

সামারি সেকশনে আপনি লিখবেন আপনার ব্যবসা সম্পর্কে, কিভাবে আপনি তা বিস্তৃত করতে চান, বা কেমন সুবিধা অন্যরা আপনার কাছ থেকে পেতে পারে। আপনি তাদের কাছে কি আশা করছেন সেটাও স্পষ্ট ভাষায় লিখবেন। কোনভাবেই ভুল/মিথ্যা তথ্য বা বাড়িয়ে লিখবেন না।

৪. ছবি যুক্ত করুনঃ

একটি উপযুক্ত ছবি আপনার পেইজের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারে অনেকগুণ। আর অনেক বেশি মানুষ আকৃষ্ট হয় ছবির মাধ্যমে। তাই আপনার ব্যবসায়ের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ছবি শেয়ার করুন লিঙ্কডইন পেইজে। ছবি হতে পারে আপনার প্রতিষ্ঠানের, ভেতরে কিভাবে কাজ হচ্ছে, আপনার বিভিন্ন সাফল্যের মুহূর্তের, পণ্য বা সেবা যা আপনি বিক্রয় অথবা প্রসারে আগ্রহী ইত্যাদির।

৫. এমনভাবে আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন যাতে তা সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়ঃ

কি-ওয়ার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেউ যখন লিঙ্কডইনে সার্চ করে তখন প্রদত্ত কি-ওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করেই সার্চ রেজাল্ট দেখানো হয়। তাই এমন কি-ওয়ার্ড যুক্ত করবেন যা আপনার বিজনেসের সাথে সংযুক্ত। কি-ওয়ার্ড লেখার আগে চিন্তা করুন আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা কি কি লিখে আপনাকে সার্চ করতে পারে।

৬. নিয়মিত পোস্ট করুনঃ

নিয়মিত লিখতে থাকুন আপনার ব্যবসা সম্পর্কে, কখন কি অর্জন করলেন, বা এমন কিছু যা আপনার পণ্য বা সেবাকে অন্যের সামনে আরেকটু আকর্ষণীয় করবে। কারণ আপনি নিয়মিত পোস্ট করলেই সবার হোম ফিল্ডে আপনার পোস্ট দেখানো হবে। এটা অনেকটা ফেসবুকের নিউজ ফিডের মতই, যারা রেগুলার পোস্ট দেয় তাদের পোস্ট ই আপনাকে বেশি দেখানো হয়। তাই আপনার পেজের দিকে সবার আগ্রহ ধরে রাখার জন্য নিয়মিত পোস্ট দেয়া খুি জরুরি।

৭. লিঙ্কডইনে থাকা গ্রুপ গুলোতে যোগ দিনঃ

এখানে অসংখ্য গ্রুপ রয়েছে। আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত গ্রুপ গুলো খুঁজে বের করে তাতে যোগ দিন এবং গ্রুপে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি আপনার বিষয়ে আগ্রহী অনেকের সাথে যেমন পরিচিত হতে পারবেন, তেমনি এমন কোন পরামর্শ বা সুবিধাও পেয়ে যেতে পারেন যা আপনার ব্যবসার উন্নতিতে সাহায্য করবে।

৮. কাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন এবং কাদের সাথে রাখবেন না তার দিকে দৃষ্টি রাখুনঃ

প্রথমেই মনে রাখা দরকার এটা বন্ধু বানানোর ওয়েবসাইট না। তার জন্য ফেসবুক, গুগল প্লাস, টুইটার ইত্যাদি হাজারো জায়গা আছে। লিঙ্কডইনে যোগ করবেন এমন কাউকে যাদের সাথে আপনার ব্যবসা বা আগ্রহের মিল রয়েছে,যাদের মাধ্যমে আপনার পণ্য বা সেবার প্রসারের সম্ভাবনা রয়েছে অথবা যাদের আপনি চেনেন এবং বিশ্বাস করেন।

৯. মেসেজ আদান-প্রদানে সচেতন থাকুন

লিঙ্কডইনে কাউকে মেসেজ পাঠালে সতরকতার সাথে পাঠানো উচিত। আপনি যখন কাউকে মেসেজ পাঠাবেন, তখন তিনি যেন বুঝতে পারেন যে আপনি তার কাজের প্রতি আগ্রহী হয়েই তার সাথে যোগাযোগ করেছেন।

১০.কন্টেন্ট নিয়ে গবেষণা করুন

খোঁজ রাখুন সাম্প্রতিক কন্টেন্ট সম্পর্কে। এজন্য আপনি trending content tools ব্যবহার করতে পারেন।

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে লিঙ্কডইনের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি অনলাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে পেতে পারনেন ব্যপক পরিচিত ও সাফল্য।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।