নারীদের জন্য সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার পরামর্শ

Attractive business woman working on laptopবর্তমান সময়ের অনলাইন আয়ের একটি অন্যতম বড় উৎস বা মাধ্যম হিসেবে চোখ বন্ধ করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কথা বলা যায়। ঘরে বসে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি অসাধারণ মাধ্যম। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বেশ ভালো এবং লাভজনক পেশা হতে পারে। যেখানে আমরা নারীরা ঘরে বসে নিজেরা সামান্য চেষ্টায় হয়ে উঠতে পারি স্বাবলম্বী। এর জন্য সবার আগে জানতে হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি।

আসুন জেনে নেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি মার্কেটিং সিস্টেম যেখানে কোন পণ্য বা সেবা প্রোমোশনের মাধ্যমে বিক্রি বা বিক্রিতে সহায়তা করার জন্য অ্যাফিলিয়েটদের কমিশন প্রদান করা হয়ে থাকে। উদাহরণ স্বরূপঃ আপনারা সবাই হয়তো বিশ্বব্যাপী বহুল পরিচিত অ্যামাজন স্টোর (amazon.com)  এবং ইবে স্টোর (ebay.com) এর নাম শুনে থাকবেন।একটু খেয়াল করলেই দেখবেন এখানে প্রায় সব ধরণের পণ্য বিক্রি হয়।এবার আপনি একজন অ্যাফিলিয়েট হিসেবে অ্যামাজন বা ইবেতে জয়েন করে তাদের যেকোন পণ্য বিক্রিতে সাহায্য করেন তবে সেটিই হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।অর্থাৎ অ্যামাজন বা ইবের পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করায় এরা আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন দেবে। যেমন অ্যামাজন স্টোরের ৫০০ ডলারের পণ্য আপনি বিক্রি করিয়ে দিলে আপনাকে কমপক্ষে ২০ ডলার কমিশন দেবে। এভাবে বিশ্বের প্রায় সব কোম্পানিই তাদের পণ্যের বিক্রির ওপর কমিশন দেয় যেটা সাধারণত ৪% থেকে ৮০% পর্যন্ত হয়ে থেকে।আর তা-ই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

এখন জেনে নিন একজন সফল নারী অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে যে ৩ টি বিষয় মনে রাখেবন

সবার আগে একটি ভালো পণ্য নির্বাচন করুন

প্রায় সবাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ যে ভুলটি করে থাকে সেটি হলো একসাথে অনেকগুলো প্রোডাক্ট প্রোমোশন করে থাকেন। যার ফলে কোনটারই ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই সবার আগে দরকার যেকোন একটি ভালো কিন্তু  অপেক্ষাকৃত কম প্রতিযোগিতার পণ্য নির্বাচন করা। যাতে করে খুব সহজেই আপনার টার্গেট কাস্টমারের কাছে পৌছাতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট হিসেবে যোগদান করার মার্কেটপ্লেস নির্বাচন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কোন মার্কেটপ্লেসে জয়েন করবেন এটা হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কারণ একেক ধরণের পণ্য বা সেবার জন্য একেকটি মার্কেটপ্লেস সেরা। বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসগুলো হচ্ছেঃ

তাই আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক কাজ হবে এখান থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী মার্কেটপ্লেস নেওয়া।

পণ্য প্রোমোশনের সঠিক উপায় নির্বাচন করুন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনি চাইলে বেশকিছু মাধ্যমে আপনার পণ্যর প্রোমোশন করতে পারেন। সেটা হতে পারে ব্লগিং, আর্টিকেল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং ইমেইল মার্কেটিং। কোন মাধ্যমটি আপনার পণ্যর জন্য ভালো হবে সেটা নির্ভর করবে আপনার পণ্যটির ধরণের উপর। আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই প্রতিযোগিতা মূলক মার্কেটিং এবং প্রতিযোগিরা এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল নিয়ে হাজির হয়। তাই আপনাকে সবসময় নিত্য নতুন প্রোডাক্ট প্রোমোশনের উপর জ্ঞান রাখতে হবে। আর এই বিষয়ে জ্ঞান রাখতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কিত বিভিন্ন ফোরাম, ব্লগ, গ্রুপে নিজেকে সংযুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কিত বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারেন। বাংলাদেশের অ্যাডভান্স অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ট্রেনিং প্রদানকারী একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে qiqz.com

সবশেষে একটা কথা বলতেই হয় যেটা হচ্ছে যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ নিজের পাকাপোক্ত একটি অবস্থান তৈরি করতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। তাই সামান্যতে হতাশ হয়ে পড়বেন না। মনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ধরে রেখে আপনার কাজ চালিয়ে যান সফল হবেনই।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।